ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা "ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের প্রতি কমলগঞ্জ গ্রামের মানুষের মনোভাব" এই বিষয়ে গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিল। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা একটি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে, সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করে তারা গবেষণা শেষ করল। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ-এর ত্রয়স্তর সূত্রের প্রথম স্তরটির নাম হলো ধর্মতাত্ত্বিক স্তর (Theological Stage) |

উত্তরঃ

'আসাবিয়া' হলো ত্রয়োদশ শতকের বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইবনে খালদুনের সমাজ সম্পর্কিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আসাবিয়া হলো একটি আরবি শব্দ যার বাংলা অর্থ সামাজিক সংহতি (Social Solidarity)। ইবনে খালদুন (Ibn Khaldun) তার 'আল- মুকাদ্দিমা' গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ে যাযাবর ও বেদুঈন সমাজ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আসাবিয়া বা সামাজিক সংহতি প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন। সাধারণত আসাবিয়া বা সামাজিক সংহতি বলতে মানসিক ঐক্যকে বোঝানো হয় যার দ্বারা মানুষ পরস্পরের সাথে একাত্মতা পোষণ করে, এমনকি সাধারণ বিপদ-আপদ এবং ভাগ্যের হেরফেরও তারা একই সাথে মোকাবিলা করে। ইবনে খালদুনের মতে, রক্ত, ধর্ম, জাতীয়তা প্রভৃতির মাধ্যমে এ সামাজিক সংহতি গড়ে ওঠে যার বিভিন্নতার কারণে সমাজ ও রাজনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে পরিবর্তন সংঘটিত হতে পারে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method) অবলম্বন করেছে।

বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের যুক্তিকে বলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। অর্থাৎ, কোনো বিষয়ের বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের যুক্তিসংগত উপায়ই হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। গবেষক বা বিজ্ঞানী কোনো সত্য অনুসন্ধানে এই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অগ্রসর হয়ে থাকেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানী আর. টি. শেফার বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো ধারাবাহিক ও সংগঠিত কতগুলো ধাপ যা কোনো সমস্যা অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতা (Objectivity) ও সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মূলত প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিষয়কে যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্টভাবে বিশ্লেষণ করেন। এক্ষেত্রে তাদের কিছু পদ্ধতি বা ধাপ অনুসরণ করতে হয় যথা: সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যার স্বরূপ নির্ধারণ, সমস্যা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও পঠন, সংগৃহীত তথ্যাদি সংগঠিতকরণ প্রভৃতি।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা "ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের প্রতি কমলগঞ্জ গ্রামের মানুষের মনোভাব" এই বিষয়কে গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিল। এ পর্যায়ে তারা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করে গবেষণা শেষ করল। শিক্ষার্থীদের এ গবেষণা পদ্ধিতিটি পাঠ্যবইয়ে আলোচিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা গবেষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা কার্যে যে পর্যায়গুলো প্রয়োগ করেছে তা হলো সমস্যা নির্বাচন, সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাসকরণ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান যা সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির স্তরসমূহকে নির্দেশ করে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম স্তর বা পর্যায় হলো গবেষণার জন্য বিষয় বা সমস্যা নির্বাচন। সমস্যা হলো এমন একটি পরিস্থিতি যা মানবজীবনের উন্নয়নকে বাধ্যগ্রন্ত করে। যেমন- মাদকাসক্তি, যৌতুক প্রভৃতি এক একটি সমস্যা যা গবেষণার বিষয়বস্তু হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দ্বিতীয় স্তর বা পর্যায় হলো সমস্যার সংজ্ঞায়ন। অর্থাৎ, নির্বাচিত সমস্যাটিকে গবেষণার উপযোগী সংজ্ঞা প্রদান করা যাতে গবেষণাধীন বিষয় বা সমস্যা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করা যায়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির তৃতীয় স্তর বা পর্যায়ে এসে গবেষক Hypothesis বা অনুমিতসিদ্ধান্তকে (সম্ভাব্য উত্তর অনুমান করা) কেন্দ্র করে গবেষণা কার্য পরিচালনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য বা উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে তথ্যের শ্রেণিবিন্যাসপূর্বক প্রাপ্ত তথ্যাবলি দ্বারা গৃহীত অনুমিতসিদ্ধান্ত সমর্থিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করেন।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সর্বশেষ পর্যায়ে এসে গবেষক যে অনুমিতসিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা সমর্থিত হলে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করেন। মূলত তথ্য বিশ্লেষণ ও অনুমিতসিদ্ধান্ত সমর্থনের মাধ্যমে এ স্তরের পূর্ণতা আসে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সকল গবেষককে একটি নির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করে গবেষণা কার্য সম্পাদন করতে হয়।।

216
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।

গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।

1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।

আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।

উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।

386
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।

481
উত্তরঃ

যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।

যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।

320
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews