যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অপরদিকে, সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সর্বশেষ সংশোধনীটি হলো ত্রয়োদশ সংশোধনী। ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে সুশাসন নিশ্চিত করা যায় না। সুশাসনের জন্য নিরপেক্ষ, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজন খুব বেশি। তাই ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সকল জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এ সরকার সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মেয়াদ শেষ হবে। এ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন, কার্যাবলি, মেয়াদ, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের যোগ্যতা ইত্যাদি সংবলিত বিধান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চায় উপরিউক্ত দ্বাদশ সংশোধনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি।
১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে নব্বইয়ের গণআন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তিন জোটের অঙ্গীকার অনুযায়ী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পূর্বপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস হওয়ার পর হতে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংসদের ভিতরে বাইরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। সে সময় নির্বাচিত বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের পক্ষে থাকলেও জনমত ও বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ১৯৯১ সালের ১৪ এপ্রিল সংসদীয় সরকার প্রবর্তন করার দাবিতে সংসদে নোটিস প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়ী বিএনপি সংসদীয় সরকারের পক্ষে মত প্রদান করে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। ৬ আগস্ট সংসদে এক হৃদ্যপূর্ণ পরিবেশে সংবিধানের 'দ্বাদশ সংশোধনী বিল' গৃহীত হয়। ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা আদেশ'।
আরিফার বাবা স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার একটি গণমাধ্যম। অর্থাৎ, আরিফার বাবা গণমাধ্যমে কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে উক্ত মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে 'জয় বাংলা' পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অতএব বলা যায়, আরিফার বাবার মতো সংস্কৃতিকর্মী এবং প্রচারমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীর ভূমিকাই ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আরিফার মা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করতেন। আরিফার মায়ের ন্যায় মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। অপরদিকে, সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লক্ষ মা-বোন। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী এবং ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারিভাবে তাদেরকে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করেন।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে আরিফার মায়ের মতো অনেক নারীই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যে তহবিল থেকে প্রসূত নারীদের অনুদান প্রদান করা হয় সেই তহবিল হচ্ছে 'ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল'।
কোনো দেশের সংবিধান রচনার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে যে পরিষদ বা কমিটি গঠন করা হয়, তাকে গণপরিষদ (Constituent Assembly) বলে। যেমন- স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' নামে একটি আদেশ জারি করেন। এ আদেশবলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে পরিগণিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!