প্রতিষ্ঠানের সমপর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগ বা কর্মীদের কার্যাবলির মধ্যে যে সমন্বয়সাধন করা হয় তাকে সমান্তরাল সমন্বয়সাধন বলে
বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানের অনেক বিভাগ, উপ-বিভাগ এবং বহুসংখ্যক কর্মী থাকে, তাই পৃথক সমন্বয়কারীর প্রয়োজন। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে এক সাথে উক্ত বিষয়সমূহ সমন্বয় করা সম্ভব নয়। কারণ এতে সুষ্ঠু সমন্বয়ের যেমন ব্যাঘাত ঘটবে তেমনি কাজেও ধীরগতি আসবে। এক্ষেত্রে পৃথক সমন্বয়কারী থাকলে কাজে গতি আসবে এবং দ্রুত লক্ষ্যার্জন সম্ভব হবে। তাই বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে পৃথক সমন্বয়কারী প্রয়োজন।
উদ্দীপকে চাঁদমুনির সমন্বয় ব্যবস্থাটি স্তর বিবেচনায় বাহ্যিক সমন্বয়। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরের বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কর্মীদের কাজের সাথে বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাজের সমন্বয়কে বাহ্যিক সমন্বয় বলে।
উদ্দীপকে চাঁদমুনির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার মিষ্টির জগতে এক অনন্য নাম। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি দুধ ও চিনি সরবরাহকারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে। এতে করে বিভিন্ন বিরূপ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্যান্য মিষ্টি বিক্রেতারা দুধ ও চিনি না পেলেও উক্ত প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো কাঁচামাল পেয়ে থাকে। অর্থাৎ চাঁদমুনির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার প্রতিষ্ঠানটি বাইরের পক্ষ থেকে দুধ ও চিনি সরবরাহ করে থাকে যা বাহ্যিক সমন্বয়ের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান বাইরের ব্যক্তিদের সাথে কাজের সমন্বয় করে থাকে। এরূপ সমন্বয়ের দ্বারা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথে কাজের সমন্বয় করা হয়। তাই বলা যায়, চাঁদমুনির সমন্বয় ব্যবস্থা স্তর বিবেচনায় বাহ্যিক সমন্বয়।
উদ্দীপকে চাঁদমুনির সফলতায় কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়কে সফল হতে সহায়তা করে।
চাঁদমুনির প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতই চিনি ও দুধ সরবরাহকারীদের সাথে যোগাযোগ ও কাজের সমন্বয় করে থাকে। এর ফলে সরবরাহকারীরাও চাঁদমুনির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। হরতাল, অবরোধ থাকলে অন্য মিষ্টি বিক্রেতারা সাধারণত দুধ ও চিনির মতো সহায়ক পণ্যের সরবরাহ নিয়মিত পায় না। কিন্তু সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থায় চাঁদমুনির প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো কাঁচামাল পেয়ে থাকে।
নিয়মিত দুধ ও চিনির সরবরাহ থাকায় চাঁদমুনির প্রতিষ্ঠানটিতে কাজে মধ্যে ধারাবাহিকতা বিদ্যমান রয়েছে। এতে কর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সুষ্ঠু কার্য পরিবেশও নিশ্চিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে কার্যকর সফলতা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allপূর্বনির্ধারিত ফল লাভের উদ্দেশ্যে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে লক্ষ্য বলে।
উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতি হলো প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের আলোকে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা।
উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতিতে মূল লক্ষ্যের আলোকে উপবিভাগীয় পর্যায়ে উদ্দেশ্য নিরূপিত হয় এবং সেই সাথে সমান্তরাল বিভাগ ও উপরিভাগের উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়। এভাবে বিভাগ এবং সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত প্রয়াস তৈরি হয়। তাই কার্যকর সমন্বয়ে উদ্দেশ্যের ঐক্য স্থাপন জরুরি।
উদ্দীপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফেওলের বিকেন্দ্রীকরণের নীতি অনুসৃত হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিচের পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে তাকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে।
উদ্দীপকের সিলভার এন্টারপ্রাইজের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রয়ে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপকরা নিয়ে থাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করে। সুতরাং উদ্দীপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফেওলের বিকেন্দ্রীকরণের নীতি অনুসৃত হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিতে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
সুষ্ঠু সমন্বয় ছাড়া বর্তমানকালে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভব নয়। কারণ সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কাজের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করে- যার ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মপ্রয়াস স্বাচ্ছন্দ্যে একক লক্ষ্যপানে ধাবিত হয় এবং লক্ষ্যার্জন নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের সিলভার এন্টারপ্রাইজের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করেন। আবার প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মীর কার্যসম্পাদনে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য তিনি একে অন্যের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে সহায়তা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হয়। মূলত প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থার ফলে সকল স্তরের কর্মীর মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ সহজ করেছে। তাই বলা যায়, সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিকে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
চিন্তা, কাজ ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনে পরিবর্তন এনে প্রচেষ্টাকে চিন্তা, লক্ষ্যাভিমুখী করার নীতিকেই নমনীয়তার নীতি বলে।
সমন্বয় কার্যকে ফলদায়ক করার জন্য এ কাজে প্রয়োজনীয় নমনীয়তার সুযোগ থাকা উচিত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমন্বয় কৌশল পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই প্রয়োজনে যাতে সমন্বয়ের পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক নিয়মনীতিকে এড়িয়ে যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের সাথে দ্রুত সমন্বয়সাধন করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!