এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস বিপাক হারকে প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
লিঙ্গভেদে প্রতি বর্গমিটারে মৌলিক বিপাক হারের পার্থক্য দেখা যায়।
পুরুষের দেহের আয়তন, ওজন ও পেশির পরিমাণ স্ত্রীলোকের চেয়ে বেশি হওয়ায় পুরুষের মৌলিক বিপাক হার বেশি হয়। তাই পুরুষের কিছুটা বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। একই বয়স, ওজন ও উচ্চতায় স্ত্রীর চেয়ে পুরুষের মৌলিক বিপাকের হার ১০%-১২% বেশি হয়।
খাদ্য থেকে তনিমার মায়ের কাজ করার ক্ষমতা লাভ শক্তিকে নির্দেশ করছে। শক্তি একটি ক্ষমতা যার মাধ্যমে আমরা কাজ সম্পাদন করে থাকি। আমরা যে খাদ্য খাই সেই খাদ্য পরিপাক ও বিপাকের মাধ্যমে আমাদের শরীরে তাপশক্তি উৎপন্ন করে। যার ফলে আমরা দৈনিক কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারি।
প্রাণিদেহের কোষে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের শক্তি বিশেষ জৈবিক প্রক্রিয়ায় জারিত হয়ে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এ শক্তির অংশবিশেষ বিভিন্ন প্রাণরাসায়নিক ক্রিয়া সম্পন্নের জন্য শক্তি সরবরাহ করে। কিছু অংশ নতুন কোষ গঠনে ব্যবহৃত হয়। বেশির ভাগ শক্তি শারীরিক কাজের জন্য এবং তাপ বিকিরণের মাধ্যমে দেহকে গরম রাখতে ব্যয় হয়। তনিমার মা সারাদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি এ সকল কাজ করার ক্ষমতা খাদ্য থেকে পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ তিনি খাদ্য থেকে শক্তি লাভের কথা বলেছেন।
মানুষ জীবন ধারণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য যা কিছু করে তাতেই শক্তির প্রয়োজন হয়। জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রাসায়নিক শক্তির প্রভাব মানুষের জীবনে অপরিসীম। জীবমাত্রই জীবন ধারণের জন্য খাদ্য প্রয়োজন। আর খাদ্যের অন্যতম কাজ শক্তি উৎপাদন করা। শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্যের অভাবে দেহের কোষ কলা নিজেই দগ্ধ হয়ে শক্তি উৎপাদন করে, ফলে দেহ ক্ষয় হয়ে রুগ্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া সম্পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় থাকলেও দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ, যেমন- বৃক্ক, ফুসফুস, হৃৎপিন্ডের, কার্যকারিতা অব্যাহত থাকে।
প্রধানত দুটি কারণে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির শক্তির প্রয়োজন হয়।
১. দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য নির্বাহের জন্য।
২. শারীরিক পরিশ্রম ও অন্যান্য কাজের জন্য। জীবন্ত কোষে যেসব জৈবিক প্রক্রিয়া অবিরত চলতে থাকে, তার জন্য শক্তির প্রয়োজন। জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্বসন, রক্ত সঞ্চালন, রেচন প্রভৃতি জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশক। প্রাণিদেহের চলাফেরা ও অন্যান্য পেশিগত কাজেও শক্তির প্রয়োজন। গর্ভকালে ভ্রুণের বৃদ্ধি ও সন্তানের পুষ্টি, দুগ্ধ তৈরি ও ক্ষরণের জন্য শক্তির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এসব শক্তি আমরা খাদ্য থেকে পাই।
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য শক্তির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
Related Question
View Allশক্তি পরিমাপের একক ক্যালরি।
শক্তির চাহিদা নির্ণয়ে মৌল বিপাক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। মৌল বিপাক হার বলতে প্রতি ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটার দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলে যে পরিমাণ শক্তি বা ক্যালরি ব্যয় হয় তাকে বোঝায়। মধ্যম বয়সের ব্যক্তিদের গড় বিপাক হার প্রায় ৪০ ক্যালরি।
উদ্দীপকে রেহানা বেগম বলেন, শক্তির ব্যয় শারীরিক কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে। আমাদের বিভিন্ন কাজে নানা ধরনের শক্তি ব্যয় হয়। সম্পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায়ও সর্বনিম্ন শক্তি ব্যয় হয়।
শক্তির ব্যয়ের ভিত্তিতে কাজ তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- হালকা কাজ, মাঝারি কাজ ও ভারি কাজ। হাঁটাচলা, বই পড়া, ঘর গোছানো ইত্যাদি হালকা কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় শক্তির চাহিদা গড়ে ১৫০-২৫০ ক্যালরি। সাইকেল চালানো, জোরে হাঁটা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি মাঝারি কাজের অন্তভুক্ত কাজের জন্য গড়ে ৩০০-৪০০ ক্যালরি প্রয়োজন। এ ধরনের সাঁতার কাটা, রিকশা চালানো, গাছ কাটা ইত্যাদি ভারি কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪৫০-৫৯০ ক্যালরি ব্যয় হয়।
প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য শক্তির চাহিদা-
লেখার কাজ - ২০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
দর্জির কাজ- ৪৫ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
টাইপ করা- ৩০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
রাজমিস্ত্রির কাজ- ৩০০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
রিকশা চালানোর কাজ- ৩৫০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যালরি খরচ হয়।
উদ্দীপকে রেহানা বেগমের শেষের উক্তি নারী-পুরুষভেদে, বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন শারীরিক অবস্থায় শক্তি চাহিদা বিভিন্ন হয়। শক্তি চাহিদায় বয়স, লিঙ্গ, পরিশ্রম, হরমোনের ক্ষরণ, দেহের আয়তন প্রভাব, বিস্তার করে। যার ফলে শক্তি চাহিদায় পার্থক্য দেখা যায়।
নারী ও পুরুষের মৌল বিপাক হার সমান হয় না। নারীর মৌল বিপাক হার সমবয়স্ক পুরুষের তুলনায় কম। নারী পুরুষের তুলনায় কম পরিশ্রমী এবং দেহে মেদ বেশি থাকে, অন্যথায় পুরুষের দৈহিক পরিশ্রমে পেশি চালনা তীব্রতর হয় বলে নারী অপেক্ষা পুরুষের বিপাক হার ১০%-২০% বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মৌল বিপাক হার হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধদের তুলনায় যুবকের বিপাক বেশি হয়। শিশুদের বিপাক হার ১০%-১২% বেশি থাকে। জন্মের কয়েক মাস পর থেকে এটা সর্বাপেক্ষা বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তৃতীয় বছরে হ্রাস পেয়ে যৌবনে সামান্য বৃদ্ধি পায়। ২৫ বছর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আবার ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বিপাক বেশি ওঠানামা করে। মাসিকের পূর্বে এই হার বাড়ে এবং মাসিকের পর কমে। গর্ভাবস্থার শেষ ভাগে মৌল বিপাক ১৫%-২৫% বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে গর্ভবতী মহিলার ওজন বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের বিপাক হার বেশি থাকে, সে কারণে মৌল বিপাক বৃদ্ধি পায়।
তাই বলা যায়, বিভিন্ন অবস্থাভেদে শক্তি চাহিদার তারতম্য হয়।
শক্তি একটি ক্ষমতা যার দ্বারা আমরা কার্য সম্পাদন করে থাকি।
জীবন্ত কোষে যেসব জৈবিক প্রক্রিয়া অবিরত চলতে থাকে তার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই শক্তির চাহিদাকে জীবদেহের প্রধান চাহিদা বলা হয়।
জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্বসন, রক্ত সঞ্চালন, রেচন প্রভৃতি জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক। এছাড়াও দেহের কোষের প্রতিটিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলে। যেমন- জারণ, বিজারণ, এনজাইম ও হরমোন নিঃসরণ ইত্যাদি। এগুলোর জন্য শক্তির প্রয়োজন। এছাড়া প্রাণীদেহের চলাফেরা ও অন্যান্য পেশিগত কাজেও শক্তির প্রয়োজন হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!