না, তানিশা ও তার বাবার দেখা প্রত্ননিদর্শন দুটি একই শহরের সাথে সম্পর্কিত নয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্ননিদর্শন পানাম নগর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত এবং আহসান মঞ্জিল ঢাকায় অবস্থিত। উদ্দীপকে তানিশা তার বাবার সাথে যে ঐতিহাসিক স্থান দেখতে যায় তার দুপাশে মিলিয়ে মোট ৫২টি ইমারত রয়েছে। যেটি সুলতানি আমলের রাজধানী সোনারগাঁও। অপরদিকে তার মা ও ছোট ভাই যে প্রত্ননিদর্শন দেখতে যায় সেটি ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। এটি ছিল মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসার কেন্দ্র। উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীরা পানামের মূল সড়কের দুইপাশে সারিবদ্ধভাবে অনেক ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। দুপাশে রয়েছে ৫২টি ইমারত। এছাড়াও এখানে রয়েছে লোকশিল্প জাদুঘর। অপরদিকে আহসান মঞ্জিল ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ঢাকার নওয়াবদের তৈরি প্রাচীন স্থাপত্যশিল্প। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর। এতে ঢাকার নবাবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও পোশাক সংরক্ষিত রয়েছে। এটি ঢাকার বিখ্যাত প্রাচীন নিদর্শন।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!