উত্তরঃ
হ্যাঁ, হাশেমকে প্রতিবাদী চরিত্র বলা যায়।
'বহিপীর' নাটকের অন্যতম প্রধান চরিত্র জমিদারপুত্র হাশেম আলি। প্রচলিত জমিদারি ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা লাম্পট্য শ্রেণির যুবক সে নয়। হাশেম আলি উচ্চশিক্ষিত বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। জমিদারপুত্র হয়েও পিতার জমিদারির প্রতি তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বরং ব্যাবসা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় সে। তাই বাবার কাছে ছাপাখানার ব্যাবসা দেওয়ার স্বপ্ন ব্যক্ত করেছে।
হাশেম আলি একটি ইতিবাচক চরিত্র। মানবীয় মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধের গুরুত্ব তার কাছে সর্বাধিক। এক অর্থে হাশেম আলিকে নায়ক বলা যেতে পারে। জমিদারপুত্র হলেও বৈষয়িক বিবেচনা তার কাছে কম। পিতার জমিদারি চলে গেলে এবং ছাপাখানা বসাতে না পারলেও সে চিন্তিত নয়। সে ভাবে, যখন লেখাপড়া করেছে তখন একটা কিছু হবেই। সে অত্যন্ত যুক্তিবাদী, আধুনিক ও মানবিক অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ।
অসম বিয়ে না মেনে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা তাহেরার সমস্যা হাশেম আলিই প্রথম উপলব্ধি করে। হাশেম তাহেরার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে। মেয়েটি আত্মহনন করতে পানিতে ঝাঁপ দিতে চাইলে হাশেম তাকে রক্ষা করে। পুরো বজরার মানুষ তাহেরার বিপক্ষে চলে গেলেও একমাত্র হাশেমই ছিল তার পক্ষে এবং শেষ পর্যন্ত সে তার পক্ষ ত্যাগ করেনি। নাটকে' তাকে অস্থিরচিত্ত বলে বর্ণনা করা হলেও সে তার অবস্থানে ছিল স্থির। এক্ষেত্রে মাতার সাবধান বাণী, বহিপীরের ভীতি প্রদর্শন, পিতার করুণ অবস্থা- কোনোকিছুই তাকে পিছু হটাতে পারেনি। সে তাহেরাকে বাঁচাতে চেয়েছে, এমনকি বিয়ে করে হলেও। জমিদারপুত্র হিসেবে তাহেরা তার কাছে একটি অপরিচিত মেয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সব বৈষয়িক ভাবনা ত্যাগ করে মেয়েটিকে বাঁচাতে সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। সবকিছু ছিন্ন করে অচেনা অপরিচিত একটি মেয়েকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে অজানার উদ্দেশ্যে।
হাশেম আলির শিক্ষা কেবল বাহ্যিক নয়, তার মনুষ্যত্ব গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সে সব ধরনের সংকীর্ণতামুক্ত আধুনিক যুবক। প্রেসের ব্যাবসার সম্ভাবনা বিনষ্ট হলেও সে চিন্তিত নয়। সে মায়ের সাবধান বাণী, বহিপীরের ভীতি প্রদর্শন কিংবা বাবার করুণ অবস্থার চিন্তায় মনুষ্যত্বহীন কাজ করতে প্রস্তুত নয়। সমাজের প্রচলিত অসম বিয়ের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদী। আর এই অসম বিয়ের শিকার বালিকা তাহেরাকে নিয়ে পালিয়ে তার প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বলা যায় যে, হাশেমকে অবশ্যই প্রতিবাদী যুবক বলা যায়।