"তার পর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল - বাপ।
শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ।
এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ,
খুনের নেশায় আর করিব না, আখেরের পথরোধ।”

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ আলী ইবনে আব্বাস ছিলেন খলিফা উমরের প্রিয় পাত্র।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

আলী ইবনে আব্বাস (উদ্দীপকের বৃদ্ধ চরিত্রটি) হাত, পা বাঁধা শত্রুকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন কারণ তিনি প্রতিশোধের হিংস্রতা পরিহার করে ক্ষমার মহিমা উপলব্ধি করেছিলেন। ব্যক্তিগত আক্রোশ ত্যাগ করে তিনি শত্রুকে ক্ষমা করলেও, তাকে নিরাপদ হেফাজতে রেখেছিলেন যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে এবং পরবর্তীকালে ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়।

এই ঘটনাটি চরিত্রের মহৎ মানসিকতার পরিচয় বহন করে। বৃদ্ধ বুঝতে পেরেছিলেন যে, খুনের নেশা মানুষকে নৈতিক অধঃপতনের দিকে ঠেলে দেয় এবং আখেরাতের পথরোধ করে। তাই তিনি শত্রুকে ক্ষমা করে নিরাপদে আটকে রাখার মধ্য দিয়ে প্রতিশোধের ব্যক্তিগত দিককে ছাপিয়ে বৃহত্তর নৈতিকতা, মানবতাবোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আদর্শকে তুলে ধরেছেন।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের ক্ষমা, মহত্ত্ব এবং প্রতিহিংসার পথ পরিহার করার দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, মহাবীর শত্রুকে পরাজিত করার পর তার প্রতি প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন করেন। এই উদারতা এমন এক মানবিক গুণ, যা শত্রুতা ভুলিয়ে দিয়ে পারস্পরিক সহানুভূতি ও ভালোবাসার পথ খুলে দেয়। গল্পে বন্দীর প্রতি মহাবীরের ক্ষমাশীল আচরণ শেষ পর্যন্ত এক অসাধারণ মানবতাবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

উদ্দীপকে বৃদ্ধ লোকটি তার শত্রুকে হাতের মুঠোয় পেয়েও তলোয়ারের নিচে এনে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি তার সন্তানের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করলেও, খুনের নেশায় আর পথরোধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি প্রতিহিংসার চক্র থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমা ও শান্তির পথ বেছে নেওয়ার এক মহৎ দৃষ্টান্ত, যা 'প্রত্যুপকার' গল্পের উদারতা ও ক্ষমাশীলতার মূলভাবকে ফুটিয়ে তোলে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

‘প্রত্যুপকার’ গল্পে প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা, উদারতা এবং সহানুভূতির যে মহৎ ও মানবিক দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, উদ্দীপকের বর্ণনা তা যথার্থভাবে প্রতিফলিত করে। এই মন্তব্যের যথার্থতা অনস্বীকার্য এবং গল্পের মূল শিক্ষাকে এটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন বৃদ্ধ তার পুত্রহন্তাকে তলোয়ার তলে পেয়েও ক্ষমা করে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, "শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ।" এখানে বৃদ্ধের যে মানসিকতা প্রকাশিত হয়েছে, তা প্রচলিত প্রতিহিংসার ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। শত্রুকে হত্যা করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা পরিহার করে উদারতা দেখিয়েছেন। "খুনের নেশায় আর করিব না, আখেরের পথরোধ" – এই উক্তিটি তার উন্নত মানবতাবোধ এবং ক্ষমার মহিমাকে স্পষ্ট করে তোলে। তিনি খুনের মাধ্যমে প্রতিশোধ না নিয়ে আত্মিক শান্তি ও মানবতার পথ বেছে নিয়েছেন।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্যই হলো, প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে ক্ষমা ও উদারতার মাধ্যমে শত্রুকে বশীভূত করা এবং মানবতাকে প্রতিষ্ঠা করা। গল্পে বাদশাহ আলমগীরের বিচক্ষণতা ও ক্ষমার দৃষ্টান্ত যেমন দেখানো হয়েছে, ঠিক তেমনি উদ্দীপকের বৃদ্ধের চরিত্রও একই মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নিয়ে শত্রুকে ক্ষমা করা এবং তার প্রতি উদারতা প্রদর্শন করা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের এক বিশেষ দিক। উদ্দীপকের বৃদ্ধের এই কার্যকলাপে সেই শিক্ষাই সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে তিনি ব্যক্তিগত শোক ও ক্রোধকে অতিক্রম করে মানবতার জয় ঘোষণা করেছেন।

অতএব, উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের গভীর মর্মবাণী – ক্ষমা ও সহানুভূতির মাধ্যমে শত্রুকে বশীভূত করা এবং প্রতিহিংসা পরিহার করে মানবতাবোধকে জাগ্রত করার বিশেষ দিকটিকে অত্যন্ত সুন্দর ও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত করেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
73

Related Question

View All
উত্তরঃ

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।

সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।

10.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

7.7k
উত্তরঃ

কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।

উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।

উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5.9k
উত্তরঃ

শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ

8.1k
উত্তরঃ

‘জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি এক পাড়ায় বাস করিতেছে’ – উক্তিটির মাধ্যমে গ্রন্থাগার বা বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বইয়ের পাতায় মৃত বা বিগত প্রজন্মের জ্ঞানী-গুণী মানুষের চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষিত থাকে। যখন একজন জীবিত পাঠক সেই বই পড়েন, তখন যেন মৃত লেখকের হৃদয় বা মননের সাথে জীবিত পাঠকের মনের নিবিড় সংযোগ ঘটে।

এভাবে বইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জীবিত প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা মানবজাতির নিরন্তর জ্ঞানচর্চাকে সম্ভব করে তোলে। লেখক এবং পাঠকের এই আত্মিক মিলনকে তুলনা করা হয়েছে একই পাড়ায় বসবাস করা হৃদয়ের সাথে, যেখানে সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান ও উপলব্ধির এক নিরন্তর বিনিময় ঘটে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
6.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews