বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম ইসলামি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলামিক বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালিত ব্যাংকই ইসলামি ব্যাংক। যে ব্যাংকের যাবতীয় কর্মকাণ্ড তথা উদ্দেশ্য, পুঁজি সংগ্রহ, অর্থ বিনিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়, জমা, গ্রহণ, প্রদান, মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক, শ্রমিকের অধিকার, ব্যাংক ও উদ্যোক্তার মধ্যে সম্পর্ক এসব কিছু ইসলামি শরিয়তের আলোকে পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি ব্যাংক বলা হয়।
উদ্দীপকে ড. সিদ্দিকুর রহমানের তিলাওয়াতকৃত কুরআনের বাণী।
أَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبوا
অর্থ: 'আল্লাহ তায়ালা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। আয়াতটি সুরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি সর্বজনীন ও কল্যাণকর অর্থব্যবস্থা। এর যাবতীয় কার্যক্রম হবে সুদমুক্ত। জনাব ড. সিদ্দিকুর রহমান আয়াতটি উদ্ধৃতি দিয়ে ইসলামি ব্যাংকের গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। ইসলামি ব্যাংক মূলত ব্যবসায়ী নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর যাবতীয় কার্যক্রম সুদমুক্ত এবং ব্যবসার দ্বারা পরিচালিত। কেননা মানবজীবনের প্রায় ৮০% রিজিক আল্লাহ তায়ালা ব্যবসার মধ্যে রেখেছেন। আমরা চিন্তা করলে দেখতে পাই আমাদের প্রায় অধিকাংশ অর্থনৈতিক কারবার ব্যবসার সাথে জড়িত। আর ব্যবসার মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে বেশি মুনাফা। ব্যবসার মাধ্যমেই উৎপাদন যেমন বাড়ে, তেমনি অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধিও আসে।
উল্লিখিত কারণ ছাড়াও অন্যান্য কল্যাণমূলক কারণে আল্লাহ তায়ালা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং ব্যবসার প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করেছেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ব্যবসায় হচ্ছে কল্যাণ আর সুদ হচ্ছে অকল্যাণ।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামি অর্থনীতি সেই জীবন দর্শনের একটি অপরিহার্য অংশ। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি মানব কল্যাণময়, বৈজ্ঞানিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ অর্থব্যবস্থা। আর এই অর্থব্যবস্থায় সুদ হচ্ছে শোষণের মারাত্মক হাতিয়ার। সুদ দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করে। এর মাধ্যমে সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। আর এ শোষণ ও বঞ্চনার হাত হতে মুক্ত থাকার জন্য ইসলামি ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় লেনদেন পরিচালিত হয় সুদমুক্তভাবে। স্বপ্নবিত্তের লোকদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করে এবং চুক্তির ভিত্তিতে লভ্যাংশ উভয়পক্ষই ভাগ করে নেয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান উন্নয়ন প্রসূত হয়। মানবসমাজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উৎপাদন নিশ্চিত করে। উৎপাদন পরিচালনায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করে। দেউলিয়াত্বের হাত হতে ব্যাংকিং সেক্টরকে রক্ষা করে। কেননা লাভ-ক্ষতি উভয় অংশই ব্যাংক ও গ্রাহক সমানভাবে বহন করে।
এ ব্যাংকিং ব্যবস্থা মুদ্রার মান সংরক্ষণে মুদ্রাস্ফীতি দূর করে। সৌহার্দ্যমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে আয় নিশ্চিত করে। জাতীয়ভাবে সঞ্চয় বৃদ্ধি করে তা বিনিয়োগ কাজে প্রয়োগ করে। বিনিয়োগ কাজে প্রয়োগ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। সর্বোপরি আয় বৈষম্য হ্রাস করে আমনতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে। মুসলিম ও অমুসলিম সকলের জন্য কল্যাণমূলক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!