শ্রীলংকায় ১৯৫২ সালে সমাজকর্মের পেশাগত শিক্ষার উদ্ভব হয়েছিল।
সমাজকর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে মাঠকর্ম অনুশীলনের গুরুত্ব অপরিসীম।
মাঠকর্ম অনুশীলনকে সমাজকর্মের অন্যতম পাঠ্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমাজকর্মের তাত্ত্বিক দিকের পাশাপাশি কিছু ব্যবহারিক দিকও রয়েছে। আর এই ব্যবহারিক দিকটিই হচ্ছে মাঠকর্ম। কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হোক না। কেন, তা যদি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা না যায় তবে তার যথার্থতা বা কার্যকারিতা উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না। একইভাবে সমাজকর্মের যথার্থতা ও কার্যকারিতা উপলব্ধির জন্য মাঠকর্ম অনুশীলনের গুরুত্ব অপরিসীম। একমাত্র মাঠকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর পক্ষে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক দিকগুলো যথার্থভাবে আয়ত্ত্বে আনা সম্ভব।
ইমরান ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্দশাগ্রস্তদের উন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ঢাকাকে ভাসমান ও স্লিমল শিশুদের শহর বললেও ভুল হবে না। এসব শিশু সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বদ্যিত হয়ে
মানবেতর জীবনযাপন করে। এদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদনের অভাব রয়েছে। ইমরান তার ভবিষ্যৎ পেশাজীবনে এসব ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভমিকা রাখতে পারবেন। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংস্থা থেকে সাহায্য গ্রহণ করে তাদের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
ইমরানের পক্ষে ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে কাজ করে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। এতে করে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ওই শিশুরাও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে সচেষ্ট হবে। অনেক সময় একজন মানুষের মহৎ প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পুরো জাতির মধ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। উদ্দীপকের ইমরানের পরিকল্পনাটিও মহৎ এবং আশা করা যায়, তিনি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছিন্নমূল শিশুদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।
সমাজকর্ম পেশার বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রকৃতই ধরনের প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান।
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে পেশাগত সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর পেশাগত সংগঠন নেই। আবার দায়সারা প্রতিষ্ঠান থাকলেও কর্মক্ষেত্রের অপ্রতুলতার জন্য পেশাদার সমাজকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাজের মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মানুষ সমাজকর্মীদের মূল্যায়ন করার সুযোগই পাচ্ছে না।
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, এ পেশার বিকাশে যথাযথ ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতিমালার অভাব রয়েছে। আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থা মূলত এখনো আধা-সামন্তবাদী। তা পুঁজিবাদ এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শের মিশ্রণে গঠিত। ফলে এ সমাজে সমাজকর্ম পেশা তার স্বরূপে পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারছে না। প্রশাসনের সচেতনতার অভাব এমনকী ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিকূল মনোভাব বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। আমাদের দেশে এ পেশার সুষ্ঠু বিকাশ না হওয়ার আরও একটি কারণ হলো, সমাজকর্ম বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সরকারের অজ্ঞতা এবং ভ্রান্ত ধারণা।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে ধীরগতিতে হলেও সমাজকর্ম পেশার বিকাশ ঘটছে। তবে এ ধরনের ধীরগতির পেছনে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সরকারি-বেসরকারি মহল ও জনগণের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
Related Question
View Allবাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো- অদক্ষ জনশক্তি।
দানশীলতা বলতে শর্তহীনভাবে স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের কল্যাণে কোনো কিছু দান করার রীতিকে বোঝায়।
দানশীলতা মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। তবে প্রত্যেক ধর্মই দুস্থ ও অসহায়দের কল্যাণে ধনী বা সম্পদশালীদের দান করার জন্য উৎসাহিত করে। সুতরাং দানশীলতা হলো মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি মহৎ গুণ, যা দুস্থদের কল্যাণকে ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় ঘটেছে।
সমাজসেবা ও সমাজকর্মের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে তাকে সহায়তা করাই সমাজসেবার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে পরিচালিত হয়। সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে এ দুটি বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল। সমাজকর্ম ও সমাজসেবা উভয়ই সুসংগঠিতভাবে সমাজের মানুষের সেবা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পনা করে। এ দুটি বিষয়ই ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট এবং কার্যকর মানবীয় সেবা সৃষ্টিতে কাজ করে।
তাই বলা যায়, সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় রয়েছে এবং উভয়ই একে অপরের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের মাধ্যমে চীনের সমাজকর্ম শিক্ষার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
চীনে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম শিক্ষার সূত্রপাত হয় ১৯২০ সালে। পেশাদার সামাজিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চীনে 'Yanjing University' তে ১৯২২ সালে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত আটটি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজসেবা ও সমাজকর্ম সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করে। ১৯৪৯ সাল
থেকে ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে 'Civil Affairs Division' এর মাধ্যমে সরকার নিজেই বিভিন্ন সমাজকর্ম ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষিতে এই Division সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে নতুনভাবে সমাজকর্ম পেশার আবশ্যকতা দেখা দেয়। CCP, The State council এবং Central Government এর যৌথ উদ্যোগে সমাজকর্ম পেশাকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর সার্বিক লক্ষ্য ছিল একটি কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গঠন করা।
তাই বলা যায় যে, চীনের সমাজকর্মের শিক্ষাকে সেদেশের দ্রুত উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইংল্যান্ডকে সমাজকর্মের সূতিকাগার বলা হয়।
যেসব দেশ প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সেসব দেশই উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হয় এবং এসব দেশের মানুষ উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্ত। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের মধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!