সামাজিক সমস্যা হলো এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, যা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং যা থেকে উত্তরণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণের প্রয়োজন হয়।
সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার বলতে সকল প্রকার বস্তুগত, এবং অবস্তুগত, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পদের সঠিক ও যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করাকে বোঝায়।
সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার সমাজকর্মের একটি নীতি। সমাজকর্ম ব্যক্তির নিজস্ব ও সামাজিক সম্পদের উত্তম ব্যবহার করে ব্যক্তি, দল এবং সমষ্টির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। অর্থাৎ ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভা এবং সমাজে বিদ্যমান সম্পদের সমন্বয় করে কোনো কাজে লাগানোই হলো সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার।
জাউদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধের আলোকে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা। সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং সামাজিক পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমাজকর্ম এবং প্রশাসন, গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতি অনুসরণ করে। এছাড়া সমাজকর্ম জ্ঞান, মূল্যবোধ অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানে ব্রতী হয়। উদ্দীপকের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের এ প্রক্রিয়া অনুসৃত হবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বস্তির শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকে তার। নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষার পরিবর্তে ভিক্ষাবৃত্তি ও শিশুশ্রমেই এসব শিশুরা বেশি নিয়োজিত রয়েছে। শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাদেরকে এসব কাজ থেকে মুক্ত করে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে। এজন্য সমাজকর্ম মৌলিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিশু এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সেই সাথে সাহায্যকারী পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে সমস্যার কারণ, প্রকৃতি, বিস্তার প্রভৃতি এবং তা উত্তরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের প্রতিটি কাজেই সমাজকর্ম নিজস্ব জ্ঞান, নীতিমালা, মূল্যবোধ বজায় রাখবে। অর্থাৎ সাহায্যার্থীর মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি খেয়াল রেখে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করে সমাজকর্ম বস্তির শিশুদের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালাবে।
আধুনিক বিশ্বে সমাজকর্মের গুরুত্ব ব্যাপক ও বহুমুখী হওয়ায় উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেই এর গুরুত্ব যথাযথভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা। বর্তমান বিশ্বে এর গ্রহণযোগ্যতা অত্যধিক। ব্যক্তির বৃর্তক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় ব্যক্তিকে সক্ষম করে তোলার ধ্যান-ধারণাই সমাজকর্মকে বিশ্বে গ্রহণযোগ্য করে তুলছে। সমাজকর্মের নানামুখী তৎপরতার একটি ক্ষুদ্র দিক উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানের প্রেক্ষিতে ফুটে উঠেছে।
সমাজকর্ম প্রতিকার, প্রতিরোধ এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে সমাজে বিদ্যমান নানা সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কৌশল উদ্ভাবন করে সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে প্রবৃত্ত হয়। সমাজকর্ম সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। সমাজের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের জন্য সকল শ্রেণির মানুষের চাহিদা, প্রয়োজন ও জীবনমান সাপেক্ষে উন্নয়ন নির্ধারক নির্ণয় করে উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, সামাজিক স্থিতিশীলতা আনয়ন, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আত্মনির্ভরশীলতা সৃষ্টি, ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ প্রভৃতি কল্যাণধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করে সমাজকর্ম আধুনিক বিশ্বে একটি জনপ্রিয় পেশা হিসেবে পরিণত হয়েছে। এসব কারণেই সমাজকর্মের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্দীপকে সমাজকর্মের এসব কল্যাণধর্মী চেতনার প্রকাশ ঘটেনি। এখানে শুধু সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার একটি পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজকর্মের অপরিসীম গুরুত্বের বা প্রয়োজনীয়তার একটি সামান্যতম দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Question
View Allসমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এক জটিল রূপ, যেখানে মানুষ পরস্পর সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করার সুযোগ লাভকরে।
সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা দেয়।
সমাজে বসবাসকারী সদস্যদের মধ্যে সর্বদা সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। গতিশীল সমাজের সাথে সাথে সামাজিক সম্পর্কও দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যার সাথে মানুষ সামঞ্জস্য বিধানে ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাকর্মীদের কাজে এ উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ভোলা জেলার ঢালচর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একদল সমাজকর্মী কাজ করছে। তারা ঐ অঞ্চলের মানুষকে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। তাদের এ কাজে সমাজকর্মের চারটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো- জনগণের সমস্যা সমাধানে উপযোজন ক্ষমতার উন্নয়ন; সম্পদ, সেবা, ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো; মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও কার্যকর ভূমিকা পালনে তাদেরকে সক্ষম করে তোলা এবং ব্যক্তিগতও সামাজিক সম্পদের সর্বোচ্চ সমাবেশ ঘটানো। উদ্দীপকের গবেষণাকর্মীদের কাজে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোই খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাত্র চারটি প্রতিফলিত হওয়ায় বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি দূরীকরণে এটি পরিকল্পিত উপায়ে প্রচেষ্টা চালায় এবং গঠনমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনের এ বৃহত্তর কাজটি করতে সমাজকর্ম সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদানের সহায়তা নেয়। উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের কিছু উপায়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
সমাজ পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে মানুষের প্রচেষ্টা সর্বাগ্রে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও নেহায়েত কম নয়। সমাজকর্ম অনেক সময় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সামাজিক নীতির বিকাশ সাধনের প্রচেষ্টা চালায়। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্ম তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ তথা সচেতনতা সৃষ্টি করে। এই সচেতনতাবোধই তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কার্যকর মানবীয় সেবা ত্বরান্বিত করতে সমাজকর্ম নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। দেশের প্রচলিত সমাজসেবামূলক কার্যক্রমগুলোর উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করা, সামাজিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব থেকে মুক্তি দেওয়াও সমাজকর্মের লক্ষ্য।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সামগ্রিক রূপ নয়।
IFSW-এর পূর্ণরূপ- International Federation of Social Workers.
শিল্পবিপ্লব পরবর্তী আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই, সামাজিক সম্পর্কের এ গতিশীল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মানুষ ব্যর্থ হয়। ফলে সমাজে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের অসংগতি ও সমস্যা। এসব অসংগতি দূরীকরণ এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানুষকে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলার জন্যই সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!