তপুর হাতে মস্ত প্ল্যাকার্ডে লাল কালিতে লেখা ছিল 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। মিছিলটা হাইকোর্টের মোড়ে পৌছাতেই অকস্মাৎ আমাদের লোকগুলো চিৎকার করে পালাতে লাগল চারপাশে। ব্যাপার কী বুঝবার আগেই চেয়ে দেখি প্ল্যাকার্ডসহ লুটিয়ে পড়েছে তপু। কপালের ঠিক মাঝখানটায় গোল একটা গর্ত। আর সে গর্ত দিয়ে নির্ঝরের মতো রক্ত ঝরছে তার।

Updated: 4 months ago
উত্তরঃ

ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে বরকত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

বুঝি তাই উনিশশো উনসত্তরেও' বলতে কবি ১৯৫২ সালের মতো ব্যাপকভাবে আন্দোলনের কথা বুঝিয়েছেন।
১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এদেশের আপামর জনগণ আন্দোলনে ফুঁসে ওঠে। অধিকার আদায়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও তাঁরা কুণ্ঠিত হয় না। আর এ কারণেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলনের ক্রমধারায়ই ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে ব্যাপক গণ অভ্যুত্থান। 'বুঝি তাই উনিশশো উনসত্তরেও' বলতে কবি ভাষা আন্দোলনের মতো ১৯৬৯-এ ব্যাপকভাবে গড়ে ওঠা আন্দোলনকেই বুঝিয়েছেন

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

তপুর কপালের রক্ত 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার বাংলা ভাষার জন্য ভাষাশহিদদের জীবন উৎসর্গ করার স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করে আছে। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন - পূর্ববঙ্গে যে গণ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল কবিতাটি সেই পটভূমিতে রচিত। সেসময় জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। কবিতাটিতে এ আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কবি ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ মূর্ত করে তুলেছেন।
উদ্দীপকের তপু ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। সে মিছিলে পুলিশ নির্বিচার গুলিবর্ষণ করলে তপু গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার কপালের ঠিক মাঝখানে গুলিটি লেগেছিল। যার ফলে কপালে গর্ত হয়ে নির্ঝরের মতো রক্ত ঝরেছে। তার এই আত্মত্যাগ একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগ তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের এই দিকটিকে কবি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে কবি থরে থরে ফুটে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়ার সাথে ভাষা শহিদদের আত্মাহুতিকে তুলনা করেছেন। শুধু তাই নয়, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে ভাষা আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরেছেন তিনি। সংগত কারণেই উদ্দীপকের তপুর কপালের রক্ত আলোচ্য কবিতায় উল্লিখিত ভাষা শহিদদের জীবন উৎসর্গের স্মৃতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার আংশিকভাব ধারণ করে, পূর্ণভাব নয়।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববড়ো যে গণ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি সেই প্রেক্ষাপটকেই তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গে আলোচ্য কবিতাটির কবি ১৯৫২ সালের ভাষাআন্দোলনে শহিদদের আত্মদানের মাহাত্ম্য উপস্থাপন করেছেন। কবিতাটিতে তিনি ভাষা আন্দোলনের চেতনা উনসত্তরের গণজাগরণের প্রেরণা হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের তপু চরিত্রটি ১৯৫২ সালের সাহসী ভাষাসৈনিক। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয় সে। ভাষার জন্য তার এই আত্মত্যাগকে উদ্দীপকের লেখক তুলে ধরেছেন মমত্বের সঙ্গে। এভাবে তপুর মধ্য দিয়ে লেখক মূলত ভাষাশহিদদের অবদানকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালি আত্মপরিচয় লাভ করে। বাঙালির জাতীয় জীবনে তাই ভাষা আন্দোলন এবং তাতে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের অবদান অনস্বীকার্য।
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে ১৯৬৯ সালে। শহর ও গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। কবি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার অসাধারণ এক শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়। কবিতাটিতে দেশমাতৃকার প্রতি জন্তার বিপুল ভালোবাসা সংবর্ধিত হয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলনের দিকটি এসেছে গণ আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল ভাষা-আন্দোলনের দিকটিই আলোচিত হয়েছে। এ কবিতার উল্লিখিত অন্যান্য দিক সেখানে অনুপস্থিত। সংগত কারণেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
12

আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে 

কেমন নিবিড় হয়ে । কখনো মিছিলে কখনো-বা

 একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়-ফুল নয়, 

ওরা শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর । 

একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রংকে

এ-রঙের বিপরীত আছে অন্য রং, 

যে-রং লাগে না ভালো চোখে, যে-রং সন্ত্রাস আনে 

প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যায়- 

এখন সে রঙে ছেয়ে গেছে পথ-ঘাট, সারা দেশ 

ঘাতকের অশুভ আস্তানা ।

আমি আর আমার মতোই বহু লোক

রাত্রি-দিন ভূলুণ্ঠিত ঘাতকের আস্তানায়, কেউ মরা, আধমরা কেউ, 

কেউ বা ভীষণ জেদি, দারুণ বিপ্লবে ফেটে পড়া । চতুর্দিকে

মানবিক বাগান, কমলবন হচ্ছে তছনছ

বুঝি তাই উনিশশো উনসত্তরেও

আবার সালাম নামে রাজপথে, শূন্যে তোলে ফ্ল্যাগ,

বরকত বুক পাতে ঘাতকের থাবার সম্মুখে।

সালামের চোখ আজ আলোচিত ঢাকা,

সালামের মুখ আজ তরুণ শ্যামল পূর্ব বাংলা ।

দেখলাম রাজপথে, দেখলাম আমরা সবাই

জনসাধারণ

দেখলাম সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো মতো *

ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা |

আর বরকত বলে গাঢ় উচ্চারণে

এখনো বীরের রক্তে দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে

ফোটে ফুল বাস্তবের বিশাল চত্বরে

হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায় । সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ,

 শিহরিত ক্ষণে ক্ষণে আনন্দের রৌদ্রে আর দুঃখের ছায়ায় । [সংক্ষেপিত]

Related Question

View All
183
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews