যিনি গাছগাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন তিনি হলেন কবিরাজ।
সংসারের অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে নিমগাছটির কবির সঙ্গে চলে যেতে হচ্ছে করে।
'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্নও নেয় না। একজন লোক এসে একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করে। এ লোকটি সৌন্দর্যপিয়াসী কবি। সে নিমগাছের প্রশংসা করে। তার প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক এখানে গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
(i) নং উদ্দীপকের সাথে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলা এবং নিমগাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
গাছ আমাদের প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। গাছের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়াও গাছ আমাদের মানবদেহেরও অনেক উপকার করে। তাই গাছের নিধন আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
(i) নং উদ্দীপকে গাছের প্রতি মানুষের অবহেলা এবং মানুষের প্রতি গাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে। গাছ আমাদের ছায়া দেয়, ফুল দেয়, ফল দেয়। এতকিছুর পরেও আমরা গাছের ডাল-পাতা ছিঁড়ে গাছকে কষ্ট দিই। গাছের তেমন কোনো যত্নও নিই না। উদ্দীপকে গাছের ছায়ায় বসে পথিক ক্লান্তি দূর করে, ফল খেয়ে তৃপ্তও হয়। আবার যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে যায়, গাছের কথা ভাবে না। অপরদিকে গাছও নীরবে সব সহ্য করে। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানান গুণের কথা বলা হয়েছে। নিমগাছ বাড়ির পেছনে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন, কারণ এর অনেক গুণ রয়েছে। আবার অনেকে বলে নিমের হাওয়াও অনেক উপকারী। অথচ কেউ গাছটির যত্ন নেয় না। অবহেলায়-অনাদরে বেড়ে উঠতে থাকে নিমগাছ। যার যেভাবে উপকার নেওয়া দরকার সে নেয়, বিনিময়ে গাছের যত্ন কেউ করে না। এভাবে (i) নং উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
না, উদ্দীপক (ii) 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেনি।
সাধারণভাবে আমাদের সমাজের নারীরা আমাদের পরিবারকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দান করে। কিন্তু বিনিময়ে তারা অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া কিছুই পায় না। অথচ তাদেরও চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
উদ্দীপক (ii)-এ নদী, বৃক্ষ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, মেঘ ও সাধুর কথা বলা হয়েছে। যারা অন্যের জন্য সদা নিবেদিত। কবিতাংশটির মধ্য দিয়ে মূলত প্রকাশ পেয়েছে যে পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের চরম ও পরম সার্থকতা। মহৎ ব্যক্তিরা পরের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেন। যেমন করে 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মী বধূটি তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করে সংসারের সবার জন্য। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য গল্পে গৃহবধূটির অবহেলার শিকার হওয়া এবং নিমগাছের সৌন্দর্যে কবির মুগ্ধ হওয়ার বিষয়ও প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য গল্প উভয় জায়গায় পরার্থপরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের রূপকে লেখক গৃহবধূর সৌন্দর্য, তার সংসারে উপেক্ষিত হওয়ার দিকটিও তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপক ii-এ প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক (ii) আলোচ্য গল্পের সমগ্র ভাব তুলে ধরেনি।
Related Question
View Allনিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবিরাজরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!