(ⅰ) "তরুতলে বসি পান্থ শ্রান্তি করে দূর

ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর।

বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙ্গে লয়,

তরু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়।

(ii) নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,

তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল, 

গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান

কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান, 

স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত

বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত, 

শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে

সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

যিনি গাছগাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন তিনি হলেন কবিরাজ।

উত্তরঃ

সংসারের অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে নিমগাছটির কবির সঙ্গে চলে যেতে হচ্ছে করে।

'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্নও নেয় না। একজন লোক এসে একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করে। এ লোকটি সৌন্দর্যপিয়াসী কবি। সে নিমগাছের প্রশংসা করে। তার প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক এখানে গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।

উত্তরঃ

(i) নং উদ্দীপকের সাথে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলা এবং নিমগাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

গাছ আমাদের প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। গাছের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়াও গাছ আমাদের মানবদেহেরও অনেক উপকার করে। তাই গাছের নিধন আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

(i) নং উদ্দীপকে গাছের প্রতি মানুষের অবহেলা এবং মানুষের প্রতি গাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে। গাছ আমাদের ছায়া দেয়, ফুল দেয়, ফল দেয়। এতকিছুর পরেও আমরা গাছের ডাল-পাতা ছিঁড়ে গাছকে কষ্ট দিই। গাছের তেমন কোনো যত্নও নিই না। উদ্দীপকে গাছের ছায়ায় বসে পথিক ক্লান্তি দূর করে, ফল খেয়ে তৃপ্তও হয়। আবার যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে যায়, গাছের কথা ভাবে না। অপরদিকে গাছও নীরবে সব সহ্য করে। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানান গুণের কথা বলা হয়েছে। নিমগাছ বাড়ির পেছনে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন, কারণ এর অনেক গুণ রয়েছে। আবার অনেকে বলে নিমের হাওয়াও অনেক উপকারী। অথচ কেউ গাছটির যত্ন নেয় না। অবহেলায়-অনাদরে বেড়ে উঠতে থাকে নিমগাছ। যার যেভাবে উপকার নেওয়া দরকার সে নেয়, বিনিময়ে গাছের যত্ন কেউ করে না। এভাবে (i) নং উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তরঃ

না, উদ্দীপক (ii) 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেনি।

সাধারণভাবে আমাদের সমাজের নারীরা আমাদের পরিবারকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দান করে। কিন্তু বিনিময়ে তারা অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া কিছুই পায় না। অথচ তাদেরও চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।

উদ্দীপক (ii)-এ নদী, বৃক্ষ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, মেঘ ও সাধুর কথা বলা হয়েছে। যারা অন্যের জন্য সদা নিবেদিত। কবিতাংশটির মধ্য দিয়ে মূলত প্রকাশ পেয়েছে যে পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের চরম ও পরম সার্থকতা। মহৎ ব্যক্তিরা পরের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেন। যেমন করে 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মী বধূটি তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করে সংসারের সবার জন্য। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য গল্পে গৃহবধূটির অবহেলার শিকার হওয়া এবং নিমগাছের সৌন্দর্যে কবির মুগ্ধ হওয়ার বিষয়ও প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য গল্প উভয় জায়গায় পরার্থপরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের রূপকে লেখক গৃহবধূর সৌন্দর্য, তার সংসারে উপেক্ষিত হওয়ার দিকটিও তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপক ii-এ প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক (ii) আলোচ্য গল্পের সমগ্র ভাব তুলে ধরেনি।

563

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে। পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ! কেউবা ভাজছে গরম তেলে । খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে । কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে । এমনি কাঁচাই ...
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ ।
কিম্বা ভেজে বেগুন-সহযোগে ।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক দাঁত ভালো থাকে । কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ । বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
বলে- “নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না ৷'
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না ।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয় কেউ— সে আর-এক আবর্জনা । হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো ।
মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু ।
বলে উঠল,– ‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি ... কী রূপ ! থোকা থোকা ফুলেরই বা কী বাহার.... একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাহ্-' খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল ।
কবিরাজ নয়, কবি ।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না। মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews