পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশের নাম হলো- আফ্রিকা মহাদেশ।
কোনো ভূখণ্ড যখন রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত হয় ও একক রাজনৈতিক সত্তায় স্বাধীন রূপ লাভ করে তাকে রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক অঞ্চল বলা হয়।
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঞ্চল বলতে জল, স্থল এবং অন্তরীক্ষের বিভিন্ন পরিসরকে বোঝায়। একটি রাজনৈতিক অঞ্চলে কোনো ভূখণ্ডের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের পথ সুগম হয়। এতে সমন্বিত ভূমি ব্যবহার সহজতর হয় এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। সেই সাথে এর মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জনগোষ্ঠীর সামাজিক অধিকার সুনিশ্চিত করাও সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তানজিমের ভ্রমণকৃত দেশটি সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ জাপান। পৃথিবীর শিল্পোন্নত এ দেশটিতে নগর বসতির প্রাধান্য দেখা যায়। নগর বসতির অধিকাংশ অধিবাসী প্রত্যক্ষ ভূমি ব্যবহার ব্যতীত অকৃষিকাজে নিয়োজিত থাকে। তারা সাধারণত দ্রব্যাদির শিল্পজাতকরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, প্রশাসন, শিক্ষা ও সেবাসংক্রান্ত প্রভৃতি পেশায় নিয়োজিত থাকে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বদ্বীপ খ্যাত দেশ জাপানে পাকা রাস্তাঘাট, দালানকোঠা ও আকাশচুম্বী অট্টালিকার প্রাধান্য রয়েছে। এছাড়া উক্ত দেশে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, নার্সিংহোম, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বসতি নানা অংশে বিভক্ত হয়ে মানুষের জীবনযাপনকে সহজ, আরামদায়ক ও উপভোগ্য করছে।
উদ্দীপকে তানজিমের নিজ দেশ হলো বাংলাদেশ এবং ভ্রমণকৃত দেশ হলো জাপান। ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু ভিন্ন হওয়ায় এ দুই দেশের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশে শিল্পের পরিবেশ তেমন উন্নত নয়। তাই এ দেশ শিল্পে সমৃদ্ধ নয়। তবুও বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকার কারণে এ দেশে ছোট বড় অনেক শিল্প গড়ে উঠেছে। পাট, বস্ত্র, চিনি, সিমেন্ট, সার, পোশাক শিল্প এ দেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প। বাংলাদেশে প্রচুর আখ উৎপন্ন হওয়ায় চিনি শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশের কয়েকটি স্থানে চুনাপাথর আবিষ্কৃত হওয়ায় সিমেন্ট শিল্প কিছুটা উন্নত হয়েছে। এভাবে বিভিন্নভাবে কাঁচামালের লভ্যতার কারণে এদেশে বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে। তবে এদেশ পোশাক শিল্পে বেশ উন্নত। সস্তা শ্রমিক ও কাঁচামালের সহজপ্রাপ্ততার কারণে এ দেশে পোশাক শিল্প বেশ উন্নতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে পোশাক শিল্পই প্রথম।
অন্যদিকে জাপান এশিয়া মহাদেশের 'উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। জাপানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময়। জাপানের পরিবেশ শিল্পের জন্য অনুকূল হওয়ায় এ দেশ একটি শিল্পোন্নত দেশ। আর্দ্র জলবায়ু, সুলভদক্ষ শ্রমিক, পর্যাপ্ত পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন সুবিধা, পর্যান্ত মূলধন সরবরাহের উৎসাহ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এদেশের শিল্পকে আরও উন্নত করেছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে এদেশের শিল্পজাত পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এছাড়া অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিরও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কাঁচামালের সহজল্যতার দরুন এদেশে কার্পাস ও বয়ন, রেশম, লৌহ-ইস্পাত, জাহাজ, কাগজ প্রভৃতি শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ায় এদেশে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শিল্পও গড়ে উঠেছে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন পরিবেশের ভিন্নতায় তানজিমের নিজ দেশ বাংলাদেশ ও ভ্রমণকৃত দেশ জাপানে ভিন্ন ভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭.৫৭০ বর্গ কি.মি.।
যেসব অঞ্চল দিয়ে ক্রান্তীয় রেখা অতিক্রম করেছে তাকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ বলে।
বাংলাদেশের উপর দিয়ে ২৩.৫° কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। তাই বাংলাদেশকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ বলে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশটি হলো-যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ও সর্ববৃহৎ অংশ উত্তরে কানাডার সীমানা হতে দক্ষিণে মেক্সিকো এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের তীর হতে পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ অংশটি ২৫° উত্তর হতে ৪৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।
আবার আলাস্কার অংশটি বেরিং সাগর ( পশ্চিম দ্রাঘিমা) হতেপশ্চিম দ্রাঘিমা পর্যন্ত এবং উত্তর অক্ষাংশ হতে দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। অন্যদিকে হাওয়াই পূর্ব-পশ্চিমে পশ্চিম দ্রাঘিমা এবং উত্তর-দক্ষিণে হতে উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। দেশটির মোট আয়তন ৯৮,২৬,৬৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশ দুটি হলো যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। উভয় দেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যে কিছু পার্থক্য বিরাজ করে। নিচে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শাসন-ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা 'হলো :
যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রীয় নাম ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা। আইনসভা দ্বিকক্ষিক। নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং এর সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষ হচ্ছে সিনেট এবং এর সদস্যসংখ্যা ১০০। ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮ বছর। ১৭৮৭সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিমকোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। এর কেন্দ্রীয় আইনসভার নাম কংগ্রেস।অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য প্রকৃত বিচারে সংসদীয় গণতন্ত্রব্যবস্থা বিদ্যমান। এর আইনসভার নাম পার্লামেন্ট। আইনসভা দুই স্তরবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্স যার সদস্যসংখ্যা ৬৫০, সকলেই নির্বাচিত। উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস। যুক্তরাজ্যে সংবিধান সময়ের ব্যবধানে কিছু কিছু লিখিত হলেও অধিকাংশই প্রচলিত নীতি ও প্রথানির্ভর।
পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম হলো অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ।
যে সমস্ত রাজনৈতিক অঞ্চলের কেবল নামীয় পরিচিতি রয়েছে সেগুলোকে নামীয় অঞ্চল বলে।
মহাদেশ ও মহাদেশের অংশবিশেষ নামীয় অঞ্চলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
যেমন- এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ইউরেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি এলাকাও নামীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। নামীয় অঞ্চলের সীমানা সুনির্দিষ্ট নয় এবং এসব অঞ্চলের একক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও থাকে না; যেমন- এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার কোনো রাজধানী নেই। তাই বলা যায় নামীয় অঞ্চলের সীমানা সুনির্দিষ্ট নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!