বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার পরিমাপ করে 'বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো'।
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত ও গৃহহীন ছিন্নমূল হতদরিদ্র প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে আবাসন ও কর্মসংস্থান সৃজনের মাধ্যমে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
এ প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ৭১৬ কোটি টাকা ব্যয় বিশিষ্ট আবাসন প্রকল্প গৃহীত হয়। আশ্রয়ণ-২ নামে জুন ২০১০ থেকে ২০১৪ মেয়াদে ১১৬৯ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার বাস্তবায়ন চলছে।
তাহমিনার মতো এসিড দগ্ধ মেয়েদের এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের সহায়তা করার জন্য সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি চালু করেছে।
নারী, শিশু, প্রতিবন্ধীসহ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ সমস্ত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম (বিভিন্ন ভাতা); নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম (বিশেষ); খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রম, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম ইত্যাদি। এগুলো সবই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। এসকল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম (বিশেষ) এর আওতায় এসিড দগ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, প্রতিবন্ধী ভাতা, দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রভৃতি কার্যক্রমও এর অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের তাহমিনা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতাভুক্ত নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম (বিশেষ) হতে সাহায্য গ্রহণ করে তার চিকিৎসার খরচ ও পড়াশোনা উভয়ই চালাতে পারে। তাই বলা যায়, তাহমিনার মতো এসিড দগ্ধ ও অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের সরকার উপরিউক্ত কর্মসূচিটির মাধ্যমে সহায়তা করছে।
তাহমিনার বাবার কর্মরত খাতটি হলো কৃষি খাত। সরকার দারিদ্র নিরসনের লক্ষে উক্ত খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। নিচে কৃষি খাতের উন্নয়নে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহ মূল্যায়ন করা হলো-
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি খাতের উন্নয়নের স্বার্থে সরকার সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারের নির্দেশে কৃষিঋণ কার্যক্রম চালু করেছে। এ ঋণ কৃষকেরা কৃষির আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নতমানের বীজ, সার ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য ব্যবহার করে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে।
সরকার কৃষিতে ভর্তুকি স্বরূপ কীটনাশক, অধিক ফলনশীল বীজ, উন্নতমানের সার ইত্যাদি বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করছে। ফলে পূর্বের তুলনায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া উন্নতবীজ এবং কৃষিযন্ত্রপাতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দ্রুত কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সমস্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, এতে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।
কাজেই বলা যায়, উপরে বর্ণিত সরকারি পদক্ষেপসমূহ কৃষি খাতের
উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
Related Question
View Allকোনো দেশের শ্রমশক্তিকে সে দেশের মানবসম্পদ বলে।
দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একটি অনুন্নত দেশের অনুন্নয়নের জন্য দায়ী কারণগুলো চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে। অনুন্নত দেশে উৎপাদন কম হয় বলে জনগণের মাথাপিছু আয় কম। ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা তথা চাহিদা কমে যায়। এতে বিনিয়োগ প্রবণতা হ্রাস পায়, যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে মূলধন গঠন সম্ভব হয় না। এরূপ মূলধন স্বল্পতার কারণে উৎপাদনও কম হয়। এভাবে এ কারণগুলো পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হতে থাকে, যা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র নামে পরিচিত। এটি একটি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত লেখচিত্রে মাথাপিছু আয়ের ক্রমবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
যেসব দেশ পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নের পথে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং কিছু মাত্রায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করেছে সেসব দেশই সাধারণভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। এসব দেশে উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা ও জাতীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের জন্য আর্থ-সামাজিক ভিত্তি রচনা করা হয়। এসব দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণের দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অব্যাহত প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। ফলে উৎপাদনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রমোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
ফলে উৎপাদনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রমোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখচিত্রে লক্ষ করা যায়, ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৭- ০৮ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় যথাক্রমে ৫৫০ থেকে ৬৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে ২০০৮-০৯ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে যথাক্রমে ৭০০ ডলার ও ৯০০ ডলার হয়েছে। যা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, লেখচিত্রে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখচিত্রটি বাংলাদেশের তথা একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। এ ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য কৃষি সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
উন্নয়নশীল দেশে জিডিপির প্রধান খাত হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তবে এদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নশীল হলেও এখনও কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এখনো এদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, এদেশের প্রধান নিয়ামক শক্তি হলো কৃষি।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশের জিডিপিতে কৃষি খাত (শস্য, বন, প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের যোগান দিয়ে থাকে কৃষি খাত। বর্তমানে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া উৎপাদকগণ কৃষির গুরুত্ব অনুভব করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখাতে অধিক উৎপাদনে মনোনিবেশ করছে। ফলে দেশটিতে ক্রমে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে
তাই, আমি মনে করি, উদ্দীপকে পরিলক্ষিত ক্রমোন্নতির সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলো কৃষি।
একজন কর্মক্ষম শ্রমিক প্রচলিত মজুরিতে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চেয়েও কাজ না পাওয়ার পরিস্থিতিকে বেকারত্ব বলে।
অতি দরিদ্র, ভূমিহীন ও বেকার মানুষদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু করেছে।
১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলায় মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হয়। তখন সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে। এ কর্মসূচির তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ শ্রমিকদের মজুরি নগদ অর্থে না দিয়ে খাদ্যশস্যের মাধ্যমে পরিশোধ করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!