চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যায়ক্রমে সমুদ্রের পানিরাশির স্ফীতি ও অবনমনকে জোয়ারভাটা বলে।
গৌণ জোয়ারভাটা সৃষ্টিতে কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাব রয়েছে।
পৃথিবীর যে অংশে চন্দ্রের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার হয় তার বিপরীত দিকে প্রতিপাদ স্থানে পানির নিচে যে স্থলভাগ রয়েছে তা কেন্দ্রের সাথে সুদৃঢ়ভাবে সংযুক্ত। ফলে সে স্থানে চন্দ্রের আকর্ষণ কেন্দ্র প্রলের আকর্ষণ সমান। ফলে সেখানে জলভাগ থেকে স্থলভাগ কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় বেশি। এ সময় বিপরীত দিকের পানিরাশির উপর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায়। শুধু কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাবে আশেপাশের পানিরাশি সে স্থানে প্রবাহিত হয়ে গৌণ জোয়ারের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের প্রথম সময়ে পানির গর্জন সৃষ্টি হয়েছিল চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সৃষ্ট জোয়ারের ফলে যা ভরাকটাল নামে পরিচিত।
তরুণ ও কচি চন্দ্র মাসের শেষ দিনে অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে কুয়াকাটায় পানির গর্জন ও চাঁদের আলোয় পানির সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হয়েছিল। অর্থাৎ তখন ভরাকটাল সংঘটিত হয়েছিল। পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একদিকে সূর্য ও অন্যদিকে চন্দ্র থাকে এবং তারা সমসূত্রে অবস্থান করে। ফলে সূর্য ও চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি একই সাথে কার্যকরী হয়। এ দিনে চন্দ্রের আকর্ষণে যে স্থানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণেও সেই স্থানে জোয়ার হয়। তাই পূর্ণিমার রাত অর্থাৎ চন্দ্র মাসের শেষ দিনে ঐ স্থানে সমুদ্র এলাকায় প্রবল বেগে জোয়ার সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে প্রথম সময় চন্দ্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে সংঘটিত ভরাকটাল এবং দ্বিতীয় সময় তার ৭-৮ দিন পরে অর্থাৎ অষ্টমী তিথিতে মরাকটাল সংঘটিত হয়েছিল।
নিচে চিত্রের মাধ্যমে উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় সময়ের ঘটনা অর্থাৎ ভরাকটাল ও মরাকটালের চিত্র উপস্থাপনপূর্বক আলোচনা করা হলো

প্রথম ঘটনাটি পূর্ণিমার রাতের সামুদ্রিক আচরণ, যে সময় ভরাকটাল সংঘটিত হয়। এ সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। তখন তাদের মিলিত শক্তিতে জোয়ারভাটার প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে উভয়ের মিলিত শক্তিতে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয় ফলে ভরাকটালের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ঘটনাটি প্রথম ঘটনার ৭-৮ দিন পরে অর্থাৎ অষ্টমী তিথিতে সংঘটিত ঘটনা যা মরাকটাল নামে পরিচিত। ঐ সময় চন্দ্রের আলো কম থাকায় পানির গর্জনশক্তি কম থাকে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাথে একই সরলরেখায় অবস্থান না করে উভয়ে পৃথিবীর সাথে পরস্পর সমকোণে অবস্থান করে এবং পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। ফলে এ সময় চাঁদের আকর্ষণে চাঁদের দিকে ও বিপরীত দিকে জোয়ার এবং সূর্যের আকর্ষণে সূর্যের দিকে ও তার বিপরীত দিকে জোয়ার সংঘটিত হওয়ার কথা, কিন্তু দেখা যায় চাঁদের আকর্ষণে চাঁদের দিকে ও তার বিপরীত দিকে জোয়ার এবং সূর্যের দিকে ও সূর্যের বিপরীত দিকে ভাটা সংঘটিত হয়। এরূপ ঘটনাকে মরাকটাল বলে।
Related Question
View Allসমুদ্রের পানিরাশির একস্থান হতে অন্যস্থানে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়াই সমুদ্রস্রোত।
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি।
আহ্নিক গতির জন্য পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর সর্বদা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এ আবর্তনের জন্য সমুদ্রের উপরিভাগের তরল পানি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' স্রোত দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতকে নির্দেশ করে।
বেঙ্গুয়েলা স্রোত যখন নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিক দিয়ে সোজা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয় তখন তাকে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত বলে।
দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর প্রভাবে এ স্রোতের গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চলের উপর দিকে প্রবাহিত হয় বলে এটি একটি উষ্ণ স্রোত। এ স্রোতটি আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে এসে সেন্টরকে অন্তরীপে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। প্রথম ও প্রধান শাখাটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূল দিয়ে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে এবং পরে মেক্সিকো উপসাগরে পৌছে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতে পরিণত হয়। দ্বিতীয় শাখাটি দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল' দিয়ে প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের কথা বলা হয়েছে। যার দুটি স্রোত বিপরীত ধর্মী। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত সুমেরু শীতল স্রোত দুটি গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এ মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এ শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকট দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। এর একটি শাখা উপসাগরীয় স্রোতের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে এবং অপর শাখাটি উপসাগরীয় স্রোতের পশ্চিম পাশ দিয়ে উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল বেয়ে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের নীল পানি উত্তর-পূর্ব দিকে এবং তার পাশ দিয়ে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সবুজ পানি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। এ দুটি বিপরীত স্রোত পরস্পর বিপরীত দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভব তাদের স্রোতের সীমারেখা সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। এ দুটি স্রোতের মধ্যবর্তী সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে l
উত্তর মহাসাগর হতে ল্যাব্রাডর স্রোতের সাথে অনেক হিমশৈল ভেসে আসে। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সংস্পর্শে ঐ সব হিমশৈল গলে যায়। এর ফলে হিমশৈলের সাথে বাহিত কাদা, বালি প্রভৃতি সমুদ্রতলে সঞ্চিত হয়ে বৃহৎ মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে। নিউফাউল্যান্ডের নিকটবর্তী গ্র্যান্ড ব্রাঙ্ক এরূপে সৃষ্টি হয়েছে।
উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ওপর দিকে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়। অন্যদিকে ল্যাব্রাডর স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হয়। এ বিপরীতধর্মী দুই বায়ুর সংমিশ্রণে এ অঞ্চলে প্রায়ই কুয়াশা ও ঝড়-তুফান লেগে থাকে।
চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যায়ক্রমে সমুদ্রের পানিরাশির স্ফীতি ও অবনমনকে জোয়ারভাটা বলে।
চন্দ্রের আকর্ষণে পানি ফুলে ওঠাকে মুখ্য জোয়ার বলে।
চন্দ্র এক স্থানে স্থির থাকে না। তা পৃথিবীর চারদিকে সর্বদা ঘুরছে। আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এ আকর্ষণে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!