না, স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটি তথা ভারতই একমাত্র ভূমিকা পালন করেছে বলে আমি মনে করি না।
স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়। যেমন- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ অন্যান্য দেশ। এসব দেশের মধ্যে ভারত সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে উল্লিখিত ভারত ব্যতীত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকাও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এপ্রিলের শুরুতেই সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগর্নি বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চিঠি দেন। এছাড়াও ৩রা ডিসেম্বর চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধ বিরতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও কানাডাও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবস্থান আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করলেও অন্যান্য দেশের অবস্থানও আমাদের বিজয় অর্জনে সহযোগী ছিল।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!