উদ্দীপকে ডেভিডের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাকে ইংরেজি অক্ষরে ইংরেজি ভাষায় শুভেচ্ছা জানানো হবে। তার এই চিন্তা-চেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায় বলে আমি মনে করি।
১৯৫২ সালের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তার মায়ের ভাষা- বাংলাকে রক্ষা করে। আর এই ভাষা আমাদের কাছে অমৃত সুধার মতো। ফলে আমরা এই ভাষায় কথা বলি। আমরা আমাদের জীবনের চলার ক্ষেত্রে এই ভাষা ব্যবহার করি। আমাদের সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে আমরা এ ভাষা ব্যবহার করে থাকি। এ ভাষার মাধ্যমে আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। ফলে আমাদের এ ভাষা চর্চা করা অত্যন্ত জরুরি।
যদি আমরা এ ভাষা চর্চা না করে বিদেশি ভাষা চর্চা করি এতে নিজস্ব সাংস্কৃতিকে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিদেশি ভাষা চর্চা করলে বাংলা ভাষা বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে বাংলা ভাষার সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিক মূল্যকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়। ফলে বাঙালির চেতনাবোধ নষ্ট হয়ে যায়।
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত, ডেভিডের বিদেশি ভাষা চর্চা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়।
Related Question
View Allআওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থীরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম লীগের এক অংশ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংস্কারপন্থি ছিল তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অপর অংশ নানাভাবে দমন-নিপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারবাদীরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি দাবি নিয়ে গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
উদ্দীপকে সবুজনগর অঞ্চলে ছোট দলগুলো স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলামী মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তারা জনগণের অশা- আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের শিক্ষারই প্রতিফলন।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে "ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না" এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্ত সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
মুসলিম লীগ ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হয়েও ১৯৫৪ 'সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। তাই বলা যায়, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না, এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের দ্বারা প্রমাণিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!