SAARC-এর পূর্ণরূপ হলো- South Asian Association for Regional Cooperation.
ব্রিটেন ও এর শাসন থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার জন্য কমনওয়েলথ গঠিত হয়েছিল।
এক সময় প্রায় সারা বিশ্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। ব্রিটিশরা সে সময় দোর্দণ্ড প্রতাপে প্রায় সমগ্র পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে। কিন্তু পরবর্তীকালে শাসিত অঞ্চলগুলোতে জাতীয়তাবাদী চেতনার সৃষ্টি হয় এবং সেসব অঞ্চল বা দেশ একের পর এক স্বাধীন হতে থাকে। তখন ব্রিটেন ও এর পূর্বতন অধীনস্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার উদ্দেশ্যে কমনওয়েলথ গড়ে ওঠে।
তথ্য-১ আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘকে চিহ্নিত করে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২০ সালে জাতিপুঞ্জ বা লিগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু নানা কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত এবং নিহত হয় কয়েক কোটি মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ ধ্বংসলীলা বিশ্ববাসীকে শঙ্কিত ও হতবাক করে দেয়। এ প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪১ সাল থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শুরুতে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫১। তথ্য-১-এ বর্ণিত সংস্থার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, সংস্থাটি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং এটি ১৯৪৫ সালে গঠিত হয়েছে। শুরুতে সংস্থাটির সদস্য দেশের সংখ্যা ছিল ৫১। তথ্য-১-এ বর্ণিত সংস্থাটির সাথে উপরে আলোচিত জাতিসংঘের গঠনের পটভূমির মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, তথ্য-১ আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘকেই প্রতিফলিত করে।
তথ্য-২ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং তথ্য-৩ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে নির্দেশ করছে। গঠন ও কার্যক্রমগত দিক থেকে জাতিসংঘের এ সংস্থা দুটির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
গঠনগত দিক থেকে দেখা যায়, নিরাপত্তা পরিষদ মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। অন্যদিকে সাধারণ পরিষদের সদস্য সংস্থা ১৯৩টি। অর্থাৎ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্র সাধারণ পরিষদের সদস্য।
কার্যাবলির ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রয়োজনে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব কাজ জাতিসংঘের এ শাখাটি করতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাসহ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করে। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগ, নতুন সদস্য গ্রহণ, বাজেট পাস, সদস্য রাষ্ট্রের চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ, বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নির্বাচন, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ পরিষদ সম্পাদন করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাথে সাধারণ পরিষদের কার্যাবলির উল্লিখিত তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নিরাপত্তা পরিষদ - ও সাধারণ পরিষদের গঠন এবং কাজের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
Related Question
View AllSAARC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে "South Asian Association for Regional Cooperation" |
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। এ এলাকার উপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অছি এলাকার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' সাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
কেননা ওআইসি-এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ২৩। ওআইসির কিছু উদ্দেশ্য আছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, বর্ণবৈষম্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিলোপ করা, ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা। এছাড়া মুসলিম জাতির মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সংগ্রামকে জোরদার করতে সাহায্য করা, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
উদ্দীপকের হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' মধ্যেও আমরা দেখতে পাই, এই সংস্থার প্রাথমিক সদস্য ২৩। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সৎভাব বজায় রাখা এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই আমরা বলতে পারি, হাসান সাহেবের শান্তি সংস্থার সাথে ওআইসির উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
হাকিম সাহেবের সংস্থার সাথে জাতিসংঘের অনেক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলো হলো- শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সুকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা; অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা; এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিবাদের মীমাংসা করা।
উদ্দীপকের হাকিম সাহেবের সংস্থা 'সূর্যনগর সমবায় সমিতি' এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ পাঠাগার, খেলাধুলার ক্লাব গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যগুলোর সাথে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের অনেক মিল রয়েছে।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ছয়টি।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের।
নিরাপত্তা পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!