পণ্য হচ্ছে অভাব বা প্রয়োজন পূরণ করার উপায়; যা মনোযোগ আকর্ষণ, অর্জন, ব্যবহার রা ভোগ করা যায়।
পারিবারিক সদস্যদের এবং গৃহে বসবাসকারীদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে পণ্য ও সেবার ক্রেতাদের নিয়ে গঠিত বাজারকে ভোক্তা বাজার বলে।
বিশ্বের প্রতিটি মানুষ তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ভোগের জন্য পণ্য ক্রয় করে। অর্থাৎ বিশ্বের আনাচে-কানাচে ভোক্তারা অবস্থান করে এবং তারা ভোগের জন্য কোনো না কোনো পণ্য অবশ্যই ক্রয় করে। তাই যেখানেই ভোক্তার অবস্থান সেখানেই ভোক্তাবাজারের বিস্তৃতি দেখা যায়। এ অর্থে ভোক্তাবাজারের আয়তন অত্যন্ত ব্যাপক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ঢাকা ফুড কোম্পানি' শিল্পবাজারের ক্রেতা।
যে সকল প্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎপাদনের জন্য বা সমাজে পণ্য বা সেবা সরবরাহ দেওয়ার জন্য পণ্য বা সেবা ক্রয় করে তাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বাজারকে শিল্পবাজার বলে। সাধারণত উৎপাদক, পুনঃব্যবহারকারী বা পুনঃবিক্রেতাদের নিয়ে এ বাজার গঠিত হয়। এ বাজারের ক্রেতারা মুনাফা অর্জন বা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পণ্য ক্রয় করে।
উদ্দীপকে 'ঢাকা ফুড কোম্পানি' মুন্সিগঞ্জ থেকে সরাসরি আলু ক্রয় করে। সেক্ষেত্রে ঢাকা ফুড কোম্পানি ক্রেতা হিসেবে বিবেচিত। উক্ত ক্রয়কৃত আলু দিয়ে তারা কুড়মুড়ে ও মচমচে সতেজ চিপস তৈরি করে, যা শিশু-কিশোরদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় উৎপাদনের জন্য মুন্সিগঞ্জের আলু ক্রয় করে। মুনাফা অর্জন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যই মূলত প্রতিষ্ঠানটি আলু ক্রয় করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শিল্পবাজারের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ অর্থে উদ্দীপকের ঢাকা ফুড কোম্পানি শিল্পবাজারের ক্রেতা।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যে ভিত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাজার বিভক্তিকরণ করতে চায় তা হলো জনমিতিক বিভক্তিকরণের অন্যতম চলক বয়স ও জীবনচক্র স্তর; যা অত্যন্ত যৌক্তিক।
ক্রেতাদের পণ্যের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী জনসংখ্যার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাজারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হলে তাকে জনসংখ্যাভিত্তিক বা জনমিতিক বিভক্তিকরণ বলা হয়। বয়স ও জীবনচক্র স্তর এরূপ বিভক্তিকরণের অন্যতম একটি চলক। বয়স পরিবর্তনের সাথে সাথে ভোক্তাদের চাহিদা, বুচিবোধ ও ক্রয় আচরণে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় বাজারকে বিভিন্ন বয়স ও জীবনচক্রের অরের ভিত্তিতে ভাগ করা যায়।
উদ্দীপকে 'ঢাকা ফুড কোম্পানি' মুন্সিগঞ্জ থেকে সরাসরি আলু ব্রয় করে তা দিয়ে কুড়মুড়ে ও মচমচে সতেজ চিপস তৈরি করে। চিপসগুলো শিশু-কিশোরদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বয়সের লোকদের কথা চিন্তা করে নানা স্বাদের চিপস তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিপস যে শুধু শিশুরাই ক্রয় করবে তা নয়। বিভিন্ন বয়সের লোকজনও চিপস ক্রয় করতে পারে। উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে শিশুদের জন্য চিপস তৈরি করলেও পরবর্তীতে সকল বয়সের লোকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের চিপস তৈরি করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বয়স ও জীবনচক্রের ভরের ভিত্তিতে বাজারকে বিভক্ত করে যা জনসংখ্যাভিত্তিক বিভক্তিকরণ নামে পরিচিত। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি সবধরনের ক্রেতা পেয়ে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠাটির বাজার সম্প্রসারিত হয় এবং দ্রুত সফলকাম হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমানে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি জনসংখ্যাভিত্তিক বিভক্তিকরণকে গুরুত্ব দিয়ে বাজার বিভক্তিকরণ করতে চায়। বাবসায় সম্প্রসারণ ও দীর্ঘকালীন সফলতা ধরে রাখতে জনসংখ্যানিসিক বিভক্তিকরণ অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allচূড়ান্ত ভোগ বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যারা পণ্য ক্রয় করে তাদের - সমন্বয়ে গঠিত বাজারকে ভোক্তাবাজার বলে।
যে সকল প্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎপাদনের জন্য বা সমাজে পণ্য বা সেবা সরবরাহ দেওয়ার জন্য পণ্য বা সেবা ক্রয় করে তাদেরকে শিল্প বাজার বা ব্যবসায় বাজার বলে। এ বাজারকে আবার উৎপাদকের বাজারও বলা হয়।
শিল্প বাজারের ক্রেতারা হলো উৎপাদক। এরা পণ্যের নতুন উপযোগ সৃষ্টির জন্য পণ্য ক্রয় করে। বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ভোক্তা হওয়ার কারণে তারা কোনো না কোনোভাবে ভোক্তা বাজারের সদস্য। কিন্তু শিল্প বাজারের সদস্যরা উৎপাদন কিংবা পুনঃবিক্রয়ের জন্য পণ্য ক্রয় করে। তাই শুধুমাত্র উৎপাদক এবং মধ্যস্থব্যবস্থায়ীরাই এ বাজারের সদস্য। এ কারণে শিল্প বাজারের সদস্য সংখ্যা ভোক্তা বাজারের চেয়ে কম হয়।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাবাজারের জন্য পণ্য বিপণন করছে।
চূড়ান্ত ভোগ বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যারা পণ্য ক্রয় করে তাদের নিয়ে গঠিত বাজারকে ভোক্তাবাজার বলে।
উদ্দীপকের 'নাইগা' জাপানের একটি প্রখ্যাত মোটরগাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন মডেল ও বিভিন্ন দামের গাড়ি উৎপাদন ও বাজারজাত করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির চূড়ান্ত ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে গাড়ি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে; যারা ভোক্তাবাজারের প্রকৃত সদস্য। এ অর্থে বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাবাজারের জন্য পণ্য বিপণন করছে।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি বিপণনের জন্য বাজার বিভক্তিকরণের অন্তর্গত জনসংখ্যাভিত্তিক বিভক্তিকরণের যে ভিত্তি ব্যবহার করেছে তা সঠিক হয়েছে।
বিভিন্ন জনসংখ্যাবিষয়ক চলক যেমন- বয়স, পরিবারের আয়তন, পরিবারের জীবনচক্র, আয়, পেশা, শিক্ষা, ধর্ম-বর্ণ এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে বাজারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করাকে জনসংখ্যাভিত্তিক বিভক্তিকরণ বলে। জনসংখ্যাভিত্তিক বিভক্তিকরণের ক্ষেত্রে জনগণের আয় ও ব্যয়ধাঁচ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
উদ্দীপকের 'নাইগা' জাপানের একটি প্রখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন মডেল ও বিভিন্ন দামের গাড়ি উৎপাদন ও বাজারজাত করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি সমাজের মানুষের আয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরে বাজার বিভক্তিকরণ করেছে; যা বাজার বিভক্তিকরণের জনসংখ্যাভিত্তিক। বিভক্তিকরণের অন্তর্গত। এতে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ গাড়ি ক্রয় করতে পারবে এবং প্রতিষ্ঠানটিও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারবে।
সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি বিপণনের জন্য বাজার বিভক্তিকরণের জনসংখ্যাভিত্তিক যে ভিত্তি ব্যবহার করেছে তা সঠিক ও বাস্তবসম্মত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
ভোক্তাদের সন্তুষ্টিবিধানের উদ্দেশ্যে পণ্য, মূল্য, বণ্টন ও প্রসারের কাঙ্ক্ষিত সংমিশ্রণকে বিপণন মিশ্রণ বলে।
বিপণনে 'ভোক্তাই রাজা' এ মতবাদের ভিত্তিতে বিপণনের সকল কার্যক্রম ভোক্তাদের ঘিরেই সম্পাদিত হয় বিধায় ভোক্তাকে বিপণন মিশ্রণের কেন্দ্রে রাখা হয়।
বিপণন মতবাদ অনুযায়ী ভোক্তাদের প্রয়োজনগুলোর ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হয়। এজন্য ভোক্তারা বিপণন মিশ্রণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। ক্রেতার প্রয়োজন, পছন্দ, অগ্রাধিকার ইত্যাদি চিহ্নিতকরণের জন্য বিপণন মিশ্রণের হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করা হয়।
বিপণন কর্মসূচি উন্নয়নের জন্য পণ্য, মূল্য, বণ্টনপ্রণালি এবং প্রসার কর্মসূচির সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়, যা ভোক্তাকেন্দ্রিক।
বিষয়টি নিম্নে চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো:

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!