ণ-ত্ব বা ণ্য-ত্ব বিধান হল সংজ্ঞায়িত জনপ্রিয় ব্যক্তি বা বস্তুর নামের পর নিয়ে সেই ব্যক্তি বা বস্তুর পরিবর্তে একটি অক্ষর যোগ করা। উদাহরণস্বরূপ, "চায়ের কপ" শব্দের "র" এর পরে যোগ করলে "চায়ের কপর" হয়ে যায়।
ণ-ত্ব বিধানের চারটি নিয়মাবলি হল:
১. প্রথম বর্ণ অবশ্যই স্বরবর্ণ হতে হবে।
২. যে বর্ণ পরিবর্তন করা হবে, তা উচ্চারণের দ্বারা শোনার প্রথম অক্ষর হতে হবে।
৩. পরিবর্তন হওয়া অক্ষরটি সংজ্ঞায়িত হতে হবে।
৪. পরিবর্তিত শব্দের বর্ণগুলোর সমষ্টি অর্থপূর্ণ হতে হবে।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধির সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।(২১বিসিএস)
ণ-ত্ব বিধানের চারটি নিয়মাবলি
ক। তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ বর্ণের পর: ঋ-কার, র-ফলা, রেফ, ও ক্ষ’র পর ণ ব্যবহৃত হয়। যেমন- ঋণ, ভূষণ।
খ। ণ, ষ-এর পর যুক্ত হয়ে যুক্তব্যঞ্জন গঠন করলে ষ্ণ-র রূপ নেয়। যেমন- উষ্ণ, ক্ষয়িষ্ণু।
গ। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সর্বদা ণ যুক্ত হয়। যেমন- দণ্ড, নির্ঘণ্ট।
ঘ। যুক্তব্যঞ্জনেট-বর্গের বর্ণের পূর্বে ন, ণ হয়। যেমন- বণ্টন, ভণ্ড।
ণ-ত্ব বিধান: যে নিয়মে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’-তে পরিণত হয়, তাকে ণ-ত্ব বিধান বলে।
ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়ম দেওয়া হলো:
১. ঋ,র,ষ এরপর মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: ঋণ,ভীষণ ,রণ,ইত্যাদি।
২. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, পরায়ণ, প্রমাণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৩.যুক্তব্যঞ্জনে ট-বর্গের সঙ্গে মূর্ধন্য-ণ হয়।যেমন: ঘণ্টা,কণ্ঠ,ভণ্ড ইত্যাদি।
৪.ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত,গ্রন্থ, , বৃন্ত, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।
৫.ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ অথবা ং (অনুস্বার) থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
Related Question
View All‘লবণ” শব্দে স্বাভাবিক নিয়মে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
১. অ, আ, ভিন্ন অন্য কোনো স্বরধ্বনি এবং ক ও র এর পরে ‘ষ’ প্রত্যয়ের ‘স’ থাকলে তা মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, বিষয়, বিষ, সুষমা ইত্যাদি।
২. ট ও ঠ এর সঙ্গে যুক্ত হলে দন্ত-‘স’ না হয়ে মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন- কষ্ট, কাষ্ঠ, স্পষ্ট ইত্যাদি।
৩. ঋ-কার ও র-এর পর মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন- সৃষ্টি, বৃষ, ঋষি, কৃষক, বর্ষা, বৃষ্টি, দৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. সমাসবদ্ধ হয়ে দুটি পদ একপদে পরিণত হলে এবং প্রথম পদের শেষে ই, উ, ঋ থাকলে মূর্ধন্য-ষ এ পরিণত হয়। যেমন- যুধিষ্ঠির, গোষ্ঠী, ভ্রাতুস্পুত্র ইত্যাদি।
৫. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন- অনুষ্ঠান, অভিষেক, প্রতিষেধক ইত্যাদি।
তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'য' এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
বিধানের পাঁচটি নিয়ম হলো:
১) অ, আ ভিন্ন কোনো স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে 'ষ' প্রত্যয়ের 'স' থাকাল তা মূর্ধন্য 'ষ' হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, দিয়া, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, বিষয়, বিষ্ণু, সুনা ইত্যাদি।
২) ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে মূর্ধণ্য 'য' হয়। যেমনঃ অনুষ্ঠান, অভিষেক।
৩) ঋ-কার ও র-কার এর পর মূর্ধন্য 'ষ' হয়। যেমনঃ বৃষ, ঋষি, কৃষ্ণ, কৃষক, বর্ষা, উৎকর্ষ, বৃষ্টি, কৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি । ইত্যাদি ।
৪) ট ও ঠ-এর সঙ্গে যুক্ত হলে দন্ত্য 'স' না হয়ে মূর্ধন্য 'য' হয়। যেমনঃ কষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ্য, স্পষ্ট ইত্যাদি।
৫) সমাসবদ্ধ পদ হলে এবং প্রথম পদের ই, উ, ঋ থাকলে মূর্ধন্য 'ষ'-এ পরিণত হয়। যেমনঃ যুধিষ্ঠির, গোষ্ঠী, ভ্রাতৃপুত্র ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় ণত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়ম হলোঃ
১. ঋ, র, ষ এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মুধন্য “ণ” হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ ইত্যাদি ।
২. ঋ, র, ষ এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ হ অথবা ং (অনুস্বার) থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য “ণ” হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ ইত্যাদি ।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নি এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য “ণ” হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য 'ন' হয়, ‘ণ' হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃত্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!