কাবুলিওয়ালা মিনিকে 'খোঁখী' বলে ডাকত।
রাঙাচেলি-পরা কপালে-চন্দন-আঁকা বধূবেশিনী মিনিকে দেখে নিজের মেয়ের কথা মনে পড়লে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রহমত মাটিতে বসে পড়ল।
জীবিকার তাগিদে বিদেশে অবস্থান করায় বহুদিন নিজের মেয়ের সাথে দেখা হয়নি রহমতের। এজন্য মেয়েটি কত বড়ো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো ধারণাই ছিল না তার। তাই বহু বছর পর ছোট্ট মিনিকে বধূবেশে দেখতে পেয়ে নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যায় রহমতের। সে বুঝতে পারে তার মেয়েটিও মিনির মতোই বড়ো হয়ে গেছে, হয়তো বিয়ের বয়সও হয়ে গেছে তার। এ কথা ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাটিতে বসে পড়ে সে।
সন্তান হারানোর বেদনার দিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের অমিল রয়েছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক এক স্নেহপরায়ণ পিতার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। প্রবাসে অবস্থান করায় বহুদিন নিজের মেয়েকে দেখতে পায়নি সে। তাই গল্পকথকের মেয়ে মিনির মাঝেই যেন নিজের মেয়েকে খুঁজে পায় রহমত। এজন্য মিনিকে সে উজাড় করে দেয় পিতৃহৃদয়ের অকুণ্ঠ ভালোবাসা।
উদ্দীপকের রহমান আহ্লাদির মাঝে নিজের মেয়ের ছায়া খুঁজে ফেরে।। আহ্লাদির বয়স বা চেহারার সাথে তার মেয়েটির যদিও কোনো মিল নেই। তবুও তাকে দেখে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারানো মেয়েটির কথা মনে পড়ে যায় রহমানের। পিতৃহৃদয়ের এমন গভীর ভালোবাসার প্রকাশ 'কাবুলিওয়ালা' গল্পেও রয়েছে; কিন্তু সন্তান হারানোর মতো করুণ পরিণতির কথা সেখানে বর্ণিত হয়নি। এদিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের অমিল রয়েছে।
উদ্দীপকের রহমানের অনুভবে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূল সত্য পিতৃহৃদয়ের স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে আফগানিস্তানের মরু পর্বতের রুক্ষ প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা একজন পিতা এবং নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার একজন বাঙালি পিতার স্নেহপ্রবণ মনের ঐক্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ গল্পের কথক তাঁর মেয়ে মিনিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আবার সে-ই মিনিকে দেখেই নিজ দেশে ফেলে আসা মেয়ের কথা মনে পড়ে কাবুলিওয়ালা রহমতের। তাই মিনির সঙ্গ লাভ করে সন্তানকে কাছে না পাওয়ার বেদনা ভুলতে চায় সে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রহমানের মেয়ে শ্বশুরবাড়ির অমানবিক নির্যাতনের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। তাই আহ্লাদির দুঃখভরা মুখের দিকে তাকিয়ে সে খুঁজে নিতে চায় সান্ত্বনা। এজন্য রহমান বারবার স্নেহকাতর দৃষ্টিতে তাকায় আহ্লাদির দিকে। সন্তানের জন্য পিতার মমত্ববোধের এ দিকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পেরও মূল উপজীব্য।
দেশ, কাল, জাতির সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক প্রবণতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। পৃথিবীর সকল পিতাই সন্তানকে একইভাবে ভালোবাসেন। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথক ও রহমতের মাধ্যমে আমরা সে বার্তাই পাই। বস্তুত সন্তানের প্রতি মমত্ববোধ সকল পিতারই সহজাত বৈশিষ্ট্য। আলোচ্য 'কাবুলিওয়ালা' গল্প ও উদ্দীপকে অভিন্নভাবে এ বিষয়টিই উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিবেচনায় রহমানের অনুভব আলোচ্য গল্পের মূল সত্যটিকে তুলে ধরতে পেরেছে বলেই আমি মনে করি।
Related Question
View Allকাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল তার মেয়ের ছোট্ট হাতের ছাপ।
মিনির প্রতি সন্তান-বাৎসল্যের কারণে কাবুলিওয়ালা বারবার গল্পকথকদের বাড়ি আসার বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত প্রতিবছর কলকাতায় মেওয়া বেচতে আসে। তার বাড়িতেও গল্পকথকের মেয়ে মিনির মতো এক মেয়ে আছে। ফলে মিনির মধ্যেই সে নিজের মেয়ের ছায়া দেখতে পায়। এজন্য স্নেহের টানে রহমত বারবার মিনিকে দেখতে আসে। এসময় সে মিনির জন্য আঙুর, কিশমিশ, বাদাম প্রভৃতি নিয়ে আসে। তার এখানে আসা যে কেবল স্নেহের টানেই সেটি বোঝাতেই রহমত প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
উদ্দীপক-১ অংশে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের গল্পকথকের স্ত্রীর সন্দেহপ্রবণ মানসিকতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মা ভীতু প্রকৃতির মানুষ। তিনি কাবুলিওয়ালাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। এ কারণে তিনি কাবুলিওয়ালার সাথে মিনুর কথা বলাকে সহজভাবে নিতে পারেন না। তাই তিনি মিনুর বাবাকে বারবার কাবুলিওয়ালার দিকে নজর রাখতে বলেন।
উদ্দীপক-১-এ দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের ভাব-বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান যে, অনেক মানুষ বিভিন্ন ফন্দি করে অন্যের বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যায়। সামাদ মিয়াও সে রকম কিছু করে বসতে পারে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথকের স্ত্রীও রহমতের সঙ্গে তার মেয়ে মিনির বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না। তিনিও রহমতকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকেন। গল্পের এ দিকটিই উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপক এবং 'কাবুলিওয়ালা' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপ ফুটে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক দেখিয়েছেন যে, দেশ ভিন্ন হলেও পিতৃহৃদয়ে থাকা স্নেহ-বাৎসল্যের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। দেশ আলাদা হতে পারে, সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে কিন্তু সন্তানের প্রতি সকল পিতার ভালোবাসা একরকম। সন্তানের মঙ্গল-চিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। কাবুলিওয়ালা রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ সত্যই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপক-১ অংশে দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সঙ্গে আবীরের অন্তরঙ্গতা মেনে নিতে পারেন না তার মা। এজন্য তিনি স্বামীর কাছে তার উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু উদ্দীপক-২ অংশে আমরা দেখি, আবীর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেই সন্দেহভাজন সামাদ মিয়াই রক্ত দিতে ছুটে আসে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত মিনিকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসত। দেশে তারও মিনির বয়সি একটি মেয়ে ছিল। তাই বহুদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে ছুটে আসে মিনিকে দেখতে। তার জন্য নিয়ে আসে বাদাম-কিশমিশ।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত ও উদ্দীপকের সামাদ মিয়া দুজনের মাঝেই সন্তানবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমতের মধ্য দিয়ে পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্দীপকের সামাদও তেমনই একজন স্নেহবৎসল পিতা। সামাদ মিয়া যেন 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূলভাবকেই ধারণ করে আছে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
কাবুলিয়ালার ঝুলি সম্পর্কে মিনির অন্ধ বিশ্বাস ছিল যে, বুঝুলির ভিতরে তার মতে দুটো-চারটে জীবিত মানব সন্তান পাওয়া যেতে পারে।
কাবুলিওয়ালা তার পিতৃসুলভ স্নেহভালোবাসা দিয়ে মিনির ক্ষুদ্র হৃদয় জয় করে নিয়েছিল।
মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালার দূর দেশে রেখে আসা নিজ কন্যার কথা মনে পড়ে। তাই সে প্রায় প্রতিদিনই মিনির সাথে দেখা করতে আসে। বসে বসে মিনির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। মিনির জন্য নিয়ে আসে বাদাম আর কিশমিশ। এমন করেই মিনির ক্ষুদ্র হৃদয়ে স্থান করে নেয় সে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

