ব্র্যাক একটি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান (NGO).
সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয় করতে পারে না।
যে পত্রের মাধ্যমে কারবারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে লাভসহ আসল অর্থ ফেরত প্রদানের অঙ্গীকার করে তাকে বাণিজ্যিকপত্র বলে। সাধারণত খ্যাতিমান ব্যক্তি, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক পত্র বিক্রয় করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সুনাম জামানত হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ বাজারে যেসব প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানই এ পত্র বিক্রয় করতে পারে।
উদ্দীপকে রাইজিং স্টারের উদ্যোক্তাদের সরবরাহকৃত মূলধন হলো নিজস্ব বা অভ্যন্তরীণ তহবিল।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ নিজস্ব উৎস বা সঞ্চিতি তহবিল থেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যে তহবিল বিনিয়োগ করেন, তাকে অভ্যন্তরীণ তহবিল বলা হয়। যেকোনো ব্যবসায় গঠনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ তহবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (MBA) পাস করা কয়েকজন শিক্ষার্থী রাইজিং স্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। উদ্যোক্তারা নিজেদের তহবিল থেকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য অর্থসংস্থান করে প্রাথমিক কাজ শুরু করলেন। তাদের সরবরাহকৃত এ মূলধনকে অভ্যন্তরীণ তহবিল বলা যায়। কারণ এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক বা উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিজস্ব উৎস থেকে ব্যবসায়ে মূলধন যোগান দিয়েছেন। বাইরের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা নিতে হয়নি। তাই বলা যায়, রাইজিং স্টার প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজ শুরু করেছেন।
উদ্দীপকে রাইজিং স্টার প্রতিষ্ঠানের বাজারে শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনকে সমমূল্যের কতগুলো ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করাকে শেয়ার বলা হয়। শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করে থাকে। যে বা যারা শেয়ার কিনেন তারা মূলত প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে বিবেচিত হন।
উদ্দীপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী রাইজিং স্টার নামক একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ব্যবসায়টি শুরু করতে উদ্যোক্তারা নিজেরাই মূলধনের যোগান দেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্ষেত্র বৃদ্ধি পাওয়াতে তারা তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাজারে শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাইজিং স্টার প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করে যে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে তা দিয়ে ব্যবসায়ের আয়তন বাড়ানো যাবে। এক্ষেত্রে ইস্যুকৃত শেয়ারের ওপর বাধ্যতামূলক লভ্যাংশ দিতে হবে না। তবে যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিত সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে সুদ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক ছিল। শুধু মুনাফা হলেই শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করবে অন্যথায় লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে না। তাই বলা যায়, রাইজিং স্টারের উদ্যোক্কা কর্তৃক বাজারে শেয়ার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত যথার্থ হয়েছে।
Related Question
View Allঅর্থায়নের উৎসকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
ভবিষ্যতে ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য অবণ্টিত মুনাফা যে তহবিলে আলাদা করে রাখা হয় তাকে সঞ্চিতি তহবিল বলা হয়।
এ তহবিলে অর্থ আলাদা করে রাখা হয়। ভবিষ্যতে ব্যবসায় সম্প্রসারণের প্রয়োজনে এ অর্থ ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ ব্যবসায়ের মূলধন সংস্থানে এ তহবিল সহায়ক ভূমিকা রাখে
বর্তমানে দীননাথ চক্রবর্তী ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে লিজিং-এর সহায়তায় আর্থিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।
লিজিং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি বহিস্থ উৎস। একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যয়বহুল মেশিন, যন্ত্রপাতি, যানবাহন ইত্যাদি সরাসরি না কিনে লিজিং প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নিতে পারে। ছোট ও নতুন ব্যবসায়ের জন্য এ ধরনের অর্থায়ন উপযোগী উদ্দীপকে দীননাথ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে জামদানি ব্যবসায়ে নিয়োজিত। বিভিন্ন উৎস থেকে তিনি প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য অর্থসংস্থান করতেন। বর্তমানে তিনি তাঁতবস্ত্রের ব্যবসায়ও শুরু করতে মনস্থির করেন। এজন্য তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি পুরাতন ফ্যাক্টরি ১০০টি মেশিনসহ দীর্ঘ ১০ বছরের জন্য নেয়ার চেষ্টা করছেন। তার এ কার্যক্রম অর্থায়নে লিজিং হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে তাকে উক্ত মেশিন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া দিতে হবে। তবে মেশিনের মালিকানা লিজিং কোম্পানিরই থাকবে। নতুন বা ছোট প্রতিষ্ঠান যাদের মূলধন কম তারা লিজিং-এর সহায়তায় আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারে। এক্ষেত্রে লিজিং কোম্পানি লিজকৃত সম্পত্তির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। এভাবে উদ্দীপকে দীননাথ চক্রবর্তী লিজিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের জন্য কাজ করছেন।
আমি মনে করি, ব্যবসায় সম্প্রসারণে দীননাথ চক্রবর্তীকে লিজিং ছাড়াও ব্যাংক ঋণ ও নিজস্ব তহবিল ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য অর্জনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ এ তিন মেয়াদে অর্থসংস্থান করা হয়ে থাকে। তবে ব্যবসায় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের প্রয়োজন হয়। কারণ এক্ষেত্রে বড় আকারের মূলধনের প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকে দীননাথ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে জামদানি ব্যবসায়ে নিয়োজিত। তিনি মাঝে মাঝে বিভিন্ন উৎস থেকে অল্প সময়ের জন্য অর্থসংস্থান করতেন। বর্তমানে তিনি একই সাথে তাঁত বস্ত্রের ব্যবসায় শুরু করার মনস্থির করেছেন।
উদ্দীপকে দীননাথ চক্রবর্তী লিজিং-এর মাধ্যমে অর্থায়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন। ব্যবসায় সম্প্রসারণে তার প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে তিনি নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন। এছাড়াও তিনি নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করতে পারেন। তাই বলা যায়, দীননাথ চক্রবর্তীর এ সকল উৎস থেকে অর্থসংস্থানের প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থ আদান-প্রদানের সবচেয়ে দ্রুততম ও সরল প্রক্রিয়া হলো স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন।
এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সংগৃহীত তহবিল মধ্যমেয়াদি তহবিল হিসেবে গণ্য হয়।
এ ধরনের তহবিল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ের চলতি মূলধনের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটায়। এ তহবিলের খরচ বা সুদের হার স্বল্পমেয়াদি তহবিলের খরচ থেকে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের খরচ থেকে কম হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইত্যাদি এ ধরনের তহবিলের উৎস।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
