UNICEF এর পূর্ণরূপ হলে United Nations Children Emergency Fund |
আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে একাধিক জাতির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে বোঝায়, যা একাধিক দেশে তার কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে
আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য সংখ্যা কত হবে তা সুনির্দিষ্ট নয়।
একেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সদস্য সংখ্যা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিকে থেকে স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য সংগঠন থেকে আলাদা। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, মানবকল্যাণমূলক প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে। এ সকল সংস্থা স্ব স্ব নীতিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিকে বোঝানো হয়েছে।
১৮৫৯ সালে ইতালির সলফেরিনো গ্রামে ফ্রান্স এবং অস্ট্রিয়ার মধ্যে সংঘটিত ভয়াবহ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। এ যুদ্ধে উভয় পক্ষের বহু সৈন্য নিহত এবং আহত হয়। সে সময় সুইজারল্যান্ডের অধিবাসী স্যার জ্যা হ্যানরি ডুনান্ট যুদ্ধাহত সৈন্যদের সেবায় একটি সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান। এরই ধারাবাহিকতায় এবং তার সদিচ্ছা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ১৮৬৩ সালের অক্টোবর মাসে জন্মলাভ করে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। বর্তমানে সংস্থাটি বাংলাদেশের ত্রাণ ও পুনর্বাসন দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে ডা. সামিন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি করেন। ১৮৬৩ সালে দুটি দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে একজন যুবক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ত্রাণ ও পুনর্বাসনদুর্যোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে বোঝা যায় উদ্দীপকের এ সংস্থাটির উপরে বর্ণিত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে নির্দেশ করছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আর্তমানবতার সেবায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগময় মুহূর্তে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কতগুলো নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য নানা ধরনের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে। আবার, স্বাস্থ্যের মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। জরুরি সম্পূরক খাদ্য সংস্থান নামে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের খাদ্য কর্মসূচি পরিচালনা করে। উদ্বাস্তু, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া যুবক ও কিশোরদের মধ্যে মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য এবং তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমে যোগদানের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশে এ কার্যক্রম চলে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় একটি এতিমখানা পরিচালনা করছে। এখানে ১০০ এতিমের রক্ষণাবেক্ষণ, লালন-পালন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় রেডক্রিসেন্ট সমিতির ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার গৃহীত বিভিন্ন ত্রাণ ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমে সহায়ক ও পরিপূরক ভূমিকা পালন করছে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।
Related Question
View All১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মানবহিতৈষী ব্যক্তি হেনরি ডুনান্ট (Henri Dunant) এর উদ্যোগে Red Cross Society প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৪ জুন, ১৮৫৯ সালে ইতালির সলফ্যারিনো গ্রামে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে হেনরি ডুনান্ট A Memory of Solferino' নামক বইতে বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে যুদ্ধাহতদের সেবার জন্য একটি বিশ্ব সংস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ১৮৬৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হেনরি ডুনান্ট অপর ৪ জন জেনেভাবাসীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। ১৮৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর তারিখে এ কমিটি ১৬টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেনেভায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান জানায়। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক রেডক্রস প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
সুরমার উপসর্গগুলো এইডস রোগকে নির্দেশ করে।
এইডস একটি প্রাণঘাতী রোগ। এইডস রোগের ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে।
এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের ওজন দ্রুত কমতে থাকে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ততা, বিরতিহীন ডায়রিয়া, খাবারে অরুচি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ফুলে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
উদ্দীপকের সুরমার ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলোই দেখা দিয়েছে।
উদ্দীপকের সুরমার সন্তান জন্মের পর দ্রুত ওজন কমতে থাকে। প্রায় সপ্তাহখানেক জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ আরওউপসর্গ নিয়ে সুরমা ডাক্তারের কাছে যায়। তখন রক্ত পরীক্ষায় জানা যায় সে একটি প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। সুরমার প্রাণঘাতী রোগটির উপসর্গগুলো ওপরে বর্ণিত এইডস রোগের লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, সুরমার উপসর্গগুলো এইডস রোগকে নির্দেশ করে।
সুরমার সন্তানের সহযোগিতায় সেভ দ্যা চিলড্রেন ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।
এইডস এর বিস্তৃতি বন্ধে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সেভদ্যা চিলড্রেন বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশুর এইডস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি তাদের জন্য সংস্থাটি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সংস্থাটি যেসব কাজ করে তা হলো সমষ্টিকেন্দ্রিক সাহায্য প্রদান, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সমর্থন, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ ইত্যাদি। অসহায়, এতিম এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ওপর গুরুত্বারোপ করে এইডস বিষয়ে সেভদ্যা চিলড্রেন ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে। ২০১৪ সালে সংস্থাটি HIV/AIDS কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী ১১.৮ মিলিয়ন শিশুকে সহযোগিতা প্রদান করেছে। সুরমার সন্তানের ক্ষেত্রে সংস্থাটি সহযোগিতা করতে পারে।
উদ্দীপকের সুরমা এইডসে আক্রান্ত হওয়ায় তার সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর যেসব শিশু এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাদের সুরক্ষায় সেভদ্যা চিলড্রেন নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। যেহেতু সুরমার সন্তান এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে সেহেতু সংস্থাটি সুরমার সন্তানকে সহযোগিতা করতে পারে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুরমার সন্তানের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্যা চিলড্রেন ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্থায়ী কার্যালয় অবস্থিত নেত্রকোণার বিরিশিরিতে।
ইউএনডিপির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো সংকট প্রতিরোধ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
UNDP বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান সশস্ত্র সংঘাত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে কাজ করে। পাশাপাশি সংঘাত ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমেও সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়া UNDP ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারকে ঝুঁকি হ্রাস বিষয়সমূহ নির্ধারণ, ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচির মান নির্ধারণে সহযোগিতা করে থাকে। UNDP নিরস্ত্রীকরণ, সেনা অপসারণ, মাইন অপসারণ, বাস্তুহারা লোকদের পুনর্বাসন এবং নির্যাতন রোধে কর্মসূচি পরিচালনা ইত্যাদি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!