আত্মকর্মসংস্থান বলতে জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে বোঝায়।
সুস্বাস্থ্যের অধিকারী শিক্ষিত জনগোষ্ঠী উন্নত মানব সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আর সুস্বাস্থ্যের জন্য উন্নত সেবার প্রয়োজন। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যার ফলে প্রজনন হার ও মৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ নবজাত শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুর হার যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভম্ব হয়েছে। তাই মানব সম্পদ উন্নয়নের সাথে স্বাস্থ্য ও সেবার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে তারিকের জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব যেভাবে নির্ণয় করব তা নিচে বর্ণনা করা হলো-
জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে একটি দেশে প্রতি বর্গমাইল বা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে যে পরিমাণ মানুষ বসবাস করে তাকে বোঝায়। অর্থাৎ একটি দেশের মোট জনসংখ্যাকে মোট আয়তন দ্বারা ভাগ করলে জনসংখ্যার ঘনত্ব পাওয়া যায়। উদ্দীপকে তারিকের জেলার আয়তন ১২৩৬ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১২ লক্ষ ৬৫ হাজার।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো-
DP =
যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব
TP = মোট জনসংখ্যা
TA = মোট আয়তন
তারিকের জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব হবে =
= ১০২৩.৪৬ জন
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত উপায়ে তারিকের জেলার ঘনত্ব নির্ণয় করা যায়।
১০ বছর পরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তারিকের জেলায় খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থানের উপর যে ধরনের প্রভাব পড়তে পারে নিচে তা বুঝিয়ে লেখা হলো-
⇒ জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনের মাত্রাকে অতিক্রম করলে তার অনিবার্য পরিণতি খাদ্যাভাব। জনসংখ্যা যে হারে বাড়ে খাদ্য উৎপাদন যদি তার তুলনায় কম হারে বাড়ে, তাহলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। ১০ বছর পরে উদ্দীপকের তারিকের জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে যদি খাদ্যের উৎপাদন না বাড়ে তবে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে।
⇒ জনসংখ্যা বৃদ্ধি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকট আকারের সমস্যার সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা থাকলে তাদেরকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয় না; ফলে দেশে শিক্ষার হার বাড়ে না। এতে করে সমাজে অশিক্ষিত লোকের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং সামাজিক কুসংস্কার বৃদ্ধি পায়। তাই উদ্দীপকের তারিকের জেলায় ১০ বছর পরে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকট সমস্যা সৃষ্টি হবে।
⇒ মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। বাসস্থান মানুষকে আশ্রয় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে এবং তাকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসস্থানের প্রকট সমস্যা সৃষ্টি হয়। কৃষি জমি ভরাট করে তৈরি করা হয় অতিরিক্ত জনসংখ্যার বাসস্থান। উদ্দীপকের তারিকের জেলায় ১০ বছর পরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাসস্থানজনিত সমস্যার সৃষ্টি হবে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের তারিকের জেলায় ১০ বছর পরে খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থানের উপর উল্লিখিত প্রভাব পড়বে।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!