পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত একটি শিক্ষামূলক ছোটোগল্প হলো 'জিদ'। এ গল্পে অনাবশ্যক জিদের কারণে মানুষের জীবনে সৃষ্ট জটিলতার স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে রূপায়িত হয়েছে তাঁতিদের জীবনে অভাবের চিত্র। আগেকার দিনে তাদের উপার্জন ভালো হলেও বর্তমানে কাপড়ের কল বসানোর কারণে তাদের উপার্জন অনেক কমে গিয়েছে। ফলে তাদেরকে ঘিরে ধরেছে সীমাহীন অভাব।
'জিদ' গল্পে এক তাঁতি ও তার বউয়ের অভাবের সংসারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাঁতিদের জীবন আগে বেশ স্বচ্ছলভাবে চললেও বর্তমানে তাদের অভাবের সীমা নেই। আগে তারা নানারকম নকশার নকশি-শাড়ি তৈরি করত। সেসব শাড়িতে ছিল সূক্ষ্ম সুতার বুনন। বিভিন্ন স্থানের বাদশাজাদি ও নবাবজাদিরা এসব শাড়ি কিনত। ফলে তাঁতিদের উপার্জনও হতো অনেক বেশি। কিন্তু বর্তমানে শহরে কাপড়ের কল বসানোর কারণে তাদের উপার্জন কমে গিয়েছে। এখন তারা কোনোমতে দিনাতিপাত করে। ইচ্ছামতো খাবার কিনে খেতে পারে না। তারা শুধু শাকসবজি আর ভাত খেয়ে জীবন কাটায়। তাও সেই শাক-ভাতও পেট পুরে খাওয়া হয় না। তাদের আধ-পেট খেয়ে দিন কাটাতে হয়। কাপড়ের কল চালু হওয়ার পর অভাব তাঁতিদেরকে এমনভাবে ঘিরে ধরল যে তারা পথের ভিখারির মতো জীবনযাপন করতে লাগল। গল্পে তাঁতির বউয়ের মাছ খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে যেন তাদের এ অভাব আরও প্রকট আকারে প্রকাশ পায়। বউয়ের জন্য তাঁতি বহু কষ্টে তিনটি ছোটো মাছ কিনে নিয়ে গেলে বউ তা দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়।
'জিদ' গল্পে জসীমউদ্দীন তাঁতিদের জীবনের অভাবকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন। মানুষ দারিদ্র্যের চরম পর্যায়ে পৌছালে তাকে ক্ষুধায় কষ্ট পেতে হয়। 'জিদ' গল্পে তাঁতি সম্প্রদায় সেই ক্ষুধার কষ্টই সহ্য করছে। এছাড়া তাদের সার্বিক জীবনাচরণেও অভাবের প্রকট রূপ প্রস্ফুটিত হয়।
সুতরাং, উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, তাঁতি ও তার বউয়ের খাওয়ার কষ্ট ও সাংসারিক টানাপোড়েনের মাধ্যমে 'জিদ' গল্পে তাঁতিদের জীবনে অভাবের চিত্র রূপায়িত হয়েছে।
Related Question
View Allপাড়ার লোকেরা তাঁতির দরজায় এসে ডাকাডাকি আরম্ভ করল।
তাঁতি ও তাঁতির বউকে না দেখে পাড়ার লোকেরা অস্থির হয়ে উঠল।
'জিদ' গল্পে পাড়ার লোকেরা তাঁতিকে না দেখে বলাবলি করে, 'আরে 'ভাই! আজ তাঁতি আর তাঁতির বউকে দেখিতেছি না কেন? তাদের বাড়িতে তাঁতের খটর-খটরও শুনি না, চরকার ঘড়র-ঘড়রও শুনি না। কোনো অসুখ-বিসুখ করিল নাকি? আহা! তাঁতি বড়ো ভালো মানুষটি। বেচারা গরিব হইলে কী হয়, কারো কোনো ক্ষতি করে নাই কোনোদিন।'
উদ্দীপকটি 'জিদ' গল্পের তাঁতির অভাব-অনটনের দিকটিকে নির্দেশ করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। এ সময় মানুষের জীবনে নানা সমস্যা-সংকট নেমে আসে।
উদ্দীপকে দুর্যোগে আটকে পড়া এক চাষির জীবনের করুণ অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। অনেক দিন ধরে চলা দুর্যোগের কারণে চাষি দারুণ অভাবে পড়ে। উপোস করে সে বেশি দিন চলতে পারে না। ফলে একে একে সে তার ভেড়া, ছাগল, ষাঁড় সব জবাই করে খেতে বাধ্য হলো। উদ্দীপকের চাষির এই অভাবের দিকটি 'জিদ' গল্পে তাঁতির অভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিদেশি বণিকরা শহরে কাপড়ের কল বসালে তাঁতির জীবনে অভাব নেমে আসে। কলের তৈরি কাপড় সন্তা-টেকসই, যেখানে সেখানে পাওয়া যায়। তাই তাঁতির কাপড় কেউ কিনতে চায় না। তাঁতি নকশি-শাড়ি বিক্রি করতে না পেরে হাট থেকে ফিরিয়ে আনে। তার সংসারে ভীষণ অভাব নেমে আসে।
"মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'জিদ' গল্পের মূলভাব এক নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে সংসারে অভাবে দেখা দেয়। অভাবের সংসারে মানুষ ইচ্ছা থাকলেও উপায় করতে পারে না। এমনকি প্রয়োজনীয় খাদ্যও জোগাড় করতে পারে না।
উদ্দীপকে এক চাষির জীবনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে চাষি বাড়িতে আটকে পড়ে অভাবের শিকার হয়! উপোস করে চলতে না পেরে সে তার ভেড়া, ছাগল, ষাঁড় জবাই করে ক্ষুধা নিবারণ করেছে। এ দিকটি 'জিদ' গল্পের তাঁতির অভাবের দিকটিকে নির্দেশ করেছে। এ বিষয়টি ছাড়া এই গল্পের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে নেই। 'জিদ' গল্পে বিদেশি বণিকদের শহরে কাপড়ের কল স্থাপন করার ফলে তাঁতির অভাবে পড়া এবং তা থেকে উত্তরণে তাঁতির চেষ্টার দিকটি উদ্দীপকে নেই।
'জিদ' গল্পে তাঁতি তার বউয়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে বাজার থেকে তিনটি মাছ কিনে আনলে তাঁতিবউ তা শখ করে রান্না করে। দুটি মাছ কে খাবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় তারা চুপ করে থাকবে, যে আগে কথা বলবে সে-ই একটি খাবে, অন্যজন দুটি খাবে। এটি নিয়ে তারা দুজনে জিদ করে কথা বলা বন্ধ রাখে। এতে না খেয়ে তাদের মরে যাওয়ার জোগাড় হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকে নেই। অনাবশ্যক জেদ যে মানুষের জীবনকে জটিল করে তোলে এবং অন্যকে সমস্যায় ফেলে এ বিষয়টি 'জিদ' গল্পে থাকলেও উদ্দীপকে নেই। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ঘোড়ার গায়ে জোরে জোরে চাবুক মারেন মোল্লা সাহেব।
'তুই দুইটা খা, আমি একটা খাব'- তাঁতি এ কথা তার বউকে বলেছিল।
'জিদ' গল্পে দুটি মাছ খাওয়ার জন্য তাঁতি ও তাঁতির বউ জিদ করে কথা বলা বন্ধ করে এবং সব কাজকর্ম ছেড়ে ঘরে পড়ে থাকে। পাড়ার লোকেরা ঘরের দরজা ভেঙে তাদেরকে মড়ার মতো পড়ে থাকতে দেখে। তাঁতি এবং তাঁতিবউ মারা গেছে ভেবে পাড়ার লোকেরা তাদের গোসল করিয়ে কবরে শোয়ায়। তখনও তারা জিদ করে কথা বলে না। এক পর্যায়ে লোকেরা তাদের বুকের ওপর বাঁশ চাপিয়ে দিয়ে তার ওপর কোদাল দিয়ে মাটি ফেলতে শুরু করে। তখন তাঁতি বাঁশ-খুঁটিসহ লাফিয়ে ওঠে এবং তার বউকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
