হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের বক্তার মতানুসারে বাংলাদেশ অচিরেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে এবং পাশাপাশি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। নিচে উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে যুক্তি দেওয়া হলো-
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে খাদ্যোৎপাদন পরিস্থিতি দেখে প্রতীয়মান হয়, এদেশে বর্তমানে না হলেও ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, গত এক দশকে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য বিশেষ করে চালের উৎপাদন লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। যেমন- ২০০১-০২ অর্থবছরে যেখানে চালের উৎপাদন ছিল ২৪৩.০০ লাখ মেট্রিক টন সেখানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৪.৩০ লাখ মেট্রিক টন। ২০০১-০২ অর্থবছরে দেশে আলু, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ২৯.৯৪, ১.৮৯, ০.৭৮, ১.৭৮ মিলিয়ন মে. টন এবং ৪৪২৪ মিলিয়ন, ২০১১-১২ অর্থবছরে এগুলোর উৎপাদন যথাক্রমে ৮২.০৫, ৩.২৬, ২.৩৩, ৩.৪৬ মিলিয়ন মে. টন এবং ৭৩০৩ মিলিয়ন। সুতরাং এ সময়ে চাল, আলু, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, ২০০০-০১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ছিল ৩৭৮ মার্কিন ডলার, তা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় হয়েছে ১৬০২ মার্কিন ডলার। ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ যেমন অধিক খাদ্য ক্রয় করতে পারে তেমনি উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানিতে সহায়তা করবে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, খাদ্যের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকলে এবং সরকারি বিভিন্ন খাদ্য কর্মসূচি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে পারবে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!