গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা।
সুশাসন সাধারণত মানুষের যেসব অধিকার রক্ষা করে সেগুলো হলো-
প্রধানত সুশাসনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন সাধন করা। জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব, বাসস্থান, নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার ইত্যাদি সমস্যাগুলো একমাত্র সুশাসনের মাধ্যমে করা সম্ভব সর্বোপরি আইনের শাসন রক্ষা পেলে সুশাসনের অধিকারও রক্ষা পাবে।
ড. আতাহার আলীর দেওয়া তথ্যে সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
তার কারণ ক্ষুদ্র নৃতান্ত্রিক, দরিদ্র ও অতি দরিদ্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে সুশাসনই একমাত্র অবলম্বন, সুশাসন ছাড়া এ শ্রেণির মানুষ অধিকার বঞ্চিত।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সমাজের অপেক্ষাকৃত বঞ্চিত, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। সমাজের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা ও সম্পদের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করে তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ করার মাধ্যমে সুশাসন সামাজিক ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠা করে। সামাজিক সমতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক অধিকার রক্ষা সুশাসন কাজ করে থাকে। অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসহ অনেক দেশ সুশাসন অর্থে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করাকে বোঝায়। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (IMF) এর মতে- "দেশের উন্নয়নের প্রতিটি স্তরের জন্য সুশাসন আবশ্যক।" এ থেকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব কিছু হলেও আঁচ করা যায়।
'হ্যাঁ' আমি মনে করি সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলোও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালনে সক্ষম। তার কারণ সরকার একার পক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অনেক দূরুহ ব্যাপার। নিচে উত্তরের যথার্থতা নির্ণয় করা হলো-
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়াও বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি পর্যায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহকে যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব, বাসস্থান ও পরিবেশগত সকল সমস্যার সমাধান এখন রাষ্ট্রের একার পক্ষে করা সম্ভব নয় বিধায় কিছু কিছু সমস্যা সামাজিক একতা দ্বারা সমাধান করা সম্ভব। যেমন- আত্মকর্মসংস্থান করা এখনকার সময়ে খুব একটা কঠিন কাজ নয়। অনেক ব্যাংকও এক্ষেত্রে ঋণ দিয়ে থাকে। আবার অনেক এজিও এখন ঋণ, শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও সেবাও দিচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের অপেক্ষাকৃত বঞ্চিত, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
Related Question
View AllকUNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development
Programme |
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।
ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।
সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর।
কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন
নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!