বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষকে ট্রাক ফার্মিং বলে।
বাংলাদেশের অর্থকরী ফসরের মধ্যে চা অন্যতম।
বাংলাদেশে, বর্তমানে ১৬৩টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় সর্বাধিক ৯০টি, হবিগঞ্জে ২৩টি এবং সিলেটে ১৯টি চা বাগান রয়েছে। এ দেশের ৮০ ভাগ চা এসব বাগানেই উৎপন্ন হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ২২টি, রাঙামাটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি করে ২টি এবং পঞ্চগড়ে ৭টি চা বাগান আছে। ২০০০ সালে পঞ্চগড়ের ডাহুক নদীর তীরে প্রথম চা চাষ শুরু হয়। বাংলাদেশে একমাত্র পঞ্চগড় জেলাই সমতল ভূমিতে চায়ের চাষ হয়।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পঞ্চগড় চা উৎপাদনকারী অঞ্চল।
নিচে বাংলাদেশের পূর্ণ মানচিত্র অঙ্কন করে চা উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা হলো-

উদ্দীপকে তাইবার বাবার কর্মরত এলাকাটি হলো সিলেট বিভাগ যাকে চা উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে ১৩২টি সিলেট বিভাগে অবস্থিত এবং দেশের সিংহভাগ চা এখানেই উৎপন্ন হয়। সিলেট বিভাগকে চা উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
চা উৎপাদনের জন্য বার্ষিক প্রায় ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং হতে সেলসিয়াস উত্তাপের প্রয়োজন। চা গাছের গোড়ায় পানি, জমে থাকে না এরূপ পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চায়ের চাষ হয়। চারা রোপণ, গাছের যত্ন নেওয়া, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, চায়ের আবাদ, তত্ত্বাবধান, পাতা তোলা, পাতা শুকানো, সেঁকা, বাক্সবন্দি করা ইত্যাদি কাজের জন্য দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক প্রয়োজন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চা সরবরাহের জন্য সুলভ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যাবশ্যক। চাহিদামতো মূলধন সরবরাহের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সুব্যবস্থা প্রয়োজন। এসব উপাদান সিলেট বিভাগে বিদ্যমান থাকায় সমগ্র বাংলাদেশে ১৬৩টি বাগানের মধ্যে ১৩২টি এখানে গড়ে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের সিংহভাগ চা সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। আর এ কারণেই সিলেট বিভাগকে চা উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
Related Question
View Allভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উপাদন করাকে কৃষি বলে।
যে কৃষি ব্যবস্থায় একই জমিতে বাণিজ্যিক পশুপালন ও মৎস্য চাষ এক সাথে করাকে মিশ্র কৃষি বলে।
এ ধরনের কৃষি ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে লক্ষ করা যায়। এ ব্যবস্থায় কৃষক একই জমি হতে শুধু ফসলই নয়; বরং মাংস, দুধ, মাখন ইত্যাদিও লাভ করে থাকে। মোটর ও রেলযোগে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় উক্ত পণ্যাদি শহরে দ্রুত প্রেরিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে শস্য-১ বলতে ধানকে বোঝানো হয়েছে। ধান
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য যা সারা বিশ্বব্যাপি উৎপদিত হয়। তবে 'এশিয়া মহাদেশে ধানের ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, জাপান প্রভৃতি দেশ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে চীন প্রথম ও' ভারত দ্বিতীয়। নিচে এশিয়া মহাদেশে ধানের উৎপাদনের একটি তালিকা দেখানো হলো-
সারণি ৪.১ : পৃথিবীর প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ, ২০১৯
দেশ | উৎপাদন (মিলিয়ন মেট্রিক টন) |
২০১৯ | |
চীন | ১৪৮.৫ |
ভারত | ১১৬.৪২ |
ইন্দোনেশিয়া | ৩৬.৭ |
বাংলাদেশ | ৩৪.৯১ |
ভিয়েতনাম | ২৭.৭৭ |
থাইল্যান্ড | ২০.৩৪ |
মিয়ানমার | ১৩.২ |
ফিলিপাইন | ১১.৭৩ |
জাপান | ৭.৬৬ |
ব্রাজিল | ৭.১৪ |
Source: FAO Statistical Yearbook, 2019
এছাড়া এশিয়ার মধ্যে মালায়শিয়া। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, কম্বোডিয়। তাইওয়ান নেপাল, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলেও ধান উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে শস্য-২ হলো গম। গম সারা বিশ্বের প্রধান খাদ্য শস্য।
তাই অর্থনৈতিকভাবেও গম খুব গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। নিচে গমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গম সব ধরনের খাদ্যশস্যের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের প্রায় ৪৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম বিশ্ব বাজারে রপ্তানি হয়। গম উৎপাদনকারী প্রধান দেশসমূহের প্রায় অধিকাংশই কমবেশি গম আমদানি করে ও থাকে। সুতরাং রপ্তানিকারক দেশের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই মুষ্টিমেয় রপ্তানিকারক দেশের ইচ্ছা মোতাবেক গমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় থাকে। ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম আমদানি হয়। এ কারণে গমের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। গমের প্রধান প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো হলো রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইউক্রেন, রোমানিয়া, জামার্নি রাজখিস্তান। এদের মধ্যে রাশিয়া প্রথম ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়। গমের প্রধান প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইতালি ব্রাজিল, মিসর, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও তুরষ্ক। এদের মধ্যে মিসর প্রথম ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয়।
পরিশেষে বলা যায় গম বিশ্ব বাজারে প্রধান চাহিদাসম্পন্ন খাদ্যশস্য। তাই সারাবিশ্বের আমদানি ও রপ্তানিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে এ পণ্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি বলে।
উত্তর আমেরিকার কানাডার দক্ষিণাংশ হতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে ওকলাহোমা ও মিসৌরি রাজ্য পর্যন্ত সমগ্র প্রেইরী অঞ্চলকে পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
রুটি প্রস্তুতের উপযোগী উন্নতমানের এত অধিক গম পৃথিবীর অন্য কোনো অঞ্চলে উৎপাদিত হয় না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গম উৎপন্ন হয় বলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ গমই রুটি প্রস্তুতের জন্য দেশ-বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ কারণে উত্তর আমেরিকার এ অঞ্চলকে পৃথিবীর 'রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!