ব্যাপক অর্থে পৌরনীতি হলো নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয়।
বল প্রয়োগ মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত চারটি মতবাদের অন্যতম।
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত বল প্রয়োগ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো- বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং শক্তির জোরে রাষ্ট্র টিকে আছে। এ মতবাদে বলা হয়- সমাজের বলশালী ব্যক্তিরা যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বলের ওপর নিজের আধিপত্য স্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং শাসনকার্য পরিচালনা করে। আরও বলা হয় যে, শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
তাহমিদের বাবা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পড়তে বলেছেন।
পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকতার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আলোচনা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের প্রধান আলোচ্য। পৌরনীতিতে নাগরিকতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পৌরনীতি ও নাগরিকতার পরিধির মধ্যে রয়েছে একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের পদ্ধতি, নাগরিকত্ব লাভের উপায়, সুনাগরিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি, নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার ও রাষ্ট্রের প্রতি তার কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়। এ ছাড়া পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন মৌলিক অঙ্গ এবং প্রতিষ্ঠান (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ; আমলাতন্ত্র প্রভৃতি) পৌরনীতি ও নাগরিকতার আওতায় পড়ে।
উদ্দীপকের তাহমিদের বাবা তাকে এমন একটি বিষয় পড়তে বললেন, যা নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট যে, এসব আলোচনা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, তাহমিদের বাবা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পড়তে বলেছেন।
হ্যাঁ, তাহমিদের মতো আমিও মনে করি, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার।
রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ভোগ করি, তেমনি আমাদেরকে রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা, সঠিক সময়ে কর প্রদান করা, সন্তানদের শিক্ষিত করা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সাথে ভোট দান ইত্যাদি। নাগরিকের অধিকার এবং কর্তব্য পৌরনীতি ও নাগরিকতার বিষয়বস্তু। এর পাশাপাশি সুনাগরিকের বৈশিষ্ট্য, সুনাগরিকতা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করার উপায় 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সুতরাং নাগরিকদেরকে অধিকার-কর্তব্য এবং সুনাগরিক হওয়ার উপায় জানতে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয় ও প্রতিষ্ঠান, এদের গঠন এবং কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে। তাই নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা রাখার জন্য পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি নাগরিকদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। এসবের ওপর ভিত্তি করে 'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' বিষয়টি ভবিষ্যৎ জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সুতরাং নাগরিকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্যও পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে জ্ঞানের বিকল্প নেই।
পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিকের সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং আদর্শ নাগরিক জীবনের দিকনির্দেশনা দেয়। এ কারণে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে সব নাগরিকের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
Related Question
View Allফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো (Jean Jacques Rousseau) রাষ্ট্র সৃষ্টির সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা হলো সার্বভৌমত্ব।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি মৌলিক উপাদানের (জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার, সার্বভৌমত্ব) মধ্যে সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সার্বভৌমত্ব শব্দটি ল্যাটিন 'Superanus' শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Sovereignty'। এর অর্থ চরম ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র দেশের ভেতরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আর বাহ্যিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র সকল প্রকার বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।
সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের স্থিতি নির্ভরশীল।
'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি, প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
বল প্রয়োগ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো- বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং শক্তির জোরে রাষ্ট্র টিকে আছে। এ মতবাদে বলা হয়, সমাজের বলশালী ব্যক্তিরা যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বলের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র সৃষ্টি এবং শাসনকাজ পরিচালনা করে। স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম (David Hume), ইংরেজ আইনজীবী এডওয়ার্ড জেংকস (Edward Jenks) প্রমুখ বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সমর্থক। এ সম্পর্কে এডওয়ার্ড জেংকস বলেন- 'ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, আধুনিক সকল রাষ্ট্রব্যবস্থা সার্থক রণকৌশলের ফলশ্রুতি'।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্র 'গ'-কে যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করে নেয়, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কাজেই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
'খ' শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের প্রতিফলন ঘটেছে, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির মতবাদগুলোর মধ্যে অধিক যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য।
ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের মূল বক্তব্য হলো রাষ্ট্র কোনো একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। যেসব উপাদানের কার্যকারিতার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলো হলো- সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা এবং কার্যকলাপ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মতবাদটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক ড. গার্নার (Dr. James Wilford Garner) বলেন, 'রাষ্ট্র বিধাতার সৃষ্টি নয়, বল প্রয়োগের মাধ্যমেও সৃষ্টি হয়নি; বরং ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে'।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'খ' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে। এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং এক সময় সবগুলো রাষ্ট্র মিলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে 'খ' রাষ্ট্রের শক্তিশালী হওয়ার দিকটি ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদকে ইঙ্গিত করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। আর এ মতবাদের মধ্যেই রাষ্ট্রের উৎপত্তির সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
পারিবারিক কাঠামো অনুযায়ী পরিবার দুই প্রকার। যথা- ১. একক ও ২. যৌথ পরিবার।
আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের শিক্ষামূলক কাজ।
পরিবারকে সমাজজীবনের শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়। পরিবারেই একটি শিশু বর্ণমালার সাথে পরিচিত হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পারস্পরিক সহায়তায় সততা, শিষ্টাচার, উদারতা, আত্মসংযম, নিয়মানুবর্তিতা, বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদেরকে ভালোবাসা ইত্যাদি মানবিক গুণ শিক্ষা লাভের প্রথম সুযোগ ঘটে পরিবারে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক নিজেকে সব ধরনের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, রাষ্ট্রের আইন মান্য করা প্রভৃতি করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!