সম্রাট আকবর ১৫৭৬ সনে বাংলা জয় করলেও বারো ভূঁইয়াদের কারনে মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। পরে, সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল হতে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ তুজুক-ই জাহাঙ্গীর। তিনি এদেশের সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নুরজাহানের বিবাহ মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সম্রাট জাহাঙ্গীর (১৬০৫–১৬২৭ খ্রিস্টাব্দ)
জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট। তিনি তাঁর ন্যায়বিচার এবং শিল্পের প্রতি অনুরাগের জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল এবং শিল্পকলা, বিশেষ করে চিত্রশিল্প অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল তাঁর বিদুষী পত্নী নূরজাহানের প্রভাব, যিনি পর্দার আড়াল থেকে সাম্রাজ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।
১. বাংলার ইতিহাস ও ঢাকা (বিসিএস-এর জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ)
বারো ভূঁইয়া দমন: জাহাঙ্গীরের আমলেই বাংলার প্রতাপশালী জমিদার বা বারো ভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করা হয়।
ঢাকার রাজধানী স্থাপন (১৬১০): ১৬১০ সালে জাহাঙ্গীরের সুবাদার ইসলাম খাঁ বারো ভূঁইয়াদের নেতা মুসা খাঁকে পরাজিত করে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন।
জাহাঙ্গীরনগর: সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ইসলাম খাঁ ঢাকার নামকরণ করেন 'জাহাঙ্গীরনগর'।
২. প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থা
ন্যায়বিচারের শিকল (Chain of Justice): আগ্রা দুর্গের শাহবুরুজ থেকে যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত তিনি একটি সোনার শিকল ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। কোনো বিচারপ্রার্থী সেই শিকল ধরে টান দিলে সম্রাট নিজেই তাঁর অভিযোগ শুনতেন।
বারো নির্দেশ (Dastur-ul-Amal): সিংহাসনে বসার পর তিনি জনকল্যাণে ১২টি ফরমান বা নির্দেশ জারি করেন।
তামাক নিষিদ্ধকরণ: তিনি ভারতে তামাকের চাষ ও সেবন নিষিদ্ধ করেছিলেন (যদিও পর্তুগিজরা তাঁর আমলেই তামাক নিয়ে এসেছিল)।
৩. শিল্প ও ইউরোপীয় আগমন
চিত্রশিল্পের স্বর্ণযুগ: জাহাঙ্গীরের আমলকে মুঘল চিত্রশিল্পের স্বর্ণযুগ বলা হয়। তিনি নিজেই একজন বড় মাপের চিত্রসমালোচক ছিলেন।
ইংরেজদের আগমন: ১৬০৮ সালে ব্রিটিশ রাজা প্রথম জেমসের দূত হিসেবে ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স এবং পরবর্তীতে ১৬১৫ সালে স্যার টমাস রো জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন এবং সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি লাভ করেন।
Quick Notes:
নূরজাহান: তাঁর প্রকৃত নাম ছিল মেহেরুন্নেসা। তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরের ২০তম পত্নী এবং অত্যন্ত ক্ষমতাধর নারী।
আত্মজীবনী: তিনি তুর্কি ভাষায় তাঁর আত্মজীবনী 'তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী' রচনা করেন।