ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে ঝর্ণার ব্যবহৃত পদ্ধতিটি ছিল দেশীয় বা প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং টেলিভিশনে দেখানো পদ্ধতিটি ছিল আধুনিক কৃত্রিম পদ্ধতি।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকে প্রকৃতিক পদ্ধতিতেই ডিম ফোটানো হচ্ছে। অপরদিকে বর্তমানে কৃত্রিম পদ্ধতিতে বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে ডিম ফোটানোর নানা উপায় আবিষ্কার করা হয়েছে। এই দুই পদ্ধতির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিম্নরূপ-
i . প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে একবারে ১০-১৫টি করে ডিম ফুটানো যায়। তবে কৃত্রিম পদ্ধতিতে একসাথে আরও বেশি সংখ্যক ডিম ফুটানো সম্ভব।
ii. প্রাকৃতিক উপায়ে ডিম ফুটাতে কুঁচে মুরগির দরকার হয়। আর কৃত্রিম পদ্ধতিতে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, যেমন-ইনকিউবেটর।
iii. প্রাকৃতিক পদ্ধতির একটি সীমাবদ্ধতা হলো ডিম যেকোনো সময়ে ফুটানো যায় না, যা কৃত্রিম পদ্ধতিতে করা যায়।
iv. প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ডিম ফুটাতে কোনো কারিগরি জ্ঞানের দরকার হয় না। কৃত্রিম পদ্ধতিতে যন্ত্র চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন।
V. প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সব ডিম নাও ফুটতে পারে অর্থাৎ ডিম নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। এই সমস্যা কৃত্রিম পদ্ধতিতে হয় না।
vi. প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফুটানো ডিমের বাচ্চা শক্তিশালী ও নিরোগ হয়। কিন্তু কৃত্রিম পদ্ধতিতে বাচ্চা দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হতে পারে।
vii. প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ডিম ফুটানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে মুরগি ডিম ভেঙে ফেলতে ও বাচ্চা মেরে ফেলতে পারে। কৃত্রিম পদ্ধতিতে এ ধরনের দুর্ঘটনার সুযোগ নেই।
viii. প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা প্রভৃতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও কৃত্রিম পদ্ধতিতে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
উপরিউক্ত দুটো পদ্ধতিই মুরগির ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত। তবে পদ্ধতিগতভাবে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা।
Related Question
View Allপুলেট হলো প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন ২০/২২ সপ্তাহ বয়সের মুরগি যাকে এখনো মোরগের সংস্পর্শে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশে হাঁস পালন লাভজনক কারণ হাঁস পালনের জন্য জায়গা কম লাগে। হাঁস বছরে প্রায় ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। মুরগির তুলনায় হাঁস ৪০-৪৫টি ডিম বেশি পাড়ে। অধিকাংশ হাঁস নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করে খেতে পারে বিধায় হাঁস পালনে যত্ন, পরিচর্যা ও খরচ কম লাগে। দ্রুত চলাফেরা করতে পারে। এসব কারণে বাংলাদেশে হাঁস পালন লাভজনক।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত। এটি হাঁসের ডাকপ্লেগ ভাইরাস দ্বরা সংক্রমিত মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। হাঁসের এই রোগ ডাক হারপেস ভাইরাস-১ (DHV-1) এর সংক্রমণে হয়ে থাকে।
এ রোগে হাঁস আলো দেখলে ভয় পায়। সাঁতার কাটতে চায় না। পানি পিপাসা বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখায়। নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হয়। সবুজ ও হলুদ রঙের পাতলা মলত্যাগ করে। পালক এলোমেলো হয়ে ঝুলে পড়ে। মাথা, ঘাড় ও শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয়। পা এবং পাখা অবশ হয়ে যায়। চোখ হতে অনবরত পানি ঝরে এবং চোখের ভিতরে সাদা রঙের আবরণ পড়ে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। এ রোগে হাঁস খুঁড়িয়ে হাঁটে, ডিম পাড়া হাঁস ডিম পাড়া কমিয়ে দেয় এবং হঠাৎ মারা যায়।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলোতে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়। অর্থাৎ সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকের প্রাণী চিকিৎসক সাবিনাকে তার খামারে ডাক প্লেগ রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য করণীয় সম্পর্কে জানান।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাক প্লেগ নামক ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উক্ত রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় বিশ্লেষণ করা হলো-
i. খামারের জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ii. আক্রান্ত হাঁস অন্যত্র সরিয়ে ফেলা।
iii. মৃত হাঁস মাটিতে পুঁতে ফেলা।
iv. খামারে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা।
V. বাসস্থান নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা।
vi. পরিষ্কার পানি সরবরাহ করা।
vii. হাঁসের ঘর ফিউমিগেশন করা।
viii. বাসস্থানে ঢোকার মুখে ফুটবাথের ব্যবস্থা করা।
ix. প্রতিষেধক হিসেবে খামারে নিয়মিত ডাক প্লেগ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। হাঁসের বাচ্চাকে জন্মের ১৫-২০ দিন পর ১ম মাত্রা, ১ম মাত্রার ২৫ দিন পর বুস্টার বা ২য় মাত্রা এবং ২য় মাত্রার পর প্রতি ৫-৬ মাস অন্তর অন্তর এ টিকা দিতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ডাক প্লেগ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব।
যে সকল ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নেয় না সেগুলোই অনুর্বর ডিম।
কবুতর খুব অল্প জায়গায়, কম খরচে, উঁচুতে দেয়ালের পাশে বা ছাদের উপর বাসা তৈরি করে পালন করা যায়।
কবুতরের রোগবালাই কম হয় এবং খাদ্য খরচও কম লাগে। ৪ সপ্তাহের মধ্যেই কবুতরের বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। এরা ৫-৬ মাস বয়সে ডিম দেয় এবং মাত্র ১৮ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। কাজের অবসরে পালন করা যায় বলে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। সময়, শ্রম ও অর্থ কম লাগে বলেই কবুতর পালন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!