বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের ১৪ জন সৈন্য শহিদ হন।
মুহাম্মদ (স) এর হিজরত পলায়ন ছিল না।
হিজরত শব্দের অর্থ প্রস্থান বা গমন। হিজরতকে পলায়ন বলা যায় না। কারণ ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করার কতিপয় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করেন। মূলত মক্কার রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ। ভৌগোলিক কারণে মক্কার লোকদের রুক্ষ ও বদমেজাজি স্বভাব প্রভৃতি কারণে মহানবি (স) স্বদেশবাসীর কাছে সম্মানিত হননি। অন্যদিকে শস্য শ্যামল মদিনার অধিবাসীরা চিন্তাশীল ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহর নিকট থেকে প্রত্যাদেশ লাভ তথা আল্লাহর নির্দেশে মহানবি (স) মদিনাবাসীর আমন্ত্রণে মদিনায় হিজরত করেন যাকে কোনভাবেই পলায়ন বলা যায় না।
দ্দীপকে বর্ণিত ঢাকা শহরের মেয়রের প্রণীত নীতিমালার সাথে মদিনা প্রজাতন্ত্রের মদিনা সনদের নীতিমালার সামঞ্জস্য রয়েছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদে। মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্ভাব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (স)-এ সনদ প্রণয়ন করেন। সকল সম্প্রদায়ের অধিকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক মদিনা সনদের প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকে বর্ণিত নীতিমালায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঢাকা শহরের নবনির্বাচিত মেয়র প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখার জন্য ৩০টি ধারা সম্বলিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন, যেটিতে সকল নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি মানব অধিকার রক্ষিত হয়। একইভাবে মহানবি (স) মদিনা ও তার আশপাশে বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে সকল জাতির জন্য একটি আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়ন করেন, যা বিশ্ব ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদে তিনি ৪৭টি ধারা সংযোজন করেন যার সবকটিই ছিল মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অধিকারের রক্ষাকবচ। এ সনদে সকল সম্প্রদায়কে সমান অধিকার প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়াও এ সনদে রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দুর্বল, অসহায়কে সর্বতোভাবে সাহায্য করার আহ্বান জানানো হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত নীতিমালায় মদিনা সনদে সংযোজিত কিছু ধারা প্রতিফলিত হয়েছে।
কলহে লিপ্ত গোত্রগুলোকে একত্র করে একটি জাতিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে উন্ত নীতিমালা তথা মদিনা সনদ অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান- মদিনা সনদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্ভাব প্রতিষ্ঠার মহান শিক্ষা বর্ণিত হয়েছে। সকলের অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যাবতীয় দিকনির্দেশনা রয়েছে এ সনদে। এ সুমহান শিক্ষাকে ধারণ করে যুগে যুগে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছেন। উদ্দীপকে বর্ণিত মানবাধিকার সনদও মানুষকে এ ধরনের শিক্ষায় উদ্দীপ্ত করে।
ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের গুরুত্ব অত্যধিক। এ সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ সুমহান শিক্ষা উদ্দীপকে বর্ণিত নীতিমালায়ও লক্ষ করা যায়। ৩০ ধারা সম্বলিত এ নীতিমালার অবদানের ফলেই ঢাকা শহরের সকল সম্প্রদায় ঐক্যবন্ধ জাতিতে পরিণত হয়। মদিনা সনদও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে তুলনাবিহীন রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অপরিসীম অবদান রাখে। এ সনদ শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী তথা মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ঐক্যবন্ধ হবার শিক্ষা দেয়। মদিনার আউস ও খাযরাজ গোত্রের মিলন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ সনদের মাধ্যমে দীর্ঘকালব্যাপী সংঘটিত বুয়াসের যুদ্ধের অবসান হয় এবং রক্তপাতের স্থলে শান্তির ধারক হয়ে মদিনাবাসী একটি
সুশৃঙ্খলাবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। পরিশেষে বলা যায় যে, সাম্য, শান্তি, শৃঙ্খলা, ঐক্য প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে মদিনা সনদের তাৎপর্য অপরিসীম।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!