যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে বলা হয় আরোেহ অনুমান।
কার্যকারণ নিয়ম অনুসারে বলা হয়, প্রত্যেক কার্য বা ঘটনারই কারণ আছে। বিনাকারণে কোনো ঘটনা ঘটেনা। নিছক শূন্য থেকে কোনো ঘটনার সূত্রপাত হয় না। কার্যকারণ নীতির উপর ভিত্তি করে বিশেষ বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষণ থেকে আরোহমূলক লম্ফ দিয়ে মানুষ ও মরণশীলতার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে বলা হয় 'সব মানুষ হয় মরণশীল'। তাই বলা যায়, আরোহে কার্যকারণ নীতি দরকার।
উদ্দীপকে লিজা ও হেমা ঢাকা থিয়েটারে অভিনয় শেখে। একদিন লিজা বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটক করার আমন্ত্রণ পায়। তখন হেমার মন খারাপ হলে লিজা হেমাকে বলে, "আমরা দুজন ঢাকা থিয়েটারে অভিনয় শিখছি। আমি টেলিভিশনে সুযোগ পেয়েছি, সুতরাং তুইও টেলিভিশনে সুযোগ পাবি।"
এখানে লিজার বক্তব্যে সাদৃশ্যানুমানের প্রতিফলন ঘটেছে। পৃথক দুটি বস্তুর মধ্যে গুণগত সাদৃশ্য পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে নতুন কোনো গুণের উপস্থিতির অনুমানকে সাদৃশ্যানুমান বলা হয়। যুক্তিবিদ্যায় সাদৃশ্যমূলক অনুমান বলতে গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যকে বোঝানো হয়েছে। যেমন: পৃথিবীর মতো মঙ্গল গ্রহেও মাটি, পানি ও বায়ু আছে।
পৃথিবীতে মানুষ বাস করে।
∴ মঙ্গল গ্রহেও মানুষ বাস করে।
একইভাবে উদ্দীপকের লিজার কথা-
আমরা দুজন ঢাকা থিয়েটারে অভিনয় শিখছি।
আমি টেলিভিশনে সুযোগ পেয়েছি।
∴ তুইও টেলিভিশনে সুযোগ পাবি।
উদ্দীপকে জেসমিনের বক্তব্য যুক্তিদোষে দুষ্ট। এটি আরোহ অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল নয়। জেসমিন লিজা ও হেমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, "আমি এ যাবৎ দেখেছি যারাই ঢাকা থিয়েটারে অভিনয় শেখে, তারাই টেলিভিশনে নাটক করার সুযোগ পায়।"
এখানে অসাধু সাদৃশ্যমূলক অনুমানজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। দুটি বস্তুর মধ্যে গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হলে অসাধু সাদৃশ্যমূলক অনুপপত্তি ঘটে। জেসমিনের যুক্তিটি অবৈধ। কারণ এ যুক্তিটি অসাধু সাদৃশ্যমূলক অনুমানের একটি দৃষ্টান্ত। উক্ত যুক্তিটিতে দুটি বস্তুর মধ্যে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করা হয়নি। ভিত্তি করা হয়েছে বাহ্যিক সাদৃশ্যের উপর। ফলে এখানে অসাধু সাদৃশ্যমূলক অনুপপত্তি ঘটেছে। এখানে ঢাকা থিয়েটারে অভিনয় শেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ এটি একটি গৌণ বিষয়। মৌলিক বিষয় হচ্ছে পারদর্শিতা। ঢাকা থিয়েটারে অভিনয় শেখা সবাই কি এ ব্যাপারে পারদর্শী হয়? এমন প্রশ্নের জবাবে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। কেননা, সবাই সমান পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে না। পারদর্শিতা কেবল প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে না। প্রশিক্ষণার্থীর মেধা, একাগ্রতা, সময়দান ইত্যাদিও বিবেচনায় আনতে হয়। এখানে এগুলো বিবেচনায় আনা হয়নি। তাই যুক্তিটি যথার্থ নয়।
Related Question
View Allদুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে যদি অনুমান করা হয়, তাদের একটি বিশেষ গুণের অধিকারী বলে অপরটিও ওই গুণের অধিকারী হবে, তাহলে যে অনুমান করা হয় তার নাম সাদৃশ্যানুমান।
প্রকৃত আরোহে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মাঝে এমন কিছু ফাঁক বা ব্যবধান থাকে, যা অন্ধের মতো ঝুঁকি নিয়ে অতিক্রম করাই হলো প্রকৃত আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রকৃত আরোহে এরূপ ব্যবধানে অতিক্রমের প্রক্রিয়াকেই আরোহাত্মক লম্ফ বলে। উদাহরণস্বরূপ, রহিম, করিম, যদু, মধু, জন, ডন প্রমুখ মানুষের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এক বিরাট ব্যবধান অতিক্রম করে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের সব মানুষের মরণশীলতা সম্পর্কে যে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা আরোহমূলক লম্ফের উপর নির্ভর করেই সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে স্বাগত আরোহ যুক্তিবিদ্যা বইয়ে যে আরোহ সম্পর্কে জেনেছে, তা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক আরোহ। কারণ আরোহের যত প্রকারভেদ রয়েছে, তাদের মধ্যে একমাত্র বৈজ্ঞানিক আরোহে আরোহের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। তাই একে প্রকৃত আরোহ বলা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-
◇পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি;
◇ আরোহমূলক লম্ফ;
◇সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য;
◇বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা;
◇প্রকৃতি নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্ক;
◇ আকারগত ও বস্তুগত সত্যতা; ◇ সর্বদা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত;
◇ বিশেষ বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষণ।
এসব বৈশিষ্ট্য থেকে বলা যায়, এখানে একটি আরোহের যতগুলো বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে প্রকৃত আরোহ বলা যায়, তার সব বৈশিষ্ট্যই বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এমনকি একমাত্র সঠিকভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত কেবল বৈজ্ঞানিক আরোহই দিতে পারে। তাই এটি একটি প্রকৃত আরোহ।
উদ্দীপকে স্বাগতের বন্ধু যে জ্যামিতিক চিত্র দেখেছে, তা আরোহ যুক্তিবিদ্যার যুক্তিসাম্যমূলক আরোহের বিষয়বস্তু। কারণ একমাত্র যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে জ্যামিতিক চিত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই একে জ্যামিতিক আরোহ বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
এ প্রকার অনুমানে একটি মাত্র দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত টানা হলেও এর সিদ্ধান্ত সচরাচর নিশ্চিত। যে যুক্তি দিয়ে একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত কোনো একটি বিশেষ ঘটনাকে প্রমাণ করা যায়, সেই একই যুক্তি দিয়ে তার অন্তর্গত সমশ্রেণিভুক্ত অন্যান্য বিশেষ ঘটনাকে প্রমাণ করা যায়- এই নীতির উপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে। যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ জ্যামিতির ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। এখানে জ্যামিতির সূত্র ব্যবহার করে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ যুক্তি গঠন করে তা নিচে জ্যামিতিক চিত্রে তুলে ধরা হলো-
কোনো জ্যামিতিক প্রমাণে আমরা প্রথমে কোনো প্রদত্ত চিত্রের বৈশিষ্ট্য বা গুণকে প্রমাণ করি এবং তারপর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, প্রদত্ত চিত্রটিতে প্রমাণিত বৈশিষ্ট্য সেই একই শ্রেণির চিত্রের ক্ষেত্রেও সত্য হবে। যেমন: আমরা জানি, ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি দুই সমকোণের সমান; অর্থাৎ ১৮০০। এটি একটি জ্যামিতিক সূত্র। ত্রিভুজের তিনটি কোণ ABC নামক ত্রিভুজ অঙ্কন করে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করি, ত্রিভুজের তিনটি কোণ মিলে ১৮০° হয়। অনুরূপ যুক্তি দিয়ে আমরা সার্বিককরণ করে বলতে পারি যে X, Y, Z কিংবা A, B, C। অর্থাৎ সব ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণের সমান।
কার্যকারণ নিয়মের অর্থ হলো, প্রত্যেক কার্য বা ঘটনার একটি কারণ আছে। কোনো ঘটনার আগে যা ঘটে তাকে কারণ বলে। আর সেই ঘটনার পরে যা ঘটে তাকে কার্য বা ফল বলে। কারণ ছাড়া কার্য বা ফল হয় না, বিনাকারণে কোনো ঘটনা ঘটে না, নিছক শূন্য (০) থেকে কোনো কিছুর সৃষ্টি হয় না। শূন্য থেকে শুধু শূন্য পাওয়া যায়। পৃথিবীতে এমন কোনো ঘটনা নেই, যার কোনো কারণ নেই; প্রতিটি ঘটনাই কার্যকারণে আবদ্ধ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!