বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ-২০২৫: তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ-২০২৫ উপলক্ষে "নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫" উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উৎসব ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সৃজনশীলতা ও উদ্যমের সম্মিলনে টেকসই জাতীয় ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়ক হবে। এবারের তারুণ্যের উৎসবের মূল উপজীব্য নির্ধারণ করা হয়েছে: "এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই"।
উৎসবের অংশ হিসেবে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় সারাদেশে নানাবিধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ এর কর্মসূচি:
১. বর্জ্য-শূন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
দেশীয় খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে বর্জ্য-শূন্য ক্রিকেট ম্যাচ ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন।
২. পরিচ্ছন্নতা অভিযান
স্টেডিয়াম পরিচ্ছন্নতা ও স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং বর্জ্য-শূন্যতার প্রচার।
৩. জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আহত যুবদের সহায়তা
অসমর্থ ও আহত যুবদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৪. যুব সমাবেশ ও উদ্যোক্তা সংযোগ
আত্মকর্মী, যুবসংগঠন ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে যুব সমাবেশ আয়োজন।
৫. ক্রীড়া শিক্ষাবৃত্তি ও কল্যাণ তহবিল
ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান, ক্রীড়াসেবীদের চিকিৎসা সহায়তা এবং অসমর্থ ক্রীড়াসেবীদের জন্য ক্রীড়া ভাতা প্রদান।
জুলাই বিপ্লব স্মরণে কার্যক্রম
স্মৃতিচিহ্ন রক্ষার্থে চিত্র প্রদর্শনী, স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ এবং মোবাইল ডাটা প্যাকেজ ঘোষণা।
৭. উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি
স্থানীয় শিল্প ও পণ্য প্রদর্শনী, উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে যুব উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি।
৮. উদ্ভাবন ও প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা
কুইজ, রচনা, বিতর্ক, স্কিল কম্পিটিশন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন।
৯. "Zero Waste Champion" সম্মাননা
বর্জ্য হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান।
১০. Youth Fest ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসব এবং দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও প্রচার।
১১. ফ্যান এনগেজমেন্ট ও প্রচার কার্যক্রম
টেকসই ব্যবস্থাপনা ও ৩৬০° প্রচার কৌশল।
১২. কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুষ্টি বিষয়ক কর্মশালা
নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড এবং আন্তঃস্কুল-কলেজ প্রতিযোগিতা।
১৩. তারুণ্যের ভাবনায় নতুন বাংলাদেশ
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবদের ভাবনা বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা।
১৪. ডেমোক্রেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে যুব-জনতার সাহসী, উদ্ভাবনী ও জনমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি প্রদান।
১৫. বাংলাদেশ মিশনের উদ্যোগ
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের তত্ত্বাবধানে যথাযথ কর্মসূচি পালন।
উৎসবটি তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা, উদ্যম ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলুন একসাথে এগিয়ে যাই নতুন বাংলাদেশের পথে!
Related Question
View All"পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার"
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ দূষণ একটি ব্যাপক আলোচিত ঘটনা যা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা মানব জাতিকে সতর্ক ও সচেতন হতে নির্দেশ দিয়ে আসছেন। পরিবেশ দূষণ মানব সমাজে নিদারুন সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবেশ দূষণের ফলে শুধু মানব গোষ্ঠীই নয়, বরং সমস্থ জীবকূলের অস্তিত্ব এই পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দূষণ পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়। পরিবেশে বিভিন্ন উপাদানে ক্ষতিকারক বস্তুর অনুপ্রবেশ ঘটে। বিশিষ্ট বস্তুবিজ্ঞানী ওডামের মতে, “বায়ু, পানি, মাটি” ইত্যাদি ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন মানব সভ্যতাকে অথবা কোন প্রজাতির জীবনকে সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বা করতে পারে, তাকেই দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদগুলো হলোঃ পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ ।
পানি দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. পানিতে আবর্জনা, সার বা বিষাক্ত দ্রব্য না ফেলা।
২. উপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
৩. ভূগর্ভস্থ পানির পরিমিত ব্যবহার।
৪. জমিতে সার বা কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. ধুমপানের ধোঁয়া, যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
২. ওজোন স্তরে ছিদ্র হয়ে যে সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে তা প্রতিরোধ করা।
৩. গ্রীণ হাউজ গ্যাসের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা।
৪. আবর্জনাকে ধরণ অনুযায়ী পৃথক করে জমা ও অপসারণ করা। ৫. জনগণকে বৃক্ষ রোপনে উৎসাহী করা।
শব্দ দূষণ রোধে করণীয় :
১. উচ্চস্বরে কথা/চিৎকার করা যাবে না।
২. জোরে গান বাজানো যাবে না।
৩. হাইড্রোলিক হর্ণ/ বোমাবাজি/ বিকট আওয়াজে স্লোগান ইত্যাদি করা
মাটি দূষণ মুক্ত রাখতে করণীয়:
১. প্লাস্টিকের ব্যাগ, পলিথিন পরিহার করতে হবে।
২. বৃক্ষরোপন, পাহাড় ও উচ্চভূমি রক্ষা করতে হবে।
৩. কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৪. ইটের বিকল্পে ব্লক ইট ব্যবহার।
৫. পরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
কারাগারের রোজনামচা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত একটি গ্রন্থ সংকলন। গ্রন্থটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকীতে ২০১৭ সালে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির মহানায়ক গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীণ থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিন তিনি ডায়েরী লেখা শুরু করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল জেল- জীবনচিত্র এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো সেসব বিষয় যেমন সন্নিবেশিত হয়েছে; ঠিক তেমনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দুঃখ-দুর্দশা, গণমাধ্যমের অবস্থা, শাসক গোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাস ঘাতকতা, প্রকৃতি প্রেম, পিতৃ-মাতৃ ভক্তি, কারাগারে পাগলদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেছেন।
রাতারগুল জলাবন
রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। রাতারগুল যা বাংলার অ্যামাজন নামেও পরিচিত চিরসবুজ এই বন গুয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। বর্ষাকালে এই বন ২০ থেকে ৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে। বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। এখানে গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানান বন্য প্রাণী আর পাখি। শীতে জল শুকিয়ে যায় বলে বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময় (জুলাই থেকে অক্টোবর) রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। সিলেট শহর থেকে রাতারগুলের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ বনের অবস্থান। সিলেট বন বিভাগের উত্তর সিলেট রেঞ্জে-২ এর অধীন প্রায় ৩০ হাজার ৩শ' ২৫ একর জায়গা জুড়ে এ জলাভূমি। এর মধ্যে ৫শ' ৪ একর জায়গার মধ্যে বন, বাকি জায়গা জলাশয় আর সামান্য কিছু উঁচু জায়গা। তবে বর্ষাকালে পুরো এলাকাটিই পানিতে ডুবে থাকে। শীতে প্রায় শুকিয়ে যায় রাতারগুল। তখন বনের ভেতরে খনন করা বড় জলাশয়গুলোতে শুধু পানি থাকে। পুরাতন দুটি বড় জলাশয় ছাড়াও ২০১০-১১ সালে রাতারগুল বনের ভেতরে পাখির আবাসস্থল হিসেবে ৩.৬ বর্গ কিলোমিটারের একটি বড় লেক খনন করা হয়। শীতে এ জলাশয়ে বসে নানান পাখির মিলন মেলা। রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন। এরপরেও বন বিভাগ হিজল, বরুণ, করচ আর মুতা-সহ কিছু জলবান্ধব জাতের গাছ লাগিয়ে দেয় এ বনে। এছাড়াও রাতারগুলের গাছপালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ কদম, জালিবেত, অর্জনসহ জল সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির গাছপালা। সিলেটের শীতলপাটি তৈরির মূল উপাদান মুতার বড় অংশ এই বন থেকেই আসে। বাংলাদেশ বন বিভাগ ১৯৭৩ সালে এ বনের ৫শ' ৪ একর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!