ভারতীয় আর্যভাষার স্তর তিনটি।
"ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া" বলতে কালের প্রবাহে ভাষার পরিবর্তনশীলতাকে বোঝানো হয়েছে।
ভাষা নদীর স্রোতের মতো গতিশীল। ভাষা সব সময়ই বদলাতে থাকে। ভাষা কখনই স্থির হয়ে থাকে না। হাজার বছরের ব্যবধানে ভাষার অবস্থা একই রকম থাকে না। কারণ ভাষার ধর্মই হলো বদলে যাওয়া।
বাংলা ভাষার উৎপত্তির অতীত ইতিহাসের সঙ্গে 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
ভাষা মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আজকে আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি এক হাজার বছর আগে এ ভাষা ঠিক এমন ছিল না। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে বাংলা ভাষা।
উদ্দীপকে বাংলা ভাষা উৎপত্তির অতীত ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে। বাংলা ভাষার উৎপত্তির ইতিহাসে এসেছে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতামত। তিনি মনে করেন ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোনো সময়ে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে জন্মে নিয়েছিল আধুনিক প্রাকৃত বাংলা ভাষা। 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধেও বাংলা ভাষা উৎপত্তির অতীত ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে। উঠে এসেছে বাংলা ভাষার উৎপত্তি বিষয়ে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতামত। তাঁর মতে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গৌড়ী প্রাকৃতের পরিবর্তিত রূপ গৌড়ী অপভ্রংশ থেকেই জন্ম নিয়েছে বাংলা ভাষা। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
আমি মনে করি উদ্দীপকটি 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না।
ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই এটির প্রধানতম বৈশিষ্ট্যই হলো বদলে যাওয়া। মানুষের মুখে মুখে ভাষা চলতে চলতে এটির ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে। এতে কয়েকশ বছর পর পূর্ববর্তী ভাষা থেকে ভিন্ন একটি ভাষার জন্ম হয়।
উদ্দীপকে বাংলা ভাষার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মতামতের প্রাধান্য প্রকাশ পেয়েছে। তার মতে, ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোনো সময়ে অর্থাৎ সপ্তম শতকে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে আধুনিক প্রাকৃত বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছিল। 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধেও নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে বাংলা ভাষার জন্মলাভের কথা বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বিষয়টিই 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের একমাত্র বিষয় নয়।
'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে লেখক বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য দেশ ও জাতির ভাষার মূল 'ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের' কথা বর্ণনা করেছেন। লেখক প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা, সংস্কৃত, প্রাকৃত, অপভ্রংশ এবং আধুনিক ভারতীয় ভাষা সম্পর্কে দুই মহান ভাষাপণ্ডিতের মতামতও আলোচনা করেছেন, যা প্রদত্ত উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এসব কারণেই আমি মনে করি, উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না।
Related Question
View All'সংস্কৃত' শব্দের আভিধানিক অর্থ মার্জিত, সংশোধিত বা পরিমার্জিত করা হয়েছে এমন।
সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে, এ কারণেই একদল লোক বাংলাকে সংস্কৃতের মেয়ে মনে করত।
একদল লোক মনে করত বাংলা সংস্কৃতের দুষ্টু মেয়ে। সংস্কৃত শব্দ থেকেই জন্ম নেয় বাংলা শব্দ। তবে দুষ্টু মেয়ে মায়ের কথামতো চলেনি। ফলে পরিবর্তন হতে হতে অন্য রকম হয়ে গেছে। তবে বাংলা ভাষার বিবর্তনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভাষাবিদ এ মত স্বীকার করেননি।
অনুচ্ছেদের ১ নং বৈশিষ্ট্যটির মধ্য দিয়ে 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের ভাষার পরিবর্তনশীলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ভাষা নিয়ত পরিবর্তনশীল। সৃষ্টির শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভাষা সর্বদা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণেই পূর্বে ভাষা যেমন ছিল বর্তমানে ঠিক তেমন নেই। ভাষার অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, 'ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া।' বর্তমানে আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি, পূর্বে তা এমন ছিল না, ভবিষ্যতেও আজকের মতো এমন থাকবে না। দিনের পর দিন মানুষের মুখে মুখে ভাষা ব্যবহৃত হতে হতে তার রূপ, অর্থ বা ধ্বনি বদলে যায়। আলোচ্য উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, ভাষা যত কঠিনই হোক, ক্রমান্বয়ে ব্যবহারের ফলে তা সহজ ও সরল হয়ে ওঠে অর্থাৎ ভাষার শব্দগুলোর ধ্বনি বা রূপ পরিবর্তন হয়। যেমন- চক্র > চক্ক> চাকা। তাই বলা যায় যে, অনুচ্ছেদের ১ নং বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে আলোচ্য প্রবন্ধের ভাষার পরিবর্তনশীলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ইফতি পিয়ার পঠিত ২ নং বৈশিষ্ট্যটি 'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
ভাষা গতিশীল। মানুষের মুখে মুখে বদলাতে থাকে ভাষা। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষার বর্তমান রূপ সেই ভাষার পূর্ব রূপের পরিবর্তিত ফল।
'বাংলা ভাষার জন্মকথা' প্রবন্ধটিতে লেখক বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখক বলেছেন, মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি, রূপ বা অর্থ। বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে ভাষার রূপ পরিবর্তন হয়, পরিবর্তন ঘটে স্থান ও কালের জন্য। এই বিষয়টি উদ্দীপকের ইফতি পিয়ার পঠিত ২. নং বৈশিষ্ট্যেও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ইফতি পিয়া জেনেছে কালের পরিক্রমায় একটি ভাষার স্থানিক ও কালিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে বহুরূপী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের ২ নং বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ পেয়েছে ভাষার স্থানিক ও কালিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে বহুরূপী হয়ে ওঠার কথা। এছাড়াও বলা হয়েছে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের কথা। আলোচ্য প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশকিছু ভাষার ধ্বনিতে শব্দে মিল রয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, এ ভাষাবংশটির নাম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ। যে ভাষাবংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার ভাষা। অর্থাৎ স্থান ও কালের বৈশিষ্ট্যে ভাষার পার্থক্য সৃষ্টি হলেও একই ভাষাবংশের হওয়ায় এগুলোর মধ্যে গভীর মিলও পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, ইফতি পিয়ার পঠিত ২ নং বৈশিষ্ট্যটি আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
'অলৌকিক ইস্টিমার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হুমায়ুন আজাদ।
ভাষার বদলে যাওয়া ধর্মের কারণে এক হাজার বছর পর বাংলা ভাষা বর্তমানে রূপে আছে ঠিক এমন থাকবে না।
ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া। বাংলা ভাষার জন্ম কোনো গাছ বা মানুষের মতো হয়নি বা কোনো কল্পিত স্বর্গ থেকেও আসেনি। ভাষার বদলের মধ্য দিয়েই জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার। মানুষের মুখে মুখে ব্যবহারের ফলে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি। এখন আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি তা এক হাজার বছর আগে এমন ছিল না। আর এ কারণেই এক হাজার বছর পরও বাংলা ভাষা ঠিক এমন থাকবে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!