আলী ইবনে আব্বাস বাগদাদের খলিফা আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস খলিফার আদেশে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যাতে বন্দি লোকটি পালিয়ে গিয়ে তাকে কোনো বিপদে ফেলতে না পারে।
আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস তার বাড়িতে নিয়ে যান। বন্দি ব্যক্তি যাতে পালিয়ে না যায় এবং খলিফার আদেশ যাতে অমান্য না হয় সে কারণেই আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তিকে সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে তাঁকে খলিফার কোপের মুখে পড়তে হবে।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পৃথিবীতে অনেকেই প্রশংসিত হয়েছেন। প্রতিশোধস্পৃহা দমিয়ে রেখে ক্ষমার মাধ্যমেই মহত্ত্ব প্রকাশিত হয়।
'প্রত্যুপকার' গল্পের এক ব্যক্তিকে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন খলিফা মামুন। দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সত্য জানার পর মহামতি ও উন্নতচিত্তের অধিকারী খলিফা মামুনের নির্দেশে ওই ব্যক্তি প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। এতে খলিফা ক্ষমার সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও ক্ষমার এক মহান দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। পুত্র হত্যাকারীকে কাছে পেয়েও তাকে ক্ষমা করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রতিশোধস্পৃহা বিসর্জন দিয়ে জনৈক পিতা তার পুত্র হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন। এজন্যই ক্ষমা প্রদানের মহত্ত্বের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের বড় গুণ। মানুষ জীবনে চলার পথে অনেকের দ্বারা উপকৃত হয়। যারা উপকার করে তাদের প্রতি মানুষের সব সময় কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
'প্রত্যুপকার' গল্পটি আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। দামেস্কে গিয়ে আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়লে স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে তিনি আশ্রয়লাভ করেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহেই তাকে রাখা হয়। আলী ইবনে আব্বাস তখন উপকারকারী ওই ব্যক্তির যে প্রতিকার-করেন সেটিই আলোচ্য গল্পের মূল বিষয়। এদিকে উদ্দীপকে যে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে সেটি গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার দিকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিক মাত্র। গল্পের মূল বিষয় হলো আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়। এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ উপকারীর উপকার করা।
খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন- বন্দি লোকটির পরোপকারের কথা শুনে তাঁর প্রতিবিধান ভাবনায়।
প্রত্যুপকার' গল্পে ডেমাস্কাসবাসী এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ঈর্ষাবশত দোষারোপের শিকার হয়ে খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। ' খলিফা মামুন তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। কথা প্রসঙ্গে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন এই বন্দি ব্যক্তিই তাঁর প্রাণরক্ষাকারী আশ্রয়দাতা। তিনি তাঁকে শৃঙ্খলমুক্ত করে পালিয়ে যেতে বললেন। তখন ওই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদে ফেলে চলে যেতে রাজি হলেন না। পরদিন এসব ঘটনা আলী ইবনে আব্বাস সবিস্তারে দরবারে উপস্থাপন করলে খলিফা মামুন বন্দির প্রতি ন্যায়বিচারের ভাবনায় কিছুক্ষণ মৌন হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বন্দি হওয়ার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
মানুষ কখনো একা চলতে পারে না। জীবনে চলার পথে বিপদের সম্মুখীন হলে মানুষ মানুষের দ্বারা উপকৃত হয়। মানুষের উচিত উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। উপকারের প্রতি উপকার করার সুযোগ খোঁজা।
'প্রত্যুপকার' রচনাটি আলী আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র আলী আব্বাস। তিনি ডেমাস্কাসে একবার পদচ্যুত শাসনকর্তা দ্বারা আক্রমণের শিকার হন। তখন আলী ইবনে আব্বাস সম্ভ্রান্ত এক ব্যক্তির কাছে আশ্রয়লাভ করেন। ঘটনাক্রমে আশ্রয়দাতা সেই ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। আর আলী ইবনে আব্বাসের গৃহেই তাঁকে' রাখা হয়। তারপর আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন যে ব্যক্তি তার উপকার করেছিলেন তিনিই তার ঘরে বন্দি। উদ্দীপকেও এমন এক বিষয় দেখা যায়। উদ্দীপকের আমজাদের বাসায় বন্দি ব্যক্তিটি দশ বছর আগে তার সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল। যে উপকার করে তাকেই নিজের কাছে বন্দি করে রাখতে হয়- এ ঘটনাটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
'আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়'- মন্তব্যটি যথার্থ।
অকৃতজ্ঞ লোক অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুবিধাবাদী লোকেরা বিপদের সময় কারও সাহায্যে এগিয়ে আসে না। এমনকি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি তার বিরাট উপকার করে থাকলেও তার প্রতিদান দিতে চায় না।
উদ্দীপকে একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির কথা এবং পরোপকারী এক ব্যক্তির চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের ব্যক্তি একসময় আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। আমজাদ তা জেনেও তাকে মুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা করেনি। অন্যদিকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় পেয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর উপকারের কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের জীবন বাজি রেখে তাঁকে মুক্ত করে দিতে চেয়েছেন। এই দিক থেকে তারা দুজন পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ। এখানে আমজাদ চৌকিদার অকৃতজ্ঞ ও স্বার্থপর আর আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞ ও নিঃস্বার্থ পরোপকারী। '
প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর উপকার স্বীকারকারীদের সার্থক প্রতিনিধি। তিনি উপকারী ব্যক্তির ঋণ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের আমজাদ চৌকিদার অকৃতজ্ঞ মানুষের প্রতিনিধি। সে উপকারীর স্বীকার করেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আলী ইবনে আব্বাস বাগদাদের খলিফা আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস খলিফার আদেশে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যাতে বন্দি লোকটি পালিয়ে গিয়ে তাকে কোনো বিপদে ফেলতে না পারে।
আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস তার বাড়িতে নিয়ে যান। বন্দি ব্যক্তি যাতে পালিয়ে না যায় এবং খলিফার আদেশ যাতে অমান্য না হয় সে কারণেই আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তিকে সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে তাঁকে খলিফার কোপের মুখে পড়তে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!