শিশুর মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট হওয়াই হলো মাইক্রোসেফালি।
ডাউন সিনড্রোম হলো বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার সাথে সম্পর্কিত এক ধরনের রোগ।
ডাউন সিনড্রোমে মুখমণ্ডল গোলাকার, চোখ তীর্যক ও চোখের পাতা পুরু হয়। এ রোগে আক্রান্ত শিশু জন্মের সময় দুর্বল ও শিথিল থাকে। তাদের হাত-পা ও ঘাড় খাটো হয়। এ ধরনের শিশুদের উপুড় হতে, বসতে ও হাঁটতে দেরি হয়। এরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়।
আফরা বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা হচ্ছে এক ধরনের অক্ষমতা এবং এটি স্থায়ী প্রকৃতির। বৃদ্ধি প্রতিবন্ধিতার কোনো চিকিৎসা নেই। তবে উপযুক্ত যত্ন ও শিক্ষণের মাধ্যমে অনেক শিশুর আচরণের উন্নয়ন ঘটানো যায়। কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেখে সাধারণভাবে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্ত করা যায়। যেমন-
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের হাঁটা, চলা, বসা, কথা বলা ইত্যাদি বিকাশগুলো বয়সের তুলনায় কম হয়। কোনো বিষয়ে এই ধরনের শিশুরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। কোনো নির্দেশনা সহজে বুঝতে পারে না। একই নির্দেশ বার বার দিতে হয়। শিশু কোনো শিক্ষা সহজে গ্রহণ করতে পারে না। এমনকি মল-মূত্র ত্যাগের শিক্ষা সহজে গ্রহণ করতে পারে না। এরা সূক্ষ্ম কোনো কাজ করতে পারে না এরা অবাঞ্ছিত আচরণ করে। এ ধরনের শিশুরা সমবয়সীদের সাথে মিশতে পারে না এবং সামাজিক আচরণ ঠিকমতো করতে পারে না এরা ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে যায় বা খিচুনি হয়। আফরা কোনো কথাই সহজে বুঝতে পারে না, সমবয়সীদের সাথে মিশতে পারে না , মাঝে মাঝে সে অজ্ঞান হয়ে যায় তার এসকল বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি প্রতিবন্ধিতার লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আফরা বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু।
প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের জন্য ডাক্তার তানিয়াকে শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণগুলো বুঝিয়ে বললেন। বিভিন্ন কারণে একটি শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে। যেমন- জন্মের পূর্বকালীন কারণ, শিশু জন্মের সময়ের কারণ, শিশু জন্মের পরবর্তী কারণ।
জন্মের পূর্বকালীন কারণ: মায়ের বিভিন্ন রোগ যেমন- জার্মান হাম, চিকেনপক্স, মাম্পস, যক্ষ্মা ইত্যাদি হলে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, গর্ভবর্তী মা যদি দীর্ঘদিন রক্তস্বল্পতায় ভোগে, পুষ্টিকর খাবার না খায়, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খায়, ঘন ঘন খিঁচুনি হয়, মায়ের বয়স অপরিণত বা ৩৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। গর্ভের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এক্স-রে করলে, মা-বাবার রক্তের Rh উপাদানে সমস্যা থাকলেও শিশু পক্ষাঘাত গ্রস্ত হতে পারে। শিশুর জন্ম সময়কাল দীর্ঘ হলে, শিশুর গলায় নাড়ি পেঁচানোর কারণে বা শিশুর জন্মের পর পরই শ্বাস নিতে অক্ষম হলে এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার জন্য মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শিশু বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। জন্মের সময় মস্তিষ্কে কোনো আঘাত যেমন- পড়ে যাওয়া বা মাথায় চাপ লাগা ইত্যাদি প্রতিবন্ধিতার কারণ হতে পারে। নবজাতক জন্ডিসে আক্রান্ত হলে অর্থাৎ রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে, তবে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি হয় এবং শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী হয়। শৈশবে শিশু যদি হঠাৎ পড়ে যায়, মস্তিষ্কে আঘাত পায় বা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে শারীরিক ও' মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পুষ্টিকর উপাদানের অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হয় এবং শিশু মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। তানিয়া ৩৬ বছর বয়সে প্রথমবার মা হতে চলেছে। তার গর্ভের শিশু যাতে প্রতিবন্ধী না হয় একারণে ডাক্তার তাকে প্রতিবন্ধিতার কারণগুলো বুঝিয়ে বললেন।
Related Question
View Allমা ও সন্তানের Rh উপাদানের মিল না থাকাকে Rh অসংগতা বা Rh incompatibility বলে।
কণার শিশুকে প্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে শনাক্ত করা যায়।
কণার শিশুটি কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না। হাঁটা-চলাতেও তার সমস্যা রয়েছে। এটা মূলত তার রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) বেড়ে যাওয়ার কারণেই হয়েছে।
রক্তে যদি বিলিরুবিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় তবে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি হয় এবং শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী হয়। গর্ভকালীন সময়ে কণা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। তাছাড়া সে ঠিকমতো খাওয়া- দাওয়াও করেনি। অর্থাৎ নিজের প্রতি খেয়াল রাখেনি। ফলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যতটুকু পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন তার ঘাটতি হয়েছে। এ কারণেই কণার শিশুটির হাঁটা-চলার অর্থাৎ অঙ্গ সঞ্চালনমূলক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে।
কণার অসচেতনতা তার শিশুর প্রতিবন্ধিতার কারণ বলে আমি মনে করি।
কণার শিশুটি প্রতিবন্ধী। গর্ভকালীন সময়ে কণার ম্যালেরিয়া হয়েছিল। তাছাড়া সে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করত না। সে নিজের প্রতি খেয়াল রাখত না।
গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। কারণ গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টির ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া গর্ভধারণের আগে বিভিন্ন প্রতিষেধক নেওয়াটাও জরুরি। গর্ভকালীন সময়ে কণার ম্যালেরিয়া হয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর জন্য এ রোগের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে শিশুর শারীরিক বিকলাঙ্গতার পাশাপাশি মানসিক প্রতিবন্ধিতাও হতে পারে। বর্তমানে কণার সন্তান কোনো কিছুর প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে পারে না। এমনকি সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। এগুলো সবই কণার অসচেতনতার ফল।
মা ও সন্তানের Rh উপাদানের মিল না থাকাকে Rh অসংগতা বা Rh incompatibility বলে।
শিশুর শারীরিক গঠন যদি স্বাভাবিক না হয়, হাত অথবা পা না থাকে, কথা বলতে না পারে, চোখে না দেখে অথবা কম দেখে, বুদ্ধিমত্তা কম থাকে, সামাজিক আচরণ ও ভাব বিনিময় ঠিকমতো করতে না পারে, তবে এই ধরনের শিশুদের প্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!