'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থটি বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের লেখা।
সংস্কৃতি বলতে মানুষের সার্বিক জীবনপ্রণালি ও সৃষ্টিকে বোঝায়।
সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ যা কিছু করে তাই সংস্কৃতি। সংস্কৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে ইংরেজ নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর বলেন, "সংস্কৃতি হচ্ছে সেই জটিল ব্যবস্থা যার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সমাজবাসীর জ্ঞান, বিজ্ঞান, ধর্ম, ধ্যান- ধারণা, বিশ্বাস, শিল্প আইন, নীতিকথা, আচার-ব্যবহার, অভ্যাস, মূল্যবোধ প্রভৃতি; এগুলো সমাজবাসী সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে।" সংজ্ঞাটি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, সংস্কৃতি বলতে কেবল মার্জিত রুচি, ব্যবহার বা অভ্যাসের উৎকর্ষতা বোঝায় না, বরং মানুষ জীবনধারণ করতে গিয়ে যা কিছু করে তার সমষ্টিকে বোঝায়। এ জন্যই সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানবসৃষ্ট সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান দেশ। বলা হয়ে থাকে যে, সামাজিকতা এদেশের গ্রামীণ জীবনের অনন্য বৈশিষ্ট্য। এদিক থেকে বলা যায়, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক গ্রাম। এজন্য বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে মূলত গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বোঝায়। গ্রামীণ সংস্কৃতির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য সব সময়ই পরিলক্ষিত হয়। যেমন- নতুন ধান উঠলে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। এ সময় ঘরে ঘরে হরেক রকমের পিঠা-পায়েস তৈরি হয়। আবার শীতের সময় খেজুরের রসের পায়েস কিংবা নানা ধরনের পিঠা তৈরি গ্রামীণ সংস্কৃতির আরেকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের তাসফিয়া শীতকালীন ছুটিতে নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে নানুর হাতে তৈরি পিঠা খেয়ে নানার সাথে ঘুরতে বের হয়। সাধারণত গ্রামীণ পরিবেশেই শীতকালে এ ধরনের পিঠা তৈরির দৃশ্য লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের গ্রামের মানুষেরা মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার করলেও এর ইতিবাচক ব্যবহার এখনও শেখেনি, যা প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যবধানেরই ফল। আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন প্রদত্ত 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান' তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতি একই গতিতে চলতে পারে না।
অর্থাৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে বস্তুগত সংস্কৃতি যতো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়, অবস্তুগত সংস্কৃতি ততো দ্রুত এগুতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় সাংস্কৃতিক ব্যবধান বা পিঁছিয়ে পড়া। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নানাবিধ আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের ফলে সমাজের অবস্তুগত দিকের (ধর্ম, শিক্ষা, শিল্পকলা, মূল্যবোধ ইত্যাদি) চেয়ে বস্তুগত দিক (বাসস্থান, হাতিয়ার, তৈজসপত্র, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) দ্রুত গতিতে পরিবর্তন হয়। ফলে বস্তুগত অংশের সঙ্গে অবস্তুগত অংশের ব্যবধান সৃষ্টি হয়। পিছিয়ে পড়া অবস্তুগত সংস্কৃতিকে তখন শূন্যতা বা অসামঞ্জ্যতা মোকাবিলায় তৎপর হতে হয়।
উদ্দীপকের গ্রামের লোকজন মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও এর ইতিবাচক ব্যবহার এখন শেখেনি। মোবাইল, ইন্টারনেট ইত্যাদি বস্তুগত সংস্কৃতি হলেও এর পরিচালনার কৌশল অবস্তুগত সংস্কৃতি। গ্রামের মানুষ এ ধরনের উন্নত আবিষ্কারের প্রাথমিক ব্যবহার শিখলেও শুরুতেই ইতিবাচক পরিচালনার কৌশল আয়ত্ত্ব করতে পারে না। ফলে বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির মধ্যে তৈরি হয় সাংস্কৃতিক ব্যবধান। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক অবস্থা সাংস্কৃতিক ব্যবধানের ফল।
Related Question
View Allবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে খননকাজ থেকে পাওয়া হাতিয়ার, তীর- ধনুক, ঘরবাড়ি, স্থাপত্য, তৈজসপত্র ইত্যাদি হলো প্রত্নতত্ত্বের উৎস।
সমাজবিজ্ঞান একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান।
সমাজ সংস্কার বা রূপায়নে মূল্যবোধ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব না হলেও সমাজ গবেষণায় এই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব। আর সমাজবিজ্ঞান এ কাজটি করে যাচ্ছে। সমাজের প্রত্যেকটি বিষয় গবেষণার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান সর্বপ্রকার পক্ষপাতিত্ব থেকে দূরে সরে গবেষণা করে। এখানে বিন্দু মাত্র প্রভাবিত হওয়ার উপায় নাই। এ কারণে সমাজবিজ্ঞানকে একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলে অভিহিত করা হয়।
উদ্দীপকে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম কনিষ্ঠ শাখা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের বিকাশধারা ফুটে উঠেছে।
১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বৃহৎ বঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সে সময় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতি বিভাগের এম. এ. কোর্সের একটি পত্র হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমান বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দর্শন বিভাগে এম. এ. কোর্সের পাঠ্যসূচি হিসেবে 'Ethics and Sociology' নামে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৩৯- ৪০ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের আওতায় 'Elements of Sociology' শিরোনামে সমাজবিজ্ঞান-এর কিছু বিষয় পড়ানো হয়। এরপর ইউনেস্কো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৫৭- ৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে অধ্যাপক অজিত কুমার সেন ও ড. এ. কে. নাজমুল করিমের অবদান অপরিসীম।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে ব্রিটিশদের উদ্যোগে রচিত বিভিন্ন রচনা এবং এ অঞ্চলের বুদ্ধিজীবীদের নানা প্রকাশনার ওপর ভিত্তি করে ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নতুন একটি বিষয়ের অধ্যয়ন শুরু হয়, যা মূলত সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের বিকাশধারাকেই নির্দেশ করে।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব হঠাৎ করেই হয়নি, বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের একান্ত প্রচেষ্টায় শাস্ত্রটি উপমহাদেশে বিকাশ লাভ করেছে।
উদ্দীপকে নির্দেশিত সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের অগ্রগতি মন্থর হওয়াকে সমাজবিজ্ঞানের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে বলে আমি মনে করি।
সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংস্কৃতির দুটি ধরনের (বস্তুগত ও অবস্তুগত) মধ্যে একটি কোনো এক সময়ে অন্যটি থেকে দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার ফলে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া অংশটিকে অগ্রসর অংশটির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। সংস্কৃতির এক অংশের পিছিয়ে পড়া এবং সেই অংশের তা কাটিয়ে ওঠার প্রবণতাই হচ্ছে সাংস্কৃতিক ব্যবধান। আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন তার 'Social Change' গ্রন্থে এ তত্ত্ব প্রদান করতে গিয়ে বলেন, "সংস্কৃতির দুটি দিক আছে। একটি স্বাধীন এবং অন্যটি নির্ভরশীল।" অগবার্নের মতে সংস্কৃতির স্বাধীন দিকটি নির্ভরশীল দিকটিকে পিছনে ফেলে দেয় এবং সেই নির্ভরশীল দিকটিকে তখন সামঞ্জস্য বিধানের জন্য তৎপর হতে হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে দেখান যে, মোটরগাড়ি হচ্ছে স্বাধীন সংস্কৃতি আর রাস্তা হচ্ছে নির্ভরশীল সংস্কৃতি। মোটরগাড়ি বেড়ে যাবার ফলে রাস্তায় যানজট হয় এবং এ অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণে রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ঠিক তেমনি সময়ের পরিক্রমায় সমাজবিজ্ঞানের পরিধি, আলোচনা ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হতে থাকে। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষক, কার্যকর সিলেবাস প্রণয়ন, প্রশাসকদের অনাগ্রহ ইত্যাদি কারণে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছিল। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির অগ্রগতি মন্থর হওয়া সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বের প্রয়োগকে নির্দেশ করে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০২ সালে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। স্যার রিজলের মতে, চাকমাদের দেহে ৮৪.৫% মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদের মুখমণ্ডল গোলাকার, ঠোঁট পাতলা, চুল সোজা, চোখের মণি ও চুলের রং কালো, দেহ প্রায় কেশহীন, দাড়ি-গোঁফ কম। উচ্চতায় তারা মাঝারি ধরনের এবং সুঠাম দেহের অধিকারী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!