অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থা উন্নয়নশীল ।
বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা এবং মানবজাতির দুর্দশা থেকে উত্তরণের জন্য 'লীগ অব নেশনস্' বা জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ যুদ্ধের তান্ডবলীলা দেখে মানুষ বিশ্বশান্তির জন্য একটি বিশ্বসংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, যার কাজ হবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করা। বিশ্বনেতারা এরূপ একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন 'লীগ অব নেশনস' বা 'জাতিপুঞ্জ'। কিন্তু এ সংস্থাটি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
তামিম যে ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রধান হতে চান সেই প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ। কারণ জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে, প্রত্যেক সদস্যদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা গড়ে তোলে। জাতিসংঘ সনদে সুস্পষ্টভাবে বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা বিধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিম্নোক্ত উদ্দেশ্য লিপিবদ্ধ আছে।
১. শান্তি ভঙ্গের হুমকি ও আক্রমণাত্মক প্রবণতা ও কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. সকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব জোরদার করা।
৩. অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকল জাতির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলা।
৪. জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা।
৫. আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা।
৬. প্রত্যেক জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি এবং তা সমুন্নত রাখা এবং
৭. উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘের কার্যধারা অনুসরণ করা। উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলতে পারি, তামিম জাতিসংঘের প্রধান হতে ইচ্ছুক।
হ্যাঁ। আমি মনে করি, এ প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যেক উদ্দেশ্যই জনকল্যাণের জন্য গৃহীত।
উদ্দীপকে যে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলোর মিল লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। প্রত্যেক সদস্যদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা গড়ে তোলে। সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকে স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা গড়ে তোলা। এখানে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যসমূহের একটি চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি, তামিম যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সে প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ। জাতিসংঘের প্রত্যেকটি উদ্দেশ্যই জনকল্যাণের জন্য গৃহীত। জাতিসংঘের সর্বপ্রথম উদ্দেশ্য হলো শান্তিভঙ্গের হুমকি ও আক্রমণাত্মক প্রবণতা ও কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকল জাতির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলে যা জনগণের জন্য একান্ত কাম্য। এছাড়া জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। প্রত্যেক জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি এবং তা সমুন্নত রাখা।
পরিশেষে বলতে চাই, জাতিসংঘের প্রত্যেক উদ্দেশ্যই জনকল্যাণের জন্য গৃহীত তাই প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allলীগ অব নেশনস ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাঁচটি প্রধান অঙ্গ ও একটি সেক্রেটারিয়েট নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত। পাঁচটি অঙ্গের প্রধান অঙ্গটি হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। বিতর্ক সভা বলতে এ সাধারণ পরিষদকেই বোঝায়। আর জাতিসংঘের সকল সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে সাধারণ পরিষদ বা বিতর্ক সভা গঠিত।
রিতার মতো এ ধরনের নারীর অধিকার আদায়ে জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন তহবিল বা ইউনিফেম (UNIFEM) অঙ্গ সংস্থাটি কাজ করছে।
ইউনিফেম বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। নারীদের বিভিন্ন ধরনের অধিকার আদায়ে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্ট করছে। উদ্দীপকের গৃহবধূ রিতা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে কোনো কর্মক্ষেত্রে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনেক যুক্তি ও সংগ্রামের পরে তিনি একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি লাভ করেন। সেখানে একই পদমর্যাদার পুরুষ সহকর্মী অপেক্ষা তাকে কম আর্থিক সুবিধাদি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে যোগ্য সম্মান ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেন; অবশেষে সফল হন। বাংলাদেশের নারীদের নিরাপদ শ্রম অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এ ইউনিফেম কাজ করছে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের নারীদের অধিকার আদায়ে ইউনিফেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
রিতার ভাই লাভলু বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের শান্তিমিশনে কাজ করছে এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন।
জাতিসংঘের শান্তি মিশনে শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নয়; পাশাপাশি পুলিশও নিয়োজিত আছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে জাতিসংঘ তথা বিশ্বে বাংলাদেশ পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও শ্রদ্ধা এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। লাভলু সাহেব সিয়েরা লিওনে কর্মরত। সে হিসেবে তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমানে প্রায় ১১,০০০ এর বেশি বাংলাদেশি সৈন্য বিশ্বের ১১টি দেশে জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি সৈন্যদের অভূতপূর্ব সাফল্য সে দেশগুলোতে তথা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাকে অনেক বৃদ্ধি করেছে। আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে অন্যান্য দেশের সৈন্যরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না, সেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা শুধু গ্রহণযোগ্যতা নয়, পেয়েছে স্থানীয় গণমানুষের শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসা। সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষা পেয়েছে সেই দেশের - দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। তাছাড়া আইভরিকোস্টে অন্যতম একটি ব্যস্ত সড়কের নাম হয়েছে 'বাংলাদেশ সড়ক'।
অতএব, রিতার ভাই লাভলু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্যের জাতিসংঘে উত্থাপিত কোনো প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার যে ক্ষমতা রয়েছে সেটিই হলো ভেটো।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আর জাতিসংঘের শান্তিমিশনগুলোতে বাংলাদেশের অবদান ঈর্ষণীয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে ১১,০০০ এর বেশি সৈন্য F জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করে যাচ্ছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে অন্যান্য দেশের সৈন্যরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না, সেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা পেয়েছে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষা ২য় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। আইভরিকোস্টের অন্যতম ব্যস্ত সড়কের নাম হয়েছে 'বাংলাদেশ সড়ক'। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!