প্রাণের সবুজ হলো আমাদের স্বাধীনতা।
'মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ' বলতে কবি ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের সংগ্রামী চেতনার বিরুদ্ধ অকল্যাণ চেতনা ও অশুভ শক্তির উত্থানকে বুঝিয়েছেন।
১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে এ দেশে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটে। এই অশুভ শক্তি আমাদের সব ইতিবাচক ভাবনা-সৌন্দর্য ধ্বংস করতে চায়। ৭ই মার্চ বাঙালির হৃদয়ে সংগ্রামী চেতনা ও শুভ ভাবনার প্রদীপ জ্বালিয়েছিল। কবি দেখেন যে সেই শুভ শক্তির বিরুদ্ধে অশুভ শক্তির বিকট উল্লাস শুরু হয়েছে। আলোচ্য অংশে কবি এ বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপকটি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার জনসাধারণের জেগে ওঠার দৃশ্যকে ধারণ করেছে।
বাংলার মানুষ যুগ যুগ ধরে শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা শোষিত হতে থাকে। শাসকরা অন্যায়ভাবে এদেশের মানুষের ওপর নির্যাতন করে। কিন্তু বাঙালিরাও থেমে থাকেনি। তারা সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে- অন্ধকার রাত, কবি সান্ত্রীদের সাবধান করেছেন। কারণ যুগ-যুগান্তরের সঞ্চিত ব্যথা ফেনায়িত হয়ে উঠেছে। বঞ্চিত মানুষ অধিকারের জন্য আজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা আজ অভিযানে নেমেছে। আলোচ্য কবিতায়ও আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ রেসকোর্স ময়দানে একত্র হয়। আপামর জনতা জেগে ওঠে মুক্তির স্বপ্নে। কৃষক, শ্রমিক, কেরানি, নারী, শিশু, বৃদ্ধ সবাই ফুঁসে ওঠে দারুণ ক্রোধে। প্রাণের নেতার নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে তারা। তাদের এই ব্যাকুলতার দৃশ্যই উদ্দীপকটি ধারণ করে।
"উদ্দীপকটি 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার ভাবের খন্ডাংশমাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে বাঙালি জাতি বিদেশি-বিভাষীদের দ্বারা শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়। পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হয়। বাঙালিকে অধিকারসচেতন করে সংগ্রামী চেতনায় প্রদীপ্ত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্ব এবং ৭ই মার্চে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ।
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের দিকটিকে স্মরণ করেছেন। তিনি এ কবিতার মাধ্যমে সেদিনের রেসকোর্স ময়দান, মুক্তিপাগল সংগ্রামী জনতার উপস্থিতি, তাদের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের প্রাণপ্রিয় নেতার ওপর আস্থা, নির্ভরতা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেছেন। কবিতায় কবি সেদিনের সেই ৭ই মার্চের ভাষণের মঞ্চের স্থানে বর্তমানে শিশুপার্ক মার্চের বিরুদ্ধে নেতিবাচক চেতনার কী ধরনের কর্মকাণ্ড, সেদিনের সেই ইতিহাসের চিহ্ন মুছে ফেলার নানা উদ্যোগের বিষয়ও তুলে ধরেছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল মানুষের প্রতিবাদী হয়ে একসঙ্গে জেগে ওঠার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় কবি বাঙালির প্রিয় নেতাকে 'কবি' এবং তাঁর ভাষণকে 'অমর কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং আমরা 'স্বাধীনতা' এ শব্দটি কীভাবে পেয়েছি তার শেকড় সন্ধান করেছেন। এ ধরনের কোনো বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এখানে শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের জেগে ওঠা এবং অধিকার সচেতনতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!