পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। অরাজকতার এ সময়কালকেই পাল তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রাচীন বাংলার শক্তিশালী ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশ 'চন্দ্র বংশ' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
দশম শতকের শুরু থেকে একাদশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ বছর চন্দ্র বংশের রাজারা শাসন করেন। চন্দ্র বংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ও তার ছেলে সুবর্ণচন্দ্র সম্ভবত রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন। সুবর্ণচন্দ্রের ছেলে ত্রৈলোক্যচন্দ্র এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'। ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ, বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন পুত্র শ্রীচন্দ্র। তার শাসনামলে চন্দ্র বংশের প্রতিপত্তি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়। তার রাজ্য দক্ষিণ- পূর্ব বাংলা ছাড়াও উত্তর-পূর্ব কামরূপ ও উত্তরে গৌড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র ও পৌত্র লডহচন্দ্র এ বংশের গৌরব অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। তবে লডহচন্দ্রের পুত্র গোবিন্দচন্দ্রের সময়ে চোল ও কলচুরিরাজের আক্রমনে এ বংশের পতন ঘটে।
উদ্দীপকের তমাল বই পড়ে প্রাচীন এক রাজবংশ সম্পর্কে জানতে পারে যারা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ছিল। প্রায় ১৫০ বছর এ বংশ শাসন করলেও একাদশ শতকের শেষভাগে এ রাজবংশের পতন ঘটে। ঠিক একইভাবে উপরে আলোচিত চন্দ্ররাজবংশ দেড়শত বছর শাসন করেছিল এবং একাদশ শতকের শেষের দিকে এ বংশের পতন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শক্তিশালী ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশ 'চন্দ্র বংশ' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
তমালের জানা নতুন উদ্ভাবিত রাজবংশটি হলো 'বর্ম রাজবংশ'।
বর্ম উপাধিধারী এক রাজবংশ দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় একাদশ শতকের শেষভাগে। এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন জাতবর্মা। কলচুরিরাজ কর্ণের সাথে বর্মরা এদেশে এসেছিল বলে মনে করা হয়। পিতার মতো তিনিও ছিলেন কলচুরিরাজ গাঙ্গেয়দেব এবং কর্ণের সামন্তরাজ। কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় তিনি শ্বশুর কলচুরিরাজ কর্ণের সাহায্য ও সমর্থনে দক্ষিণ- পূর্ব বাংলায় স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। বর্মদের রাজধানী ছিল বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। জাতবর্মার পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হরিবর্মা একটানা ৪৬ বছর রাজত্ব করেন। পাল রাজাদের সাথে তিনি বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন। হরিবর্মা নাগাভূমি ও আসাম পর্যন্ত ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন। হরিবর্মার পর তার এক পুত্র রাজা হয়েছিলেন। তবে তার রাজত্বকালের কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তারপর জাতবর্মার পুত্র সামলবর্মা রাজা হন। সামলবর্মার পুত্র ভোজবর্মা ছিলেন বর্ম রাজবংশের শেষ রাজা। সম্ভবত দ্বাদশ শতকে সেনদের হাতে বর্মদের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে তমাল একটি বই পড়ে জানতে পারে একটি রাজবংশ ১৫০ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু একাদশ শতকের শেষভাগে বংশটি পতনের মাধ্যমে নতুন একটি বংশের উদ্ভব ঘটে। উক্ত নতুন রাজবংশের উদ্ভব উপরে আলোচিত 'বর্ম রাজবংশের' উদ্ভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, একাদশ শতকের শেষভাগে চন্দ্র বংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বর্ম রাজবংশের উদ্ভব ঘটেছিল।
Related Question
View Allখড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।
সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।
উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।
উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।
বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।
তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!