জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখার উন্নয়ন ঘটিয়ে আব্বাসি খলিফা আল মামুন আরবদেশে প্রগতির সূচনা করেছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রোমান সম্রাট অগাস্টাস জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ, প্রতিষ্ঠা করেছে, যা জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। অগাস্টাসের এ ভূমিকার ন্যায় খলিফা আল মামুনও জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। আর এ ভূমিকা তৎকালীন আরব বিশ্বে জাগরণ সৃষ্টি করেছিল।
খলিফা আল মামুন বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করে সবার জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। এখানে দেশি-বিদেশি গ্রন্থের অনুবাদ, গবেষণা করা হতো যা জ্ঞান চর্চায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে উৎসাহী ছিলেন। তাই জ্যোতিষশাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধনের জন্য তিনি বাগদাদের সন্নিকটে শামাসিয়া নামক স্থানে জোতির্বিজ্ঞান গবেষণার জন্য একটি মানমন্দির নির্মাণ করেন। মামুনের অধীনে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তার আদেশে মুসলিম মনীষীগণ বিষুবরেখা, পৃথিবীর আকৃতি, সূর্যঘড়ি পৃথিবীর ব্যাস, চন্দ্র-সূর্যের দ্বারা সম্পর্কিত মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করেন। তার সময়ে পদার্থবিদ আবুল হাসান দূরবীণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। খলিফা মামুনের শাসনামলে আব্বাসি গণিত শাস্ত্রের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। তিনি নিজে একজন গণিতজ্ঞ ছিলেন। তার সময়কার বিখ্যাত গণিতজ্ঞ ছিলেন 'হিসাবুল-জবর ওয়াল মুকাবালাহ' রচয়িতা আল খাওয়ারিজমি'। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত এ গ্রন্থটি ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। খলিফা মামুদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিখ্যাত রসায়নবিদ জাবির ইবনে হাইয়ান ভস্মীকরণ ও লঘুকরণ সূত্র দুটি আবিষ্কার করেন। এছাড়া খলিফা মামুন দর্শনশাস্ত্রের উন্নতিতে অবদান রেখেছেন। দার্শনিক আল কিন্দি খলিফা মামুনের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তিনি 'এরিস্টটল ধর্মতত্ত্ব' আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং মুসলিম দর্শনের সাথে প্লেটো ও এরিস্টটলের মতবাদের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, আব্বাসি খলিফা আল মামুন গণিত, জ্যোতিষশাস্ত্র, রসায়ন, ইতিহাস ও দর্শন চর্চায় অসামান্য অবদান রাখেন। এ কারণে তার রাজত্বকালকে অগাস্টান যুগ বলে অভিহিত করা হয়।
Related Question
View Allআল-মনসুর শব্দের অর্থ 'বিজয়ী'।
প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার জন্য খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। বাগদাদ দজলা (টাইগ্রিস) নদীর পশ্চিম তীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এটা ছিল সুস্বাস্থ্যকর, সাম্রাজ্যের মধ্যস্থলে এবং অধিকতর নিরাপদ স্থান। নদীর তীরে অবস্থানের ফলে এ নগরীর সাথে নৌপথে সিরিয়া, মেসোপটেমিয়া, আর্মেনিয়া ও সাম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ সহজতর ছিল। এছাড়া এখান থেকে বহির্বিশ্বের এমনকি সুদূর চীনের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন সম্ভবপর হয়েছিল। তাছাড়া এতে আন্তঃবাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে প্রভৃত সাফল্যেরও সম্ভাবনা ছিল। এসব কারণে খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
উদ্দীপকের প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ আব্বাসি খলিফা আল-মনসুরের হযরত আলী (রা)-এর বংশধরদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অনুরূপ।
হযরত আলী ও ফাতিমার বংশধরগণ আব্বাসি বংশের উত্থানের সময় যথাসাধ্য সাহায্য করলেও খলিফা মনসুর তাদেরকে সুনজরে দেখেননি। আলীর বংশধরদের ওপর জনসাধারণের অসীম ভক্তি ও শ্রদ্ধার জন্য খলিফা মনসুর বিচলিত হয়ে ওঠেন এবং তাদের ধ্বংস সাধনে তৎপর হন। খলিফা মনসুরের এই হিংস্র কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের মধ্যেও লক্ষণীয়।
সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহ প্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। খলিফা মনসুরের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। উমাইয়াদের পতনের পর ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মদ সিংহাসনে আরোহণের ন্যায়সংগত অধিকারী ছিলেন। এ কারণে আলী ও ফাতেমীয় বংশের লোকদের ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে মনসুর তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালান। ফলে মুহাম্মদ ও তার ভাই ইব্রাহীম মদিনা ও বসরায় বিদ্রোহ ঘোষণা জ্বরেন। কিন্তু খলিফা মনসুরের ভ্রাতুষ্পুত্র তাদেরকে পরাজিত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। খলিফা মনসুর মদিনায় বসবাসরত ইমাম হাসান (রা) ও হুসেন (রা)-এর পরিবারবর্গের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এমনকি সুফিসাধক ইমাম জাফর সাদিক, ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। সুতরাং দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি সাদ্দাম হোসেনের আচরণ খলিফা মনসুরের আলী বংশীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহারকেই মনে করিয়ে দেয়।
খলিফা আল-মনসুর নানা দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্রাজ্যকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক বিচক্ষণতার পরিচায়ক।
খলিফা আল-মনসুর ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে আব্বাসি আন্দোলনের মূল নেতা আব্দুল্লাহ আৰু মুসলিমকে হত্যা করেন। তিনি সমস্ত বিদ্রোষ ও বিরোধীদের কঠোরভাবে দমন করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। তিনি তাবারিস্তান, গিলান, এশিয়া মাইনর ও আফ্রিকায় আব্বাসি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থাৎ তিনি সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিও করার পাশাপাশি সাম্রাজ্যের যথেস্ট বিস্তৃতি সাধন করেন। কিন্তু সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে সাম্রাজ্য বিস্তৃতির দিকটি অনুপস্থিত রয়েছে।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম যোসেন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। তিনি অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইরাকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তার এ দিকগুলো খলিফা আল-মনসুরের গৃহীত পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। তবে খলিফা মনসুর এক্ষেত্রে আরও বাস্তবধর্মী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। আব্বাসি শাসক আল-মনসুর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিরোধিতার মূলোৎপাটন করে তার বংশকে শত্রুমুক্ত করেন। প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ৭৬২ খ্রিস্টাব্দে সামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তিনি দজলা নদীর পশ্চিম তীরে ৪৮ লক্ষ ৮৩ হাজার দিরহাম ব্যয় করে সুন্দর ও সুপরিকল্পিত বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া সামরিক শক্তিই যে সম্রাজ্যের মূলভিত্তি- এ সত্যকে অনুধাবন করে আল-মনসুর একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পক্তিশালী নিয়মিত সেনাবাষিনী গঠন করেন। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে তিনি উদার ছিলেন। তার রাজত্বকালে গণিতশাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধিত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের উন্নয়নে তিনি নানাবিধ-পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বহু নগর, সরাইখানা, রাজপথ ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। এভাবে আল মনসুর খিলাফতে একটি নতুন সভ্যতার সূচনা করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা আল মনসুর তার সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা ও দমন করার মাধ্যমে নিজ বংশকে নিষ্কন্টক করে আব্বাসীয় শাসনতে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ পদক্ষেপে উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্যোগের থেকে অধিক দূরদর্শিতা ছিল।
বুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা মামুনের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হাসান বিন সাহলের কন্যা।
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ হলো তার চারিত্রিক দুর্বলতা ও কুশাসন।
আমিনের ব্যক্তিগত চরিত্রই মূলত তার পতনের জন্য দায়ী। তিনি রাজকার্য উপেক্ষা করে হেরেমের আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকতেন। ফলে তার নিষ্ঠুর ও উম্মত উজির ফজল-বিন-রাবি রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। তার উচ্ছৃঙ্খল শাসনে আমিন প্রজাসাধারণের সহানুভূতি থেকে দণ্যিত হন। অপরপক্ষে আমিনের সুযোগ্য ভাই মামুদের শাসনে প্রজাগণ পরম সুখ ও শান্তিতে বসবাস করছিল। অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন মামুনের নিকট অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয় আমিন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!