মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে কোনো সত্য ঘটনাকে আড়াল করে মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাকে মিডিয়া ক্যু বলা হয়।
কোনো বিষয়ে জনমত নির্ণয়ের জন্য এবং সারাদেশের নির্বাচক মণ্ডলীর প্রত্যক্ষ অভিমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্য আয়োজিত ভোট দান পদ্ধতি হলো গণভোট।
গণভোেট সাধারণত কোনো বিষয়ে জনসাধারণের মতামত যাচাইয়ের জন্য পরিচালিত হয়। এতে শুধুমাত্র 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দেওয়া যায়। এজন্য এটি হ্যাঁ/না ভোট নামেও পরিচিত। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই সামরিক শাসকরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর তা একপ্রকার বৈধতা দানের উদ্দেশ্যে গণভোেট আয়োজন করে থাকে।
উদ্দীপকের বেন আলীর সাথে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক হুসেইন | মুহম্মদ এরশাদের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।
লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা দখল করেন। এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় জনগণ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ছাড়াও ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট এর কারণ। তিনি প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। একসময় বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন দমনে জেনারেল এরশাদ দমন-নিপীড়ন, নির্যাতন এমনকি শেষদিকে হত্যার পথ বেছে নেন। তার শাসনামলে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের ট্রাক তুলে দেওয়া, মিছিল- সমাবেশে সরাসরি গুলি করার ঘটনাও কম হয়নি। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে চিকিৎসক নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলন পুলিশের গুলিতে নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তিউনিসিয়ার স্বৈরশাসক বেন আলী তিন দশক ধরে নিজ দেশের জনগণের ওপর নির্যাতন, দুর্নীতি ও বৈষম্য চালিয়ে আসছিলেন। অধিকারবঞ্চিত তরুণ বোজাজি আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা করেন। এ আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বেন আলীর ৩২ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। এ ঘটনাটি বাংলাদেশের স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বেন আলীর কর্মকান্ডে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
মোহাম্মদ বোজাজির মতো তরুণরাই বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র পতনের অগ্রনায়ক"- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ, আন্দোলন, সংগ্রাম মোকাবিলা করেছেন স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ। তার শাসনামলে দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট ও বৈষম্য সৃষ্টি হয়। এসময় জনগণ অধিকার আদায় ও গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
জেনারেল এরশাদ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে ব্যাপক দমন-পীড়ন, নির্যাতনের পথ বেছে নেন। ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। তরুণ ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। এসময় অনেকেই নিহত হন। হরতাল, অবরোধে প্রশাসনে এক প্রকার স্থবিরতা দেখা দেয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে পিঠে "গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক" লেখাসহ নূর হোসেন নামক এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে তরুণ ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন পুলিশের গুলিতে নিহত হলে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এভাবে তরুণদের আত্মত্যাগের ফলে এদেশে স্বৈরশাসনের অবসান হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাগরিক অধিকারবঞ্চিত তরুণ বোজাজি আত্মহত্যা করলে তিউনিশিয়ার স্বৈরশাসক বেন আলীর বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে স্বৈরশাসক বেন আলীর পতন ঘটে। উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বোজাজির মতো তরুণরাই এদেশে স্বৈরতন্ত্র পতনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
Related Question
View Allউপজেলা ব্যবস্থা জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় প্রবর্তিত হয়।
ইনডেমনিটির আভিধানিক অর্থ হলো কাউকে নিরাপদ করা বা নিরাপত্তা বিধান করা। মূলত যারা জাতির পিতা ও তার পরিবারবর্গ, জাতীয় চার নেতাকে অবৈধভাবে অস্ত্রের জোরে হত্যা করেছিল বাংলাদেশের কোনো আদালতে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না- এই মর্মে ইনডেমনিটি বা নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছিল।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা পরবর্তী নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল। তার শাসনামলের দীর্ঘ নয় বছরের প্রায় পুরো - সময়টাই জনগণ আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কৃষক সংগঠনসহ এরশাদবিরোধী চেতনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। হরতাল-অবরোধে প্রশাসনে এক প্রকার স্থবিরতা দেখা দেয়। অবশেষে জেনারেল এরশাদ তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে পদত্যাগ করেন।
উদ্দীপকের চলচ্চিত্রে দেখা যায়, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ, কৃষক, শ্রমিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ বিষয়গুলোতে ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়।
সামরিক শাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' লেখাসহ ঢাকার জিপিও-এর নিকট জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে নির্বিচারে জনতার উপর গুলি চালায়, অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে যান। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জনগণ ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর বিরোধী জোট ও দলগুলো সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে যা রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তোলে। এদিন মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হয় এবং তিন শতাধিক আহত হয়। আর ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে পুলিশের গুলিতে ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। রাজপথ চলে যায় জনতার দখলে এবং ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের শহরে। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বস্তুত নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেছেন।
শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার শতভাগ ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১। বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭০ ভাগে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২' প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে 'শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!