নটরাজ মহাদেবের আরেক নাম।
প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে নিজ অস্তিত্বের স্বরূপ তুলে ধরতেই কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি। মানবপ্রেম ও সাম্যবাদী চেতনা তাঁর কবিতার মূলসুর। আর তাই যেখানেই অসাম্য ও অনাচার লক্ষ করেছেন, ব্যথিত কবি সেখানেই উচ্চারণ করেছেন দ্রোহের পঙ্ক্তিমালা। আলোচ্য কবিতাটিতেও কবির দ্রোহ পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য মানবমুক্তি। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দন বন্ধ করার প্রয়াসেই তাঁর এই দ্রোহ। কবি সত্তার এই বিদ্রোহী রূপ এবং তার অন্তরালে মানবপ্রেমের বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
নানা রূপে তারুণ্য ও দ্রোহের সমন্বয়ের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
বিদ্রোহী' কবিতায় অত্যাচারের অবসানের সংকল্পে কবি বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ। করেছেন। কবি হিমালয়ের সাথে নিজের গৌরবের তুলনা করে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে চেয়েছেন। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দনরোল যতদিন না প্রশমিত হবে হবে ততদিন কবি মহাপ্রলয়ের নটরাজের মত প্রলয়নৃত্য করে যাবেন। রণক্লান্ত কবি অত্যাচারীর উৎপীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকে বিভিন্ন রূপে তারুণ্যকে দেখতে পাওয়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কবি তারুণ্য দেখেছেন আরব বেদুইনদের মধ্যে এবং যুদ্ধের সৈনিকের মুখে। তিনি তারুণ্য দেখেছেন কালাপাহাড়ের তলোয়ারে এবং বৈমানিকের সাহসে। যে মানুষ অজানাকে জানতে মৃত্যুকে বরণ করতে পারে তার মধ্যে। এখানে তারুণ্যের রূপকে যেমন বিভিন্ন মাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায় তেমনি বিদ্রোহী কবিতায় বিভিন্ন রূপে আমরা দ্রোহ দেখতে পাই। সুতরাং নানা রূপে তারুণ্য ও দ্রোহের এই প্রকাশ দেখতে পাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের চেতনা এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার মর্মকথা প্রায় একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি বিদ্রোহকে একটি আদর্শ ও চেতনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবি গগনবিদারী ধ্বংসের ধ্বনি উচ্চারণ করেছেন শান্তির আকাঙ্ক্ষায়। ইসরাফিল এর শিঙ্গার মত কবি প্রলয় এনে সবকিছু ধ্বংস করতে চেয়েছেন। পরশুরামের কুঠারের মতো ক্ষত্রিয়দের ধ্বংস করে, বিশ্বে শান্তি নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কবি। যেদিন পৃথিবীতে শান্তি আসবে সেদিন কবির এই বিদ্রোহী সত্তাও শান্ত হবে।
উদ্দীপকে তারুণ্যের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। কবি তারুণ্য দেখেছেন আরব বেদুইন এর মধ্যে, তারুণ্য দেখেছেন' যুদ্ধের সেনাদের মুখে। একইভাবে কালাপাহাড়ের মাঝে কবি যৌবন দেখেছেন। অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করে তাদেরও মূল চালিকাশক্তি তারুণ্যই।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি বিভিন্ন রূপে বিদ্যমান বিদ্রোহের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। মহাপ্রলয়ের নটরাজের নৃত্যে যেমন বিদ্রোহ থাকে তেমনি বিদ্রোহ থাকে প্রেমিকের হাতের বাঁশের বাঁশরীর মধ্যেও। কবি বিদ্রোহের শেষ হবে সেদিন, যেদিন এই পৃথিবী থেকে সমস্ত অন্যায় ও অত্যাচার দূরীভূত হবে। উদ্দীপকেও বিভিন্ন রূপে তারুণ্যের স্বরূপ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহ তারুণ্যেরই একটি বৈশিষ্ট্য এদিক থেকে বিদ্রোহ ও তারুণ্যের যোগ সূত্র রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে তাই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allঅর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
উত্তর
বিদ্রোহী
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!