BPSC-এর পূর্ণরূপ হলো- Bangladesh Public Service Commission I
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস সূর্যের তাপ আটকে রেখে পৃথিবীকে উষ্ণ করে তোলে। এসব গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাবকে গ্রিন হাউজ এফেক্ট বলে। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় বিকীর্ণ তাপ ভূ-পৃষ্ঠে উপস্থিত বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ফিরে এসে ভূ-পৃষ্ঠের তথা বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। প্রাকৃতিক গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া পৃথিবীতে প্রাণীজগতের বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কিন্তু মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত দহন এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে, যার নেতিবাচক প্রভাব ব্যাপক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা বাছাই করা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন প্রজাতন্ত্রের কাজে দক্ষ ও উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনা করে। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইলে বা কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে কোনো বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হলে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশ প্রদান করে। কর্মকমিশন প্রতিবছর মার্চ মাসের প্রথম দিবসে বা তার পূর্বে পূর্ববর্তী ৩১ ডিসেম্বর সমস্ত এক বছরের স্বীয় কার্যাবলি সম্পর্কে রিপোর্ট প্রস্তুত করবে এবং তা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করবে।
কর্মকমিশন আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কমিশনের সাথে পরামর্শ করবেন। সরকারি কর্মকমিশন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের বাছাই, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদির দায়িত্ব পালন ও এসব বিষয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। আর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন উপরোল্লিখিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করে। যা উদ্দীপকে উল্লিখিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করে বলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থাৎ সরকারি কর্মকমিশনের গোপনীয়তা এবং নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।
কর্মকমিশনকে যোগ্য ও মেধাবীদেরকে কর্মকর্তা হিসেবে বাছাই ও নিয়োগ দেওয়ার জন্যই তাদের কাজ কর্মে গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য লোক বাছাইয়ের জন্য কর্মকমিশনের এ গোপনীয়তা অপরিহার্য। রাষ্ট্রে সাফল্য নির্ভর করে একটি দক্ষ ও সৎ প্রশাসনের ওপর। তাই কর্মকমিশনকে দক্ষ ও সৎ লোক বাছাই ও নিয়োগ দানে সচেষ্ট থাকা উচিত। এক্ষেত্রে কর্মকমিশন রাজনৈতিক চাপ, তদবির, হুমকি, প্রলোভন ইত্যাদিকে এড়াতে পারলেই একটি ভালো প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব। শুধু সততা নয়, দক্ষতাও এক্ষেত্রে কর্মকমিশনের আবশ্যকীয় গুণ হিসেবে বিবেচ্য হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ কর্মকমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। তারা নিরপেক্ষতার সাথে প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাছাই ও নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, নারী-পুরষ কোনো ভেদাভেদ না করে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী বাছাই করে। একটি দেশের শাসন ব্যবস্থা সে দেশের প্রশাসনের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা ভালো হলে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আইনের শাসন কার্যকর হয়। এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আর দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে কর্মকমিশনের গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা প্রয়োজন।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কর্মকমিশনের গোপনীয়তা এবং নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।
Related Question
View Allনির্বাচন হলো ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।
সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিকের ভোটদানের অধিকারকে বোঝায়।
ভোটদানের অধিকার নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার। রাষ্ট্রের সংবিধান এবং সরকারি বিধিবিধানের মাধ্যমে স্বীকৃত পন্থায় নাগরিকদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতাকে ভোটাধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটদানের অধিকার সর্বত্র স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত।
উদ্দীপকের উল্লিখিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাদৃশ্য আছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কাজের জন্য মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের বাছাইয়ের কাজ করে। এজন্য সংস্থাটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগকৃতদের পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিধান সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত আছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন, মেধাবী ও দক্ষ লোক বাছাইয়ের কাজ করে। বাংলাদেশে এরূপ কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকার উপর রাষ্ট্রের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল।
আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার কাঠামোয় মেধাবী ও দক্ষ কর্মকতা-কর্মচারীর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রে মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায়। মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বাছাইয়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মকমশিন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংবিধানে কর্মকমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে বিধানাবলি সন্নিবেশিত আছে। এ বিধানাবলি অনুসারে কমিশন প্রজাতন্ত্রের কাজে দক্ষ ও উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষা, পুলিশি তদন্ত প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে তারা প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাছাই করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। কর্মকমিশন যেহেতু নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়, তাই প্রকৃত মেধাবীরাই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রশাসন সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুষ্ঠুভাবে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং এর সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে বর্ণিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকা অনেক।
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক হলো- জাতীয় সংসদ।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার কাজের গতিশীলতার জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। যার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত। এগুলোই হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!