মৌলিক ইবাদত চারটি- সালাত, জাকাত, সাওম ও হজ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের অধিকারকে বোঝায়। মানুষের ওপর দুই ধরনের হক রয়েছে। যথা- আল্লাহর হক ও বান্দার হক। বান্দার হক বলতে মা, বাবা, ভাই, বোন, আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সমাজের ও দেশের অন্যান্য মানুষের প্রতি যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তাকে বোঝায়। অন্যকে কথা ও কাজের মাধ্যমে কষ্ট না দেওয়া এবং অন্যের উপকার সাধন করাও বান্দার হকের অন্তর্ভুক্ত। এমনিভাবে আল্লাহর অন্যান্য মাখলুকের সেবা করার মাধ্যমে বান্দার হক পালন করতে হবে। | আর এগুলোতেই হাক্কুল ইবাদ বলা হয়।
সালাত বর্জন করে তাজুল ইসলাম হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক বর্জন করেছেন। ইসলামের ধর্মীয় কাঠামো যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সালাত তার মধ্যে দ্বিতীয়। সালাত বাদ দিয়ে ইসলামকে কল্পনা করা অসম্ভব। যে সালাত থেকে বিরত থাকে সে মূলত ইসলামকেই অস্বীকার করে। তাজুল ইসলাম এর মধ্যে এই আবশ্যক ইবাদতটি থেকে বিরত থাকার দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়। তাজুল ইসলাম মনে করেন মুসলমান হওয়ার জন্য সালাত আদায় জরুরি নয়। এ কারণে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকেন। অথচ আমরা জানি, সালাত একটি ফরজ ইবাদত। কুরআন মাজিদের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ তায়ালা সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, “তোমরা সালাত কায়িম করো।” আল্লাহর এ নির্দেশ পালন করা ফরজ। এ কারণে রাসুল (স)ও ব্যাপকভাবে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ অমান্য করে তাজুল ইসলাম মূলত একটি ফরজ ইবাদত তথা আল্লাহর হক বর্জন করেছেন।
সালাত আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ইবাদত অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহের মধ্যে সালাত হলো সর্বোত্তম। এটি এমন একটি ইবাদত, যা মানুষকে আল্লাহর দাস হিসেবে প্রকাশ করে। তাজুল ইসলামের পিতার উক্তিতে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।
তাজুল ইসলামের পিতা সালাতকে বান্দার আনুগত্য প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন। প্রকৃতপক্ষেই নামাজ মানুষকে আল্লাহর সান্নিধ্যে উপনীত করে। সালাতের শুরুতেই ব্যক্তি ঘোষণা দেয়, “নিশ্চয়ই আমি একমুখী হয়ে আমার সবকিছু সেই সত্তার সমীপে পেশ করছি যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।” এ ঘোষণার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজস্ব পদ, পরিচয় বাদ দিয়ে আল্লাহর সামনে নিষ্ঠা ও আনুগত্য নিয়ে দাঁড়ায়। এভাবে আল্লাহর কুদরতি চরণে প্রতিটি রুকু-সিজদায় সে বিনয়ে অবনত হয়। তার আত্মসম্মান, অহংকার আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্বের কাছে সমর্পিত হয়। সালাত ছাড়া অন্য কোনো ইবাদতে আল্লাহর আনুগত্যের বিষয়টি এমন স্পষ্ট করে ধরা পড়ে না।
উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, নামাজ মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার সুযোগ করে দেয়। এ কারণে তাজুল ইসলামের পিতার মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!