'মতন' শব্দের অর্থ মজবুতি বা দৃঢ়তা।
কুরআনের সব বিষয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা হাদিসে বিদ্যমান থাকায় হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বলা হয়। কুরআনে আল্লাহ যে জীবনবিধান ও আদর্শ উপস্থাপন করেছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে সবসময় তা সহজবোধ্য নয়। তাই এ থেকে উপকৃত হওয়া তাদের জন্য কষ্টকর। হাদিসে কুরআনের বক্তব্যসমূহ সর্বসাধারণের উপযোগী করে পরিবেশন করা হয়েছে। তাই হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বলা হয়।
নিজেকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করার জন্য কুরআনের পাশাপাশি সোহাইলের হাদিস গ্রন্থ অধ্যয়ন ও অনুসরণ প্রয়োজন ছিল। হাদিস আল কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। পবিত্র কুরআনের বিধানবলির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে হাদিস গ্রন্থে। তাই কেউ যদি নিজেকে গোমরাহির পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক পথে পরিচালনা করতে চায় তাহলে তাকে কুরআনের নির্দেশনা জানা ও মানার পাশাপাশি হাদিসের মাধ্যমে এসব নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়নের নিয়ম শিখতে হবে। সোহাইলের ক্ষেত্রে এ বিষয়টির ব্যত্যয় ঘটেছে।
সোহাইল নিজেকে সব প্রকার গোমরাহির পথ থেকে সরিয়ে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করতে চেয়েছিল। এ ব্যাপারে তার বাবা তাকে আল কুরআন অধ্যয়ন করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আল কুরআনে ইসলামের বিধানের মূলনীতিগুলো থাকলেও এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া নেই। এ কারণে কুরআন পড়ে সোহাইল ইসলামের বিধানগুলো তেমন বুঝতে বা আমল করতে পারেনি। যার ফলে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এতে বোঝা যায়, পরিপূর্ণভাবে হেদায়েতের পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য কুরআনের পাশাপাশি কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ হাদিস অধ্যয়ন ও অনুসরণ করা সোহাইলের জন্য আবশ্যক ছিল।
হ্যাঁ, সোহাইলের কাঙ্ক্ষিত ইতিহাস গ্রন্থ রচনায় উক্ত গ্রন্থ অর্থাৎ হাদিস সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহায়ক বলে আমি মনে করি। রাসুলুল্লাহ (স)-এর সময় থেকে শুরু করে হাদিস গ্রন্থাবদ্ধ হওয়া পর্যন্ত সময়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও শাসনব্যবস্থার নিখুঁত চিত্র পাওয়া যায় হাদিসে। এছাড়া অতীত দিনের বিভিন্ন জাতি ও শাসকদের জীবনযাত্রার বিশ্বাসযোগ্য বিবরণও হাদিসে পাওয়া যায়। আর সোহাইলের কাঙ্ক্ষিত ইতিহাস গ্রন্থটি রচনায় এসব তথ্যই প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বের হয়েছে সোহাইল। এখন সে এ বিষয়ে একটি মানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ রচনায় আগ্রহী। এ ব্যাপারে হাদিসের সহায়তা নিয়েই সে বেশি সফল হতে পারবে। কারণ ইতিহাসের প্রামাণ্য উৎস হলো হাদিস। স্বাভাবিকভাবেই হাদিসে রাসুল চরিত সংরক্ষিত ছিল। সমকালীন মানুষের চিন্তা-ভাবনা, রুচি, যুদ্ধ- বিগ্রহ, সাধনা প্রভৃতির বিবরণও হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। পূর্ববর্তী নবি- রাসুল ও তাদের উম্মতদের জীবনযাত্রার নির্ভরযোগ্য বিবরণ আছে হাদিসে। তাছাড়া সংরক্ষণ, সংগ্রহ, পর্যালোচনা ও পরবর্তীকালের মানুষের জন্য ইতিহাস চর্চার সত্যিকারের প্রেরণা হলো হাদিস। বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি এবং ইমানি দায়িত্বের সাথে হাদিস সংরক্ষিত হয়েছে বলে একে বলা যায় ইতিহাসের সর্বাধিক নির্ভরতাসমৃদ্ধ উপাত্ত ও দলিল।
ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সোহাইলের ইতিহাস গ্রন্থটি রচনায় হাদিসই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহায়ক উৎস।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!