বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হলো পাট।
প্রগাঢ় কৃষি আকারভিত্তিক কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন। অন্যদিকে আয়তনগত দিক থেকে ব্যাপক কৃষি আধুনিক কৃষির একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধরন।
যে কৃষি ব্যবস্থায় ভূমিকে সর্বাধিক উৎপাদনক্ষম করা হয় তাকে প্রগাঢ় কৃষি বলে। কৃষি উপযোগী ভূমির সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাহিদা পূরণ করাই এ ধরনের কৃষিব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। এ পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রয়োজনীয় সার, বীজ, সেচ প্রয়োগ করা হয়। এভাবে অল্প জমিতে অধিক পরিমাণে শ্রমিক নিয়োগ করে ভূমিকে সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষম করা যায়। যেমন- চীন ও জাপানের কৃষি।
আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সাহায্যে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ব্যাপক হারে যে কৃষিকাজ করা হয় তাকে ব্যাপক কৃষি বলে। যেসব এলাকায় জনবসতি বিরল অথচ বিস্তীর্ণ অঞ্চল চাষযোগ্য, সেখানে শ্রমিকের অভাবহেতু ব্যাপক চাষের ব্যবস্থা করা হয়। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কৃষি।
তামীম বাংলাদেশের অধিবাসী। এখানে প্রধান খাদ্যশস্য ধান। তার ভ্রমণকৃত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান খাদ্যশস্য গম। এ দুটি ফসলের উৎপাদনে জলবায়ুগত নিয়ামকের ভিন্নতা রয়েছে।
ধান চাষে জলবায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাববিস্তার করে থাকে। জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা এ দুটির ওপর ধান চাষের উৎপাদন নির্ভর করে। অন্যদিকে গম উৎপাদনের প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহের মধ্যেও জলবায়ু প্রধান।
ধান চাষের জন্য বার্ষিক গড় সে.মি. বৃষ্টিপাতের দরকার। তবে যেসব স্থানে বৃষ্টিপাত সে.মি. যেসব স্থানে ধানের ফলন ভালো হয়। গম চাষের জন্য অবস্থান অনুসারে বার্ষিক গড় সে.মি. বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
ধান চাষের জন্য সাধারণ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। ধান বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য সে. অপেক্ষা অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন। চারা বৃদ্ধিকালীন তাপমাত্রা সে. এর মধ্যে থাকা আবশ্যক। অপরদিকে গম চাষের আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছেসে.। গম চাষের প্রাথমিক অবস্থায় কম এবং ফসল পাবার সময় বেশি তাপমাত্রা ( সে.- সে.) থাকা প্রয়োজন।
বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। যেমন-ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড। আর গম মূলত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের শস্য। যেমন- আমেরিকা ও কানাডার প্রেইরি অঞ্চল। সুতরাং বলা যায়, ধান ও গম উৎপাদনে জলবায়ুর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উপাদন করাকে কৃষি বলে।
যে কৃষি ব্যবস্থায় একই জমিতে বাণিজ্যিক পশুপালন ও মৎস্য চাষ এক সাথে করাকে মিশ্র কৃষি বলে।
এ ধরনের কৃষি ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে লক্ষ করা যায়। এ ব্যবস্থায় কৃষক একই জমি হতে শুধু ফসলই নয়; বরং মাংস, দুধ, মাখন ইত্যাদিও লাভ করে থাকে। মোটর ও রেলযোগে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় উক্ত পণ্যাদি শহরে দ্রুত প্রেরিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে শস্য-১ বলতে ধানকে বোঝানো হয়েছে। ধান
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য যা সারা বিশ্বব্যাপি উৎপদিত হয়। তবে 'এশিয়া মহাদেশে ধানের ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, জাপান প্রভৃতি দেশ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে চীন প্রথম ও' ভারত দ্বিতীয়। নিচে এশিয়া মহাদেশে ধানের উৎপাদনের একটি তালিকা দেখানো হলো-
সারণি ৪.১ : পৃথিবীর প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ, ২০১৯
দেশ | উৎপাদন (মিলিয়ন মেট্রিক টন) |
২০১৯ | |
চীন | ১৪৮.৫ |
ভারত | ১১৬.৪২ |
ইন্দোনেশিয়া | ৩৬.৭ |
বাংলাদেশ | ৩৪.৯১ |
ভিয়েতনাম | ২৭.৭৭ |
থাইল্যান্ড | ২০.৩৪ |
মিয়ানমার | ১৩.২ |
ফিলিপাইন | ১১.৭৩ |
জাপান | ৭.৬৬ |
ব্রাজিল | ৭.১৪ |
Source: FAO Statistical Yearbook, 2019
এছাড়া এশিয়ার মধ্যে মালায়শিয়া। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, কম্বোডিয়। তাইওয়ান নেপাল, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলেও ধান উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে শস্য-২ হলো গম। গম সারা বিশ্বের প্রধান খাদ্য শস্য।
তাই অর্থনৈতিকভাবেও গম খুব গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। নিচে গমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গম সব ধরনের খাদ্যশস্যের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের প্রায় ৪৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম বিশ্ব বাজারে রপ্তানি হয়। গম উৎপাদনকারী প্রধান দেশসমূহের প্রায় অধিকাংশই কমবেশি গম আমদানি করে ও থাকে। সুতরাং রপ্তানিকারক দেশের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই মুষ্টিমেয় রপ্তানিকারক দেশের ইচ্ছা মোতাবেক গমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় থাকে। ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম আমদানি হয়। এ কারণে গমের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। গমের প্রধান প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো হলো রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইউক্রেন, রোমানিয়া, জামার্নি রাজখিস্তান। এদের মধ্যে রাশিয়া প্রথম ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়। গমের প্রধান প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইতালি ব্রাজিল, মিসর, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও তুরষ্ক। এদের মধ্যে মিসর প্রথম ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয়।
পরিশেষে বলা যায় গম বিশ্ব বাজারে প্রধান চাহিদাসম্পন্ন খাদ্যশস্য। তাই সারাবিশ্বের আমদানি ও রপ্তানিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে এ পণ্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি বলে।
উত্তর আমেরিকার কানাডার দক্ষিণাংশ হতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে ওকলাহোমা ও মিসৌরি রাজ্য পর্যন্ত সমগ্র প্রেইরী অঞ্চলকে পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
রুটি প্রস্তুতের উপযোগী উন্নতমানের এত অধিক গম পৃথিবীর অন্য কোনো অঞ্চলে উৎপাদিত হয় না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গম উৎপন্ন হয় বলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ গমই রুটি প্রস্তুতের জন্য দেশ-বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ কারণে উত্তর আমেরিকার এ অঞ্চলকে পৃথিবীর 'রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!