ঢাকা জেলার আশরাফপুর গ্রামে রাজা দেব খড়গের নির্মিত একটি স্তূপ পাওয়া গেছে।
ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন হলো স্তূপ।
বৈদিক যুগে দেহাবশেষ পুঁতে রাখতে শ্মশানের ওপর মাটির স্তূপ রক্ষা করার জন্য এ স্থাপত্য পদ্ধতিকে গ্রহণ করা হয়। প্রাচীন বাংলায় কিছু বৌদ্ধ ও জৈন স্তূপ নির্মিত হয়েছিল। ঢাকা জেলার আশরাফপুর গ্রামে রাজা দেব খড়গের ব্রোঞ্জ বা অষ্টধাতু নির্মিত একটি স্তূপ পাওয়া গেছে। রাজশাহীর পাহাড়পুর এবং চট্টগ্রামের ঝেওয়ারীতে আরও দুটি ব্রোঞ্জের তৈরি স্তূপ পাওয়া গেছে। মূলত প্রাচীন বাংলার স্তূপ বলতে এগুলোকেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের তনিমা তার বইয়ে ভাষা, অর্থাৎ বাংলা ভাষা সৃষ্টির উৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরেছে।
বাংলার তথা প্রাচীন ভারতের অধিবাসীরা নানাভাষীর লোক ছিল। বাংলার প্রাচীনতম অধিবাসীরা সম্ভবত ছিল অস্ট্রিক গোষ্ঠীর অস্ট্রো এশিয়াটিক জাতির মানুষ। তাদের ভাষা ছিল অস্ট্রিক গোষ্ঠীর মোন, ক্ষের শাখার ভাষার মতোই। অস্ট্রিক গোষ্ঠী ছাড়াও বাংলায় বাস করত দ্রাবিড় গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখার লোক। অস্ট্রো এশিয়াটিক ও দ্রাবিড় ভাষার লোকেরা ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর বাংলায় বহু আগে থেকে নানা সময়ে এসেছিল মঙ্গোলীয় বা ভোটচীনা গোষ্ঠীর নানা জাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোক। সম্ভবত এদেরই বলা হতো কিরাত জাতি। এরপর একটি নতুন ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ বাংলায় প্রবেশ করে। তারা হলো আর্য এবং তাদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক। আর্য জাতি বাংলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাথে পাশাপাশি বসবাস করত। ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিবাসীরা নিজেদের ভাষা ত্যাগ করে সম্পূর্ণভাবে আর্য ভাষা গ্রহণ করে। আর এভাবেই বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে বাংলা ভাষা সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, তনিমার বইয়ে উক্ত ভাষাও বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে সৃষ্ট এবং দেশের মানুষের আদরণীয় সৃষ্টি। বইটির উল্লিখিত ভাষাও এক দিনের ফসল নয়; বহু বছর, কাল পেরিয়ে আজ তা সমৃদ্ধ। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে তনিমা তার বইতে বাংলা ভাষা সৃষ্টির উৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরেছে।
বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে উক্ত ভাষা, অর্থাৎ বাংলা ভাষা বিকাশ লাভ করেছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এক দিনের ফসল নয়; বহু বছর, কাল, পেরিয়ে আজ তা সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলার প্রাচীনতম অধিবাসীরা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলত। বাঙালি হলো সংকর জাতি। অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, ভোটচীনা ভাষাগোষ্ঠীর পর আর্যরা এ দেশে আগমন করে এবং তাদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক ভাষা। পরবর্তীকালে এ ভাষাকে সংস্কার করা হয়। পুরোনো ভাষাকে সংস্কার করা হয় বলে এ ভাষার নাম হয় সংস্কৃত। প্রাচীন যুগে আর্যরা যে ভাষায় কথা বলত এবং যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল, স্থানভেদে এবং সময়ের পরিবর্তনে এর অনেক পরিবর্তন ঘটে। কালক্রমে সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। অপভ্রংশ ভাষা থেকে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়। নয় ও দশ শতকের আগে বাংলা ভাষার রূপ কী ছিল তা জানা যায় না। তবে এ শতকগুলোতে বাংলায় সংস্কৃত ছাড়াও দুটো ভাষা প্রচলিত ছিল এর একটি হলো, শৌরসেনী অপভ্রংশ এবং অন্যটি মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় গৌড়-বঙ্গীয় রূপ, যাকে বলা হয় পাচীন বাংলা ভাষা। একই লেখক এ দুই ভাষাতেই পদ, দোহা ও গীত রচনা করতেন। বাংলার ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ। আর এ চর্যাপদগুলোর মধ্যেই বাংলা সাহিত্যের জন্ম হয়। মোটামুটিভাবে বলা যায় যে, আট শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এ পাঁচশ বছরই হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিকাশের প্রাচীন যুগ।
উদ্দীপকে তনিমা তার ভাষার বিকাশ নিয়ে একটি বই রচনা করে। বইতে সে উল্লেখ করে, তার দেশের বর্তমান ভাষা ও সাহিত্য এক দিনের ফসল নয় বহু বছর, কাল পেরিয়ে আজ তা সমৃদ্ধ। এ ভাষা বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে সৃষ্ট। তার উল্লিখিত ভাষার বিকাশধারার সাথে উপরে আলোচিত বাংলা ভাষার বিকাশধারার মিল রয়েছে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বাংলা ভাষা বিভিন্ন মাধ্যমে বিকশিত হয়ে সমৃদ্ধি লাভ করেছে।
Related Question
View Allআর্যদের পূর্বে বাংলার ভাষার নাম অস্ট্রিক।
আর্যদের বৈদিক ভাষা থেকেই কালক্রমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়। মূলত প্রাচীন যুগে আর্যরা যে ভাষা ব্যবহার করত এবং যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয় তা সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর এ ভাষা সংস্কৃত নামে অভিহিত হয়। সংস্কৃত হতে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত হতে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। অপভ্রংশ ভাষা হতে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্য ও পোশাক পরিচ্ছদের সাথে বাংলার প্রাচীন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রাচীনকালেও বর্তমান সময়ের মতো বাঙালির প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, ক্ষীর ইত্যাদি। খাওয়া-দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল। চাউল হতে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠা তখন জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার ছিল। তাছাড়া নানা জাতের মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল। তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিংগে, কাকরোল, কচু উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, নারকেল, পেঁপে পাওয়া যেতো। দরকারি বিভিন্ন জিনিস গ্রামেই তৈরি হতো।
আর পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে প্রাচীন যুগে রাজা মহারাজা ও ধনীদের বাদ দিলে তেমন বিশেষ আড়ম্বর ছিল না। প্রাচীন বাংলার নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার পরতো। তারা কানে কুণ্ডল, গলায় হার, আঙুলে আংটি, হাতে বালা ও পায়ে মল পরিধান করতো। মেয়েদের সাজসজ্জায় আলতা, সিঁদুর ও কুমকুমের ব্যবহার প্রচলিত ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, টিনা নীলার বিয়েতে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে প্রাচীন বাংলার খাবারের সাথে টিনার বিয়ের আয়োজনে খাদ্যতালিকার মিল দেখতে পায়। সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও প্রাচীন যুগের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পায় টিনা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে টিনা তার বান্ধবী নীলার গ্রামের বাড়িতে যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছে সেগুলোর সাথে বাংলার প্রাচীন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
নীলাদের গ্রামের আর্থিক কাঠামোর মাঝে প্রাচীন বাংলার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বলে আমি মনে করি।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা কৃষির জন্য সুখ্যাত ছিল। এ অঞ্চলে পাট, ইক্ষু, তুলা, নারকেল, সুপারি, এলাচ, লবঙ্গ ইত্যাদি উৎপন্ন হতো। এছাড়াও কুটিরশিল্পের মধ্যে মাটির তৈরি কলস, ঘটি-বাটি, বাসনপত্র ইত্যাদি ছিল। আর লোহার তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল ইত্যাদি। বস্ত্রশিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচীন কাল থেকেই বাংলায় তৈরি হতো। আর কার্পাস তুলা ও রেশমের তৈরি উন্নতমানের সূক্ষ্ম বস্ত্রের জন্যও বঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল।
বঙ্গে স্থল ও জলপথেই বাণিজ্যের আদান-প্রদান চলত। দেশের ভেতরে বাণিজ্য ছাড়াও সে সময় বাংলার বৈদেশিক বাণিজ্য বেশ উন্নত ছিল। তাছাড়াও প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা ছিল। দুর্গার অর্চনা উপলক্ষে বরেন্দ্রে বিপুল উৎসব হতো। ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া, আকাশপ্রদীপ, জন্মাষ্টমী, দশহরা, গঙ্গাস্নান ইত্যাদি অনুষ্ঠান হতো বঙ্গে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামের আর্থিক কাঠামোর মাঝে প্রাচীন বাংলার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চার শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন আরম্ভ হয়।
প্রাচীন বাংলার মানুষের অবস্থা মোটামুটি উন্নত ছিল।
প্রাচীন বাংলার সমাজ জীবনে নানা ধরনের প্রথা বিদ্যমান ছিল। আর প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক জীবনের মূলভিত্তি ছিল কৃষি। এছাড়াও কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছিল বঙ্গে। আর প্রাচীন বাংলায় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পের বহু নিদর্শন ছিল। তাছাড়াও তৎকালীন বাংলায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!