বিভিন্ন উৎস হতে সংগৃহীত তহবিলের ব্যয়কে মূলধন ব্যয় বলে ।
"ইক্যুইটি মূলধন ব্যয়মুক্ত নয়”- উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।
ব্যবসায়ে ব্যবহৃত যেকোনো মূলধনই ব্যয় সাপেক্ষ। মালিক ব্যবসায়ে যে পরিমাণ মূলধন সরবরাহ করে, তার বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যয় না থাকলেও উহার একটি সুযোগ ব্যয় আছে। অর্থাৎ মালিক নিজের ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ না করে অন্যত্র বিনিয়োগ করলে অবশ্যই কোনো না কোনো পরিমাণে আয় পেতেন। তাই ব্যবসায়ের পক্ষ থেকে মালিক কর্তৃক সরবরাহকৃত মূলধন অর্থাৎ ইক্যুইটি মূলধন অবশ্যই ব্যয়যুক্ত।
উদ্দীপকের ঢাকা টি লি.-এর সাধারণ শেয়ারের ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিক্রয়মূল্য (Po) = ৬০ টাকা
আগামী বছরের লভ্যাংশ (D1) = ৫ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ৩% বা ০.০৩
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয়,
=
= ১১.৩৩%
সুতরাং উদ্দীপকের ঢাকা টি লি. এর সাধারণ শেয়ারের ব্যয় ১১.৩৩%।
ঢাকা টি লি.-এর গুরুত্ব প্রদত্ত গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় = ১১.৩৩ % ('গ' নং থেকে প্রাপ্ত)
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় = ১২ %
করপরবর্তী ঋণের ব্যয় = করপূর্ব ঋণের ব্যয় (১ – করহার)
= ১৪%(১-.০.৪০)= ৮.৪০ %
আবার,
মোট মূলধনে সাধারণ শেয়ারের ভার
মোট মূলধনে অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার
মোট মূলধনে ঋণ মূলধনের ভার
আমরা জানি,
গুরুত্ব প্রদত্ত গড় মূলধন ব্যয়,
= (০.৪০ ১১.৩৩%) + (০.২৮ ১২%) + (০.৩২ ৮.৪০%)
= ৪.৫৩% + ৩.৩৬% + ২.৬৯%
= ১০.৫৮%
লক্ষণীয় যে, ঢাকা টি লি. এর গুরুত্ব প্রদত্ত গড় মূলধন ব্যয় বা সামগ্রিক মূলধন ব্যয় ১০.৫৮% এবং বিগত বছরের সামগ্রিক মূলধন ব্যয় ১৫%। অর্থাৎ বিগত বছরের মূলধন কাঠামো অপেক্ষা বর্তমান মূলধন কাঠামোর ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। এমতাবস্থায় বলা যায়, ঢাকা টি লি. কাম্য মূলধন কাঠামো গঠন করেছে। যে কারণে সামগ্রিক মূলধন ব্যয় পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
Related Question
View Allইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে।
যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে সাধারণ শেয়ার বলে।
সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় বলতে সাধারণত লভ্যাংশ ও শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিজনিত লাভ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। অন্যভাবে, সাধারণ শেয়ারের ব্যয় বলতে বিনিয়োগকারীদের সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ হতে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। এছাড়া সাধারণ শেয়ারের সাথে শেয়ার ইস্যু ও বিক্রয়জনিত খরচ জড়িত। তাই বলা যায়, 'সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় আছে'।
নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
সাধারণ শেয়ারের বাজারমূল্য ( P০ )= ২০০ টাকা
প্রত্যাশিত লভ্যাংশ (D1) = ১৫ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ৪ % বা, ০.০৪
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়,
=
= ১১.৫০%
সুতরাং নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় ১১.৫০%।
নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় (K) = ১১.৫০% ['গ' নং থেকে প্রাপ্ত]
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় (Kp) = ৮%
করপূর্ববর্তী ঋণের ব্যয় (K) = ১০%
কর হার (T) = ৪০% বা, ০.৪০
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় = = ৬%
আবার,
সাধারণ শেয়ারের ভার
অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার
ঋণ মূলধন (বন্ড) এর ভার
আমরা জানি,
ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয়,
WACC = WeKe + WpKp + WdKd
= ৯.১৫ %
সুতরাং নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় ৯.১৫%।
নিট আয়ের যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সংরক্ষিত আয় বলে।
ইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে। কারবারে সঠিক মূলধন কাঠামো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মূলধন ব্যয় তাৎপর্য বহন করে। কারণ ইক্যুইটি ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণের অনুপাতের ওপর মূলধন কাঠামোর খরচ নির্ভর করে। বিকল্প অনুপাতে মূলধন ব্যয় কম হলে সে মূলধন কাঠামো গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!